Ajker Patrika

জুলাই আন্দোলন

সম্পাদকীয়
জুলাই আন্দোলন

ভারতবর্ষীয় ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের পরে যখন কৃষকেরা অভ্যুত্থানে যোগ দিলেন, তখন তাঁরা যত কালেক্টরেট, যত তহশিল অফিস—ধ্বংস করেন, নথিপত্র পুড়িয়ে দেন। তাঁদের ধারণা, এই নথিপত্রই ছিল শোষণ করার হাতিয়ার। অত্যাচারের হাতিয়ার। কৃষককে তো আপনি বক্তৃতা দিয়ে শেখাবেন না, তাঁরা জিনিসটা কীভাবে দেখেন, সেটাই আমি বলছি। আমি সঠিক না বেঠিক কিছুই বলছি না—ঘটনার বিবরণ দিচ্ছি। এইখানেও এই ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। এখানে যে সামরিক বাহিনী তারা তখনো দ্বিধাগ্রস্ত। একাংশ একদিকে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করাচ্ছে, একটা অংশ পদত্যাগের পক্ষে ছিল না—ছিল সামরিক আইন জারি করার পক্ষে। মানে তারা প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করার দলে। এসব কথা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।

সেনাপ্রধানের অবস্থা ছিল শাঁখের করাততুল্য—এদিকে গেলেও কাটে, ওদিকে গেলেও। এ অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিমানে তুলে দিয়েছেন। অন্যদিকে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবন রক্ষা করার কোশেস করেননি। গণভবন দুর্ভাগ্যবশত হলো অত্যাচারের প্রতীক। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের বাসভবনে কেন মানুষ হামলা করেছিল?

মিউজিয়াম বা পাঠাগার আক্রমণ করা ঠিক নয়। ইরাক যুদ্ধে বিদেশিরা জেতার পর আমরা কী দেখেছি? মিউজিয়ামে থাকা কয়েক হাজার বছরের আর্টিফ্যাক্ট পশ্চিমে পাচার হয়ে গিয়েছে—ইউরোপে চলে গিয়েছে। আমরা দুঃখ করেছি তখন।

বাংলাদেশে কী কী হয়েছে আমরা এখনো পুরো জানি না। বিশেষত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে যে লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম ছিল, এটা মানুষ পুড়িয়ে দিয়েছে। তাতে অনেক অমূল্য সম্পদ পোড়া গেছে। এগুলো অমূল্য সম্পদ।

এ কথা আমি ওই দিন ৫ আগস্টই বলেছিলাম ডয়চে ভেলের খালেদ মুহিউদ্দীনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। ঘটনাটা দুঃখজনক। এটা রোধ করার দরকার ছিল। শুনলাম বড় বড় ধনকুবেরের বাড়ি থেকে লোকে ছবিটবি নিয়ে গেছে। নাকি বড়লোকেরাই সরিয়ে ফেলেছেন?

জনগণের রোষের ফলে এমনটা হয়। সেনাবাহিনী কেন এসব রক্ষা করার ব্যবস্থা নিল না? তারা নিজেরাও কি সামর্থ্যের অভাবে ভুগছিল? এসবের ফলে আমরা জাতিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

তথ্যসূত্র: আহমেদ মুনীরুদ্দিন কর্তৃক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা ‘ধাবমান’-এ প্রকাশিত

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত