Ajker Patrika

গভীর রাতে গৃহবধূর প্রেশার মাপতে গিয়ে ‘প্রেশারে’ চিকিৎসক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
গভীর রাতে গৃহবধূর প্রেশার মাপতে গিয়ে ‘প্রেশারে’ চিকিৎসক
গভীর রাতে দিনমজুরের স্ত্রীর প্রেশার মাপতে গিয়ে স্বজনদের হাতে আটক গ্রাম্য চিকিৎসক। ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের একটি বাড়িতে গভীর রাতে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে দুই দফা সালিস বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

ঘটনাটি উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই গভীর রাতে মো. শফিউল্লাহ নামে এক গ্রাম্য চিকিৎসক এক গৃহবধূর বাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির স্বজনেরা তাঁকে দেখতে পেয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ওই চিকিৎসক ও গৃহবধূকে নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। ঘটনার পর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে দুই দফা সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী ঢাকায় একটি করাতকলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভাবের কারণে তিনি দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। তাঁর দাবি, গ্রাম্য চিকিৎসক শফিউল্লাহ বিভিন্ন সময় তাঁকে ফোন করে বিরক্ত করতেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। ঘটনার রাতে বৃষ্টির মধ্যে দরজায় এসে ডাকাডাকির পর তিনি দরজা খুললে চিকিৎসক জোর করে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বাড়ির স্বজনেরা এসে তাঁকে দেখতে পান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গ্রাম্য চিকিৎসক মো. শফিউল্লাহ। তিনি বলেন, গভীর রাতে ওই গৃহবধূ তাঁকে ফোন করে রক্তচাপ (প্রেশার) বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ডাকেন। রোগী দেখতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ঘরে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন এসে তাঁকে ঘিরে ধরে এবং ভিডিও ধারণ শুরু করলে তিনি ভয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেনও ছিল এবং তিনি গৃহবধূর স্বামীকে বিভিন্ন সময় টাকা ধার দিয়েছেন।

ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই দফা সালিস বৈঠক করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত