Ajker Patrika

গাইবান্ধা: ২ সপ্তাহ আগে ধান কেনা বন্ধ, কৃষকের ক্ষোভ

  • প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে কৃষক কার্ডের তালিকা ধরে আবেদন।
  • কৃষকের গোলায় উদ্বৃত্ত ধান–কিনছে না জেলা খাদ্য বিভাগ।
আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭: ৫০
গাইবান্ধা: ২ সপ্তাহ আগে ধান কেনা বন্ধ, কৃষকের ক্ষোভ
গাইবান্ধা সরকারি গুদাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের শেষ সময় ৩১ আগস্ট। এখনো দুই সপ্তাহ সময় বাকি আছে। তারপরও জেলায় ধান সংগ্রহ অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে খাদ্য বিভাগ। ফলে পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে ক্ষোভ জানান কৃষকেরা।

কৃষকের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের তালিকা না করেই, অফিস থেকে কৃষক কার্ডের তালিকা ধরে মহাজনেরা আবেদন করছেন। শুধু সেই আবেদন থেকে নামগুলোই লটারির মাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, অনেকের কৃষক কার্ড থাকলেও মূলত তাঁদের ধানের আবাদের জমি নেই। তাঁদের কাছ থেকে মহাজনেরা ২-৪ হাজার টাকা দিয়ে স্লিপ কিনে সরকারি গুদামে ধান দিয়েছেন। এর ফলে প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হয়েছেন।

জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, কৃষকের গোলায় এখনো উদ্বৃত্ত ধান আছে। কিন্তু খাদ্য বিভাগ ধান কিনছে না। সরকার প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ মোটা ধান ৮৫০ টাকা ও চিকন ৯৫০ টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। ধান ক্রয় বন্ধ করায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৯ হাজার ৫৬৩ টন। গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা শুরু হয়। চলার কথা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু গাইবান্ধা খাদ্য বিভাগ ৯ আগস্ট থেকে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয়।

সূত্রটি আরও জানায়, জেলায় ১১টি খাদ্যগুদামে ধান ও চালের ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার টন। বর্তমানে মজুত আছে ৩৯ হাজার টন। খাদ্য বিভাগের হিসাবেই গুদামে জায়গা ফাঁকা রয়েছে।

এ ছাড়া কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো ধানের চাষ হয় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর। বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮ টন। উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৭৩ টন। উদ্বৃত্ত থাকে শুধু বোরো ধান ৯৭ হাজার ৯২৩ টন।

গোবিন্দগঞ্জের পুরনদগ গ্রামের কৃষক হাফেজ আলী বলেন, ‘এ বছর আমার জমিতে ১২০ মণ বোরো ধান উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ৩০ মণ খাওয়ার জন্য রাখা হয়েছে। বাকি ৯০ মণ ধান বিক্রি করে সংসারের ধারদেনা মেটাব। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধান ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। এই দামে ধান বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।’

সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের কৃষক হায়দার আলী বলেন, ‘হামার ঘরে সংসারের কারও চাকরি নাই, ব্যবসাও নাই। ধান চাল বেচি দায়দেনা মিটান নাগে। কিনত বাজারোত ধানের দাম কম। কম দামে ধান বেচলে লোকসান হবে। তাই ধান গোলায় জমা আকছি। পাইকাররা দাম কম কয়, সরকারি গুদামোত ধান নিচ্ছে না। এখন কি করমো চিনতাত আচি।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু আজকের পত্রিকাকে বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান কেনা হয়েছে। তাই ধান কেনা বন্ধ রাখা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত