Ajker Patrika

প্রবাসে গাড়িচালকের মৃত্যু, মানব পাচারকারী ও পুলিশ কর্মকর্তার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রবাসে গাড়িচালকের মৃত্যু, মানব পাচারকারী ও পুলিশ কর্মকর্তার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
বগুড়ার ধুনটে গাড়িচালক শাহাদৎ হোসেনকে হত্যার বিচারের দাবিতে দুই মানব পাচারকারী এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার ধুনটে গাড়িচালক শাহাদৎ হোসেনকে হত্যার বিচারের দাবিতে দুই মানব পাচারকারী এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ধুনট থানার সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি তুলে নেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই শাহাদৎ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে সৌদি আরবের পুলিশ। ১৭ দিন পর গতকাল রাতে তাঁর মরদেহ সৌদি আরব থেকে এনে আজ সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মরদেহ দাফন শেষে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ধুনট থানার সামনে অভিযুক্ত দুই মানব পাচারকারী ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

নিহত শাহাদৎ হোসেনের মা-বাবার দাবি, তাঁদের ছেলে এমনভাবে মারা যেতে পারে না। মাহমুদুল সরকার ও আরিফুল ইসলাম নামের দুই মানব পাচারকারী এবং পুলিশের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান কৌশলে তাঁদের ছেলেকে সৌদি আরবে হত্যা করেছে। তিনজনের বিরুদ্ধে ছেলে হত্যার বিচার চান তাঁরা।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, দুই মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানকে থানা থেকে আগেই পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের দাবিগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের কান্তনগর নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহামুদুল সরকারের মাধ্যমে গাড়িচালকের চাকরিতে পাঁচ লাখ টাকা চুক্তিতে গত ১ জানুয়ারি সৌদি আরবে যান শাহাদৎ। দিনমজুর বাবা জামাল উদ্দীন গোয়ালের গরু-ছাগল বিক্রি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠান। কিন্তু শাহাদৎকে চুক্তি মোতাবেক গাড়িচালকের কাজ না দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।

এরপর কাজ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গত ১৯ জুন রাতে মাহামুদুল সরকারের বাড়িতে যান শাহাদতের মা শাহনাজ বেগম ও নানি শাহেদা বেওয়া। এ সময় মাহামুদুল সরকার ও তাঁর সহযোগী আরিফুলের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করেন আরিফুলরা।

বগুড়ার ধুনটে গাড়িচালক শাহাদৎ হোসেনকে হত্যার বিচারের দাবিতে দুই মানব পাচারকারী এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
বগুড়ার ধুনটে গাড়িচালক শাহাদৎ হোসেনকে হত্যার বিচারের দাবিতে দুই মানব পাচারকারী এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

এই ঘটনায় গত ২১ জুন শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে মাহামুদুল সরকার ও শেরপুর উপজেলার ঝাঁজর গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানকে। এই সুযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তা শাহাদতের স্ত্রী কাজলীকে মোবাইল ফোনে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেন। পরে কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি জানাজানির পর এসআই মোস্তাফিজুরকে ১২ জুলাই প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এরপর ১৪ জুলাই রাতে ওই দুই মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত