সংবাদটা বেদনাদায়ক ও শোকের। হাসান আজিজুল হক আর নেই—এ শোক সামলাতে সময় লাগবে।
আমরা যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, তাদের অনেকের কাছে হাসান আজিজুল হক ছিলেন কাছ থেকে দেখা প্রথম ‘সাহিত্যিক’, যাঁর নাম পরীক্ষার জন্য মুখস্থ করতে হতো। শিক্ষার্থীরা বলত, হাসান স্যারের জীবনী মুখস্থ কর। এক নম্বর পাবেই। ভর্তি পরীক্ষায় একটি নম্বর যথেষ্ট বটে। এত বড় একজন লেখক, যাঁর নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো না কোনোভাবে এক নম্বরের সঙ্গে যুক্ত, তাঁকে দেখা যেত মতিহারের সবুজ চত্বরে হেঁটে বেড়াতে। তাঁর বিষয়ে ভয় মিশ্রিত শ্রদ্ধা ছিল আমাদের। বহুবার রাস্তায় দেখা হয়েছে। দেখেই চোখ নামিয়ে নিয়েছি আমরা। পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছি মাথা নিচু করে। আমাদের বিস্ময় কাটত না। ভাবতাম ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’-এর লেখক আমাদের ক্যাম্পাসে হেঁটে বেড়াচ্ছেন!
বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ওপরের ক্লাসে উঠি, তখন বিভিন্ন কাজকর্মে তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়। বিশেষ করে, আমরা যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক, গান, কবিতার সংগঠন করতাম, তাদের সঙ্গে হাসান আজিজুল হকের যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। বার্ষিক অনুষ্ঠান হোক, আর নাটক বা গানের অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে হোক হাসান আজিজুল হক ছিলেন কাছের মানুষ, প্রথম পছন্দ। সম্ভবত এ ধরনের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তিনি তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চাইতেন। তাদের চিন্তাচেতনা বুঝতে চাইতেন। তরুণেরাও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাইত হয়তো এক বিশাল ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে। হয়তো ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’-এর লেখকের কাছ থেকে সাহিত্যর অনুরণন পেতে। দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকার করতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশ ছোঁয়া গগনশিরীষ গাছগুলোর প্রেক্ষাপটে হাসান আজিজুল হককে যখন দেখতাম, তখন আমাদেরও ইচ্ছে করত বরেন্দ্রভূমির ওঁরাওদের নিয়ে গল্প লিখতে। তাঁর কত শত ছাত্রের মনে তিনি এ আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছিলেন, তার হিসেব কেউ রাখেনি।
যখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, আজ থেকে ঠিক বিশ বছর আগে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির অবস্থা খুব সুবিধার ছিল না। প্রগতিশীল শিক্ষকেরা বেশ কোণঠাসা। বেশ কয়েকজন শিক্ষক হত্যার শিকার হয়েছেন। তেমন সময়ে হাসান আজিজুল হক কোনো সংগঠনের কোনো অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইকে বলে চলেছেন মুক্তির কথা, গণতন্ত্রের কথা। আমরা অনুপ্রাণিত হতাম সেসবে।
আজ এসবই মনে পড়ছে। মনে পড়ছে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছনের আমবাগানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাসান আজিজুল হক ছাত্রদের বলছেন—‘প্রতিক্রিয়াশীলতা মেনে নিও না। আমরা বড়রা পচে গেছি। তোমরা দাঁড়াও।’

কোস্টারিকার একটি প্রচলিত গল্প অনুসারে, ১৯৩০-এর দশকে সান হোসের সান সেবাস্তিয়ান নামক এলাকায় এক খামারি সেন্ট সেবাস্তিয়ান দিবসে অতিথিদের খাওয়ানোর জন্য একটি দাগযুক্ত মোরগ লালন-পালন করছিলেন। স্প্যানিশ ভাষায় এ রকম মোরগকে বলা হয় গালো পিন্টো।
৪ দিন আগে
ভারতের মেইনস্ট্রিম লেফটরা এটা উপলব্ধিই করতে পারেননি যে এখানকার শ্রেণি পরিচিতির মধ্যেও বর্ণবিভাজন, লৈঙ্গিক বিভাজন ও জাতিসত্তা এবং ভাষা প্রশ্নগুলো মিলেমিশে আছে। এটা হয় তাঁরা উপলব্ধি করতে পারেননি অথবা উপলব্ধি করলেও এই বিষয়টাকে এড়িয়ে চলতে চেয়েছেন।
৫ দিন আগে
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কোমোরোস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভ্যানিলা উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তাদের রান্নায় ভ্যানিলার ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। উনিশ শতকে কোমোরোস ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হলে ফরাসিরা এখানে বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষ শুরু করেন। তখন স্থানীয়রা খেয়াল করেন যে ভ্যানিলার সুবাস কেবল মিষ্টি খাবারে...
৬ দিন আগে
একসময় ক্যামেরুনের উপকূলীয় অঞ্চলের ডুয়ালা উপজাতি এবং সাওয়া জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার ছিল এনডোলে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় খাবারটির চমৎকার স্বাদের কারণে পুরো দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং ক্যামেরুনের জাতীয় খাবারে পরিণত হয়। ডুয়ালা ভাষায় এনডোলে মানে তিতা পাতা।
২১ দিন আগে