
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের মণ্ডপে এবারও পৌরোহিত্য করেছেন সমাদৃতা ভৌমিক। তৃতীয়বারের মতো এই অভিজ্ঞতা নিয়ে আনন্দিত তিনি। তবে বরাবরের মতোই আলোচনা ও সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন তাঁর পোশাক নিয়ে। নারীর পোশাক ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নতুন নয়। এর পেছনে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভূমিকা পালন করে। কাজ নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আগামী দিনের ভাবনা নিয়ে সমাদৃতা ভৌমিক কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাশফিয়া আলম ঝিলিক।
পৌরোহিত্যে নারীর অংশগ্রহণের এই ধারাটা ভবিষ্যতে কেমন থাকবে বলে আপনি মনে করছেন?
আমার তিনবার পৌরোহিত্যের অভিজ্ঞতা একটি আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, একটি সামাজিক সংলাপের সূচনা। আমি মনে করি, এই ধারা ক্রমেই প্রাতিষ্ঠানিকতা পাবে। আগামী দিনে আরও নারী এই পথে আসবেন এবং সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেবে। যদিও প্রতিক্রিয়া থাকবে, কিন্তু ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলেই আমার বিশ্বাস।
আপনার কি মনে হয় পোশাক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাগুলো আগামী দিনে আরও বেশি হতে পারে?
পোশাক নিয়ে সমালোচনা ও আলোচনা প্রকৃতপক্ষে বেড়েছে এবং সামনে আরও বাড়তে পারে। এর মূল কারণ, সামাজিক পরিবর্তনের গতির সঙ্গে রক্ষণশীল মূল্যবোধের সংঘাত। পোশাক প্রায়ই নারীর নৈতিকতা, ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডিজিটাল যুগে এই বিতর্কের মাত্রা ও প্রসার বৃদ্ধি পেয়েছে।
নারী পৌরোহিত্যের বিষয়টি ইতিহাস কিংবা ধর্মচর্চায়ও আমরা দেখতে পাই। আপনাকে কোন বিষয়টি অনুপ্রেরণা দিয়েছে?
মন্দিরে নারী পুরোহিত দ্বারা নিয়মিত পূজা পরিচালনার দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রথা নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রেরণার উৎস। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই নারী পৌরোহিত্যের জন্য একটি ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা বিদ্যমান ছিল। শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও নারী পৌরোহিত্যের নজির রয়েছে।

নারী পুরোহিত দিয়ে পূজা করানো কি শুধুই একটা সামাজিক বাধাকে অতিক্রম করা বলে মনে করেন? এই বিষয়ে অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন বলে মনে হয়?
নারী পুরোহিত দিয়ে পূজা শুধু একটি সামাজিক বা সাংস্কৃতিক বাধা অতিক্রম করা নয়, এটি একটি দর্শনগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবিদার। এটি প্রশ্ন তোলে কেন ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষের ভূমিকায় নারী আসতে পারবেন না। এ ব্যাপারে মিশ্র দৃষ্টিভঙ্গি আছে। অনেকেই, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষিত সমাজ, ইতিবাচকভাবে দেখে। আবার একটি অংশ দ্বিধা, সংশয় বা ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভিন্নতা তুলে ধরে। তবে সামগ্রিকভাবে, ইতিবাচক সাড়ার পাল্লাটাই ভারী বলে আমার মনে হয়েছে।
এই অংশগ্রহণ কি নারীর ক্ষমতায়নের যাত্রায় একটি হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
পৌরোহিত্য নারীর ক্ষমতায়নের যাত্রায় একটি শক্তিশালী প্রতীকী ও বাস্তব হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এটি বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশীদারত্বের দাবিকে মূর্ত রূপ দেয়। এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সামাজিক মনস্তত্ত্বেও পরিবর্তনের সূচনা করে। মোটকথা পৌরোহিত্য একটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক বদলের ইশতেহার। এটি প্রশ্ন করে, আলোচনা তৈরি করে এবং দৃশ্যমান বিকল্প উপস্থাপন করে। আমার এই পদক্ষেপ যদি আরও নারীকে তাঁদের যোগ্যতার জায়গা দখল করতে উৎসাহিত করে, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।

আগামীকাল দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে বেশ উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও একটি জায়গায় খানিক অস্বস্তি রয়ে গেছে। তা হলো, এবারের নির্বাচনে দেশে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেশ কম। এই নির্বাচনে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নারীদের মনোনয়ন দেয়নি।
৩ দিন আগে
বসন্ত আসছে। খেতে রংবেরঙের জারবেরা ফুল ফুটে দোল খাচ্ছে বাতাসে। সেই খেতের এক পাশ থেকে ফুল তুলছেন শুধু বসন্তে নয়, বারো মাস ফুল ফোটানোর কারিগর রেশমা খাতুন। এই ফুলের চাষ তাঁর সংসারে বসন্ত এনে দিয়েছে।
৩ দিন আগে
নদীর ঠান্ডা পানিতে নেমে পাথর তোলেন বাবা। রোদ-বৃষ্টি-শীতে সেই পাথরই সংসারের ভরসা। সেই সংসারের মেয়েটি একসময় গ্রামের রাস্তায় হাঁটলে কটুকথা শুনত, অপমান লুকিয়ে চলত মাথা নিচু করে। আনন্দ-উৎসবে মা-বাবার হাত ধরে যাওয়াও ছিল নিষিদ্ধ—সমাজের চোখ আর কথার ভয়ে। আজ সেই মেয়েটি বিমানে চড়ে বিদেশে যায়—বুকের ভেতর লাল-সবু
৩ দিন আগে
প্যারিসের গর্ব এবং বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্থাপত্য আইফেল টাওয়ার। একে স্থানীয়ভাবে ফরাসি ভাষায় বলা হয় লা ডানে ডি ফের। অর্থাৎ আয়রন লেডি বা বাংলায় যাকে বলা হয় লৌহমানবী। মূলত পেটা লোহা দিয়ে নির্মিত এই বিশালাকার কাঠামোর স্থায়িত্ব এবং শৈল্পিক দৃঢ়তার কারণে এই নাম। টাওয়ারটির সরু
৩ দিন আগে