গ্লানিটা হলো লিখতে না পারায়। একজন কবি লিখতে পারছেন না, এটাই তাঁর জন্য চরম অসুবিধার। অনেকে জীবিত আছেন, কিন্তু আর লিখতে পারছেন না। এটা গ্লানিকর। দুই নম্বর কথা হলো, আমার মতো যাঁরা দীর্ঘ জীবন পার করে এসেছেন, তাঁদের শারীরিক নানা অসুবিধার সৃষ্টি হয়। যেমন আমার চোখ নেই, অস্পষ্ট দেখি। দেখতে না পারা হলো বিরাট একটা অভিশাপ। আগে প্রতিটি জিনিস খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। এখন তো সেটা আর পারছি না। একসময় ছিল যে সারা বাংলাদেশ আমি ঘুরে বেড়িয়েছি। একটা ঝোলা কাঁধে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেছি নৌকায়, নদীতে। মানুষের সঙ্গে। কত জেলে, কত ধীবর, কত যাযাবর, কত বেদেনি। এ জীবনের যত বৈচিত্র্য এটা তো আমি ঠিকমতো গ্রহণ করেছি এবং সেটা ব্যক্তও করেছি। আমার লেখায় তা আছে। হয় গল্পে আছে, কবিতায় আছে, নয়তো উপন্যাসে আছে। আছে।
জীবনের পরিণত পর্বে এসে মানুষের মধ্যে এমন কিছু উপলব্ধি হয় যা অসাধারণ, অতুলনীয়। রবীন্দ্রনাথের মধ্যে যে উপলব্ধিটা হয়েছিল জীবনের শেষ প্রান্তে এসে। সভ্যতা সম্পর্কে, মানুষ সম্পর্কে। মানুষের উত্থান-পতন সম্পর্কে।
আমি রবীন্দ্রনাথ খুব উত্তমরূপে পড়েছি। ভাসা ভাসা না। থরোলি পাঠ করেছি। রবীন্দ্রনাথের সব ঠিক আছে, সব অসাধারণ। কিন্তু শেষ বয়সে এসে তিনি জবাব খুঁজতে গিয়ে বলেছেন, প্রথম দিনের সূর্য প্রশ্ন করেছিল, কে তুমি? তারপর শেষ দিনের অস্তাচলগামী সূর্য প্রশ্ন করেছে, কে তুমি? কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। রবীন্দ্রনাথ এ বেদনাটা উপলব্ধি করেছিলেন। এ বেদনাটা আমার মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম। কারণ, প্রথম দিনের সূর্যকে আমি যখন প্রশ্ন করছি, তখন এটা জেনেই করেছি যে উত্তর আমাকে খুঁজতে হবে। উত্তর আমাকেই বের করতে হবে। সূর্যটা কোনো উত্তর দেবে না।
তথ্যসূত্র: মাহবুব মোর্শেদ কর্তৃক কবি আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ‘আলাপন ব্লগ’-এ ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত

একসময় শিক্ষাকে একটি ফুটো পাত্র আকারে দেখা হতো, যেখানে হয়তো একজন পানি দিচ্ছে কিংবা কেউ শিক্ষাকে মন্ত্র হিসেবে দেখছেন; যার জোরে যে কেউ তাঁর নিজের মতো করে জ্ঞানের রাজ্যে হাঁটতে পারেন। ‘অন্বেষণ ও সৃষ্টি’র পথে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর করে তুলতে পারেন। ওই ধারার শিক্ষার কথা বলছেন ভনহাম বোল্ডট।
২ দিন আগে
ইউরোপীয় বা আফ্রিকানরা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আসার বহু আগে থেকে এখানকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান খাদ্য ছিল কাসাভা বা শিমুল আলু। তিতকুটে শিমুল আলু থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে, তা কুচি করে আগুনে সেঁকে রুটি বা পিঠা তৈরি করার একটি নিজস্ব ও প্রাচীন কৌশল তাদের জানা ছিল। এই আদিবাসী রন্ধনশৈলী থেকে জন্ম হয়...
৩ দিন আগে
কোস্টারিকার একটি প্রচলিত গল্প অনুসারে, ১৯৩০-এর দশকে সান হোসের সান সেবাস্তিয়ান নামক এলাকায় এক খামারি সেন্ট সেবাস্তিয়ান দিবসে অতিথিদের খাওয়ানোর জন্য একটি দাগযুক্ত মোরগ লালন-পালন করছিলেন। স্প্যানিশ ভাষায় এ রকম মোরগকে বলা হয় গালো পিন্টো।
৮ দিন আগে
ভারতের মেইনস্ট্রিম লেফটরা এটা উপলব্ধিই করতে পারেননি যে এখানকার শ্রেণি পরিচিতির মধ্যেও বর্ণবিভাজন, লৈঙ্গিক বিভাজন ও জাতিসত্তা এবং ভাষা প্রশ্নগুলো মিলেমিশে আছে। এটা হয় তাঁরা উপলব্ধি করতে পারেননি অথবা উপলব্ধি করলেও এই বিষয়টাকে এড়িয়ে চলতে চেয়েছেন।
৯ দিন আগে