উত্তরণ
ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন

প্রশ্ন: আমি হিন্দুধর্মাবলম্বী একজন বিবাহিত মেয়ে। কিছুদিন আগে আমার বাবা মারা গেছেন। আমার বাবা ব্যাংকে কিছু টাকা রেখে গেছেন, যার নমিনি আমার মা। আমি আমার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।
আমার দাদু অর্থাৎ বাবার বাবা, মা, ভাই জীবিত আছেন। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমার কাকা ও দাদু দাবি করছেন, তাঁরা আমার বাবার টাকার ওয়ারিশ; যেহেতু আমি একমাত্র মেয়ে। তাঁরা টাকা দাবি করছেন। তাঁরা ব্যাংককে এ কথা জানিয়েছেন। ব্যাংক থেকে ওয়ারিশান সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে।
আমার প্রশ্ন, তাঁরা কি হিন্দু আইনমতে এই টাকার ওয়ারিশ হবেন? যেহেতু নমিনি আমার মা এবং তিনি জীবিত আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, যশোর।
উত্তর: আমাদের দেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন আছে।
আপনার বাবা ব্যাংকে যে টাকা রেখে গেছেন, তার নমিনি আপনার মা। নমিনি মানে টাকা পাওয়ার অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি, কিন্তু মালিক নন। অর্থাৎ, নমিনি টাকা তুলতে পারবেন। তবে সেটি উত্তরাধিকার আইনের অধীনে প্রকৃত ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগাভাগি হতে হবে, যদি উইল না থাকে।
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে ক্লাস ১ ওয়ারিশরা হচ্ছে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে এবং প্রয়োজনে ছেলে-মেয়ের সন্তানেরা। আপনি একমাত্র সন্তান এবং বিবাহিত মেয়ে হলেও ক্লাস ১ ওয়ারিশ।
আপনার কাকা ও দাদু ক্লাস ২ ওয়ারিশের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ তাঁদের অধিকার আসবে শুধু তখনই, যখন ক্লাস ১ ওয়ারিশ কেউ থাকবে না। কিন্তু আপনার মা এবং আপনি জীবিত আছেন। তাই তাঁদের কোনো অধিকার নেই।
ব্যাংক ও ওয়ারিশান সার্টিফিকেট প্রসঙ্গে বলি। যেহেতু নমিনি আপনার মা। তিনি ব্যাংকে টাকা তোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। ব্যাংক সাধারণত ওয়ারিশান সার্টিফিকেট বা সার্টিফায়েড উত্তরাধিকার প্রমাণ চায় টাকা বিতরণের জন্য। এই সার্টিফিকেটে আপনাকে এবং আপনার মাকে একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে উল্লেখ থাকা উচিত।
কাজেই এ ক্ষেত্রে আপনার কাকা বা দাদু হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের অধীনে এই টাকার কোনো ওয়ারিশ নন। কারণ, ক্লাস ১ ওয়ারিশ হিসেবে আপনার মা ও আপনি জীবিত আছেন। নমিনি হিসেবে আপনার মা টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু উত্তরাধিকার আইনের ভিত্তিতে আপনি ও আপনার মা উভয়েই টাকার মালিক হবেন।
আপনাদের জন্য করণীয়
১. ওয়ারিশান সার্টিফিকেটের জন্য স্থানীয় সিভিল কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসে আবেদন করুন।
২. তাতে আপনার মা ও আপনাকে ওয়ারিশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রাখুন।
৩. যদি বিরোধ সৃষ্টি হয়, আইনজীবীর সহায়তা নিন। কারণ, আপনার এবং আপনার মায়ের অধিকার এখানে সুস্পষ্ট।
পরামর্শ দিয়েছেন: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
আরও খবর পড়ুন:

প্রশ্ন: আমি হিন্দুধর্মাবলম্বী একজন বিবাহিত মেয়ে। কিছুদিন আগে আমার বাবা মারা গেছেন। আমার বাবা ব্যাংকে কিছু টাকা রেখে গেছেন, যার নমিনি আমার মা। আমি আমার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।
আমার দাদু অর্থাৎ বাবার বাবা, মা, ভাই জীবিত আছেন। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমার কাকা ও দাদু দাবি করছেন, তাঁরা আমার বাবার টাকার ওয়ারিশ; যেহেতু আমি একমাত্র মেয়ে। তাঁরা টাকা দাবি করছেন। তাঁরা ব্যাংককে এ কথা জানিয়েছেন। ব্যাংক থেকে ওয়ারিশান সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে।
আমার প্রশ্ন, তাঁরা কি হিন্দু আইনমতে এই টাকার ওয়ারিশ হবেন? যেহেতু নমিনি আমার মা এবং তিনি জীবিত আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, যশোর।
উত্তর: আমাদের দেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন আছে।
আপনার বাবা ব্যাংকে যে টাকা রেখে গেছেন, তার নমিনি আপনার মা। নমিনি মানে টাকা পাওয়ার অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি, কিন্তু মালিক নন। অর্থাৎ, নমিনি টাকা তুলতে পারবেন। তবে সেটি উত্তরাধিকার আইনের অধীনে প্রকৃত ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগাভাগি হতে হবে, যদি উইল না থাকে।
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে ক্লাস ১ ওয়ারিশরা হচ্ছে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে এবং প্রয়োজনে ছেলে-মেয়ের সন্তানেরা। আপনি একমাত্র সন্তান এবং বিবাহিত মেয়ে হলেও ক্লাস ১ ওয়ারিশ।
আপনার কাকা ও দাদু ক্লাস ২ ওয়ারিশের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ তাঁদের অধিকার আসবে শুধু তখনই, যখন ক্লাস ১ ওয়ারিশ কেউ থাকবে না। কিন্তু আপনার মা এবং আপনি জীবিত আছেন। তাই তাঁদের কোনো অধিকার নেই।
ব্যাংক ও ওয়ারিশান সার্টিফিকেট প্রসঙ্গে বলি। যেহেতু নমিনি আপনার মা। তিনি ব্যাংকে টাকা তোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। ব্যাংক সাধারণত ওয়ারিশান সার্টিফিকেট বা সার্টিফায়েড উত্তরাধিকার প্রমাণ চায় টাকা বিতরণের জন্য। এই সার্টিফিকেটে আপনাকে এবং আপনার মাকে একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে উল্লেখ থাকা উচিত।
কাজেই এ ক্ষেত্রে আপনার কাকা বা দাদু হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের অধীনে এই টাকার কোনো ওয়ারিশ নন। কারণ, ক্লাস ১ ওয়ারিশ হিসেবে আপনার মা ও আপনি জীবিত আছেন। নমিনি হিসেবে আপনার মা টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু উত্তরাধিকার আইনের ভিত্তিতে আপনি ও আপনার মা উভয়েই টাকার মালিক হবেন।
আপনাদের জন্য করণীয়
১. ওয়ারিশান সার্টিফিকেটের জন্য স্থানীয় সিভিল কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসে আবেদন করুন।
২. তাতে আপনার মা ও আপনাকে ওয়ারিশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রাখুন।
৩. যদি বিরোধ সৃষ্টি হয়, আইনজীবীর সহায়তা নিন। কারণ, আপনার এবং আপনার মায়ের অধিকার এখানে সুস্পষ্ট।
পরামর্শ দিয়েছেন: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
আরও খবর পড়ুন:

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক বাধা ও প্রেক্ষাপটের কারণে নির্বাচনে বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে, বিশেষ করে নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা—বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন।
২ দিন আগে
লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
৩ দিন আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান
৩ দিন আগে