Ajker Patrika

বনের জন্য সংগঠিত হচ্ছেন নারীরা

কাশফিয়া আলম ঝিলিক, ঢাকা
বনের জন্য সংগঠিত হচ্ছেন নারীরা

রাজধানীর মহাখালী থেকে গুলশানের দিকে যেতে রাস্তার যে বাঁক, সে মোড়েই বাদামি রঙের একটা পুরোনো দালান। তার গায়ে কালো অক্ষরে লেখা ‘বন ভবন’। দালান বর্ধিত করার কাজ চলছে। এই বিরাট ভবনের লিফটে উঠে চলে যাই পাঁচতলায়। বাংলাদেশের একমাত্র নারী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তারের অফিসে।

কিছুক্ষণ বসতে হলো। সপ্তাহের শুরু বলে কর্মকর্তাদের ব্যস্ত থাকারই কথা। খানিক পরেই ডাক পড়ল তাঁর কক্ষে। এরপর ঝাড়া এক ঘণ্টা তিনি বলে গেলেন আর আমি শুনে গেলাম বন আর তাঁর রহস্যময় জগতের কথা।

শারমীন আক্তার মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন ২০১৬ সাল থেকে। বর্তমানে গাজীপুরের ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক পরিচালনা এবং ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক সম্পর্কিত ৮টি মৌজার দেখভাল করার দায়িত্বে আছেন তিনি। ঢাকাসহ ১৭টি জেলায় শৌখিন পর্যায়ে হরিণ ও পোষা পাখি লালন-পালনের লাইসেন্স প্রদান, বন্য প্রাণী সম্পর্কিত অভিযোগ, বন্য প্রাণী উদ্ধার, অবমুক্তকরণ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হয় তাঁর ডিভিশন থেকে। তাঁর অধীনে দুজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন, যাঁদের একজন বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং অন্যজন বন্য প্রাণী পরিদর্শক। এ ছাড়া বন অধিদপ্তরে উপ-বন সংরক্ষক পদে আছেন তিনজন নারী। এদের একজন মনিটরিং ইউনিটে, একজন উন্নয়ন পরিকল্পনা ইউনিটে এবং একজন ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিচালনার কাজ করছেন। এ ছাড়া সহকারী বন সংরক্ষক, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তা, বন্য প্রাণী পরিদর্শক এমনকি বনরক্ষী পদেও কাজ করছেন নারীরা।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত কষ্টকর কাজ বলে মনে করেন শারমীন। বনকর্মীদের বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। গার্মেন্টসকর্মী, নদীভাঙনের শিকার মানুষের বসবাস—সব মিলিয়ে বেশ জটিল বন এলাকা গাজীপুর। সে এলাকায় কাজ করছেন শারমীন। কাজটা চ্যালেঞ্জের বলে বিভাগের সবাই কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে কাজ করছেন।

শারমীন আক্তার ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে বন বিভাগে যোগদান করেন। সহকারী বন সংরক্ষক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা বন বিভাগে। এর আগে তিনি উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বন বিভাগের সুফল প্রকল্পে। সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে শারমীন জানান, বন অধিদপ্তরের টেকসই বন ও জীবিকা তথা সুফল প্রকল্পে নারীদের সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে বনসংলগ্ন ৬০০ গ্রামে সুবিধাভোগী আছেন ৪০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে নারী সুবিধাভোগী রয়েছেন ১৮ হাজার ৯৮৪ জন। এই সুবিধাভোগীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন গ্রামে বিভিন্ন কমিটি তৈরি করা হয়েছে, যাকে বলা হয় ভিলেজ কনজারভেশন ফোরাম। একেকটি ফোরামে পাঁচটি করে কমিটি আছে, যাদের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ও লাইভলি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপ আছে, যে কমিটিতে ৫০ শতাংশ নারী রাখা বাধ্যতামূলক। সুফল প্রকল্পের তৈরি করা প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টরের বাগান পাহারায় কাজ করছেন এই নারীরা।

শারমীন আক্তারএই কাজের ক্ষেত্রে নারীদের আগ্রহ কেমন? শারমীন আক্তার বললেন, ‘কৃষিকাজ কিংবা বনায়ন নারীদের হাতে ভালো হয়। বিভিন্ন বৃক্ষরোপণ মেলায় আমাদের সুবিধাভোগী নারীরা আর্থিক অনুদান পেলে তাঁদের বাগানটাকে ভালো রাখেন। তাঁরা বাগানের যত্ন করেন এবং তাঁদের আগ্রহ আছে। তাঁরা সংগঠিত হতে পছন্দ করছেন।’

টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া শারমীন আক্তার বাবার কাজের সূত্রে সপরিবারে থাকতেন খুলনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। নৌবাহিনীতে কর্মরত বাবার সঙ্গে খুলনায় থাকতে হবে বলে ভর্তি হন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগে। এরপর বিসিএস দিয়ে যুক্ত হন বন বিভাগের সঙ্গে।

বন বিভাগে চাকরি করতে হলে নারীদের কিছু বিষয়ে মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে বলে মনে করেন শারমীন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, এখানে ৯টা-৫টার চাকরি কিংবা ডেস্ক জব করা কোনোভাবে সম্ভব নয়। আগামীকাল কোন সমস্যা সামনে আসবে, সেটা কেউ জানে না। অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা ও বিচক্ষণতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন শারমীন আক্তার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘মন জানালা’র আয়োজন

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৩০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘মন জানালা’। ৪০ পেরোনো নারীর মন, শরীর আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র ‘থেমে যাওয়া নয়, সময় এখন এগিয়ে যাবার’ শিরোনামে বিশেষ সেশনের আয়োজন করে। ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বিসিএস ক্যাডার, শিক্ষক, উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন পেশার ৭০ জনের বেশি নারী। তাঁদের মধ্য়ে কেউ দীর্ঘদিন সংসার সামলে এখন নিজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন। অনেকেরই সন্তান প্রতিষ্ঠিত, কেউ আবার সন্তানদের বিদেশে রেখে একা জীবনের নতুন অধ্যায় পার করছেন। অনুষ্ঠানে আসার কারণও সবার আলাদা। কেউ এসেছেন জীবনের এই সময়ে নিজের জন্য আলাদা একটি পরিচয় গড়ে তুলতে। কেউ নতুন বন্ধুর খোঁজে, যাঁদের সঙ্গে নির্দ্বিধায় নিজের কথা বলা যায়। আবার কেউ এসেছেন শুধু শুনতে—অন্য নারীদের গল্প, সংগ্রাম আর সাহসের কথা।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী নিজের কথার শুরুতেই বলেন, ‘আমি যদি সংগ্রাম না ভালোবাসতে পারি, তাহলে সুখী প্রজাপতি হব কীভাবে! এখানে অনেকেই আছেন, যাঁরা তাঁদের নিজেদের দক্ষতাকে ভেতরে চেপে রেখেছেন। এই মন জানালাটা আমাদের খুবই একান্ত। নিজের ক্ষেত্রে আমি আমার মনকে কখনোই বাধা দিই না। যখন আমার বয়স ৪০ হলো, তখন আমি আবার গান শুরু করি। এর আগে ১২ বছর গান করতে পারিনি।’

ফাহমিদা নবী বলেন, ‘যে তোমাকে গুরুত্ব দেয়, তুমিও তাকেই গুরুত্ব দাও। কিন্তু সবাইকে ভালোবাসতে হবে। কখনো রাগ করবেন না। আল্লাহ আমাদের সুন্দর হাসি উপহার দিয়েছেন। সোজা পথেই হাঁটব। নিজেকে নিয়েই চলব। নিজের জন্য বাঁচতে হবে।’

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পরিচিত মুখ অভিনেত্রী দীপা খন্দকার এসেছিলেন সবার কথা শুনতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের একেকটা সময় একেক দায়িত্বের। প্রত্যেকটা বয়সের আলাদা কাজ আছে। সেই কাজটা খুঁজে বের করতে হবে। এখন আপনাদের সবার যে বয়স, সেটা নিজেকে সময় দেওয়ার। নিজেকে খুশি রাখতে যা করা দরকার করবেন। হাসবেন, সাজবেন, ঘুরবেন। স্বামী-সন্তানকে অনেক সময় দিয়েছেন, দেবেন; তবু এর বাইরে গিয়ে কীভাবে নিজেকে ভালো রাখা যায়, তা ভাবতে হবে। শরীরকে সুস্থ রাখাটা নিজের কাছে। আবার কষ্টটাও একান্ত আপনার। এ কারণে যেকোনোভাবেই হোক নিজেকে ভালো রাখতে হবে। মনের যত্ন নিতে হবে। মন খুলে হাসবেন, গল্প করবেন।’

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গৃহিণীদের ব্যাপারে দীপা খন্দকার বলেন, ‘গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেন। তাঁরা ঘরকে জীবন্ত রাখেন। সংসারকে সচল রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।’

একজন গৃহিণী মায়ের সঙ্গে আসেন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়ে রামিসা। মাকে সাহস দিতেই তাঁর আসা। এমন গৃহিণী আরও অনেকেই এসেছেন। অনুষ্ঠানে সবার উদ্দেশে রামিসা বলেন, ‘গৃহিণী হিসেবে পরিচয় দেওয়াটা গর্বের বিষয়। আজ এসেছি মায়ের জন্য। মাকে বলি, নিজের কথা ভাবো এখন। আমাদের কথা অনেক ভেবেছ। আজ যাঁরা এসেছেন, সবাইকে একই কথা বলব।’

উপস্থিত ছিলেন রেজুভা ওয়েলনেসের ওয়েলনেস অ্যান্ড বিউটি কনটেস্ট কনসালট্যান্ট ডা. তাওহিদা রহমান ইরিন। তিনি বলেন, ‘৪০ বছর চ্যালেঞ্জ না। এটা অভিজ্ঞতা। প্রতিটি কাজ আনন্দ নিয়ে করতে হবে। নিজেকে প্রতিদিন একটু হলেও সময় দিতে হবে।’

‘দিন শেষে প্রশ্ন করতে হবে, নিজেকে সময় দিতে পেরেছি কি না? ঠিকমতো খেয়েছি কি না? শরীরচর্চা করতে হবে। সিঁড়ি ব্যবহার করা, ছাদে হাঁটা, সম্ভব হলে বাইরে হাঁটতে যাওয়া। এগুলো করতে হবে।’ যোগ করেন তিনি।

মন জানালার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৌসুমী মৌ বলেন, ‘৪০ হচ্ছে পরিণত বয়স। এই সময়ে মানুষ নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। আমাদের মূল লক্ষ্য এই বয়সের নারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং নিজেদের কথা বলার একটি নিরাপদ পরিসর গড়ে তোলা।’

প্রতিষ্ঠানটির আরেক প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিবুল করিম জানান, নিজের মাকে দেখে এই প্ল্যাটফর্ম শুরু করার অনুপ্রেরণা পান। এই ছোট ছোট উদ্যোগ একটা সময় বড় কিছু হবে বলে বিশ্বাস। উদ্দেশ্য হলো, সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে বড় কিছু করা। একে অপরের পাশে থাকা। তিনি জানান, একে অপরের পাশে থাকতে চান। মন জানালাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

‘৫ শতাংশের বেশি নারী প্রার্থী দিতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৫৫
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ বিষয়ক অংশীজন সংলাপে বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ বিষয়ক অংশীজন সংলাপে বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক বাধা ও প্রেক্ষাপটের কারণে নির্বাচনে বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে, বিশেষ করে নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা—বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন। মনোনয়ন আদায় করে নিতে নারীরা সহিংসতার পথ বেছে নেন না। এ কারণেও তাঁদের মনোনয়নের সংখ্যা কম।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ বিষয়ক অংশীজন সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন এই সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, যেকোনো নারী ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দলের নারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই ইস্যু নিয়ে কথা বলতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারী নেত্রীদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেলিমা রহমান বলেন, তিনটা ওয়ার্ডের জন্য একজন নারীকে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু তাঁর কোনো কর্মকাণ্ড থাকে না। এই বৈষম্যটা দূর করতে হবে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ৫ শতাংশের বেশি নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সহিংসতাপ্রবণ পুরুষ প্রার্থীদের জন্য তা সম্ভব হয়নি বলে জানান দলটির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির সদস্য রাশেদা বেগম হীরা। তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অসম্ভব জেন্ডার সংবেদনশীল মানুষ। উনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ৫ শতাংশের বেশি নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর ছিল। কিন্তু “জ্বালাও পোড়াও” আর অবাধ্য নেতাদের জন্য ছাড় দিতে হয়েছে।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, সমাজের ৯০ শতাংশ গালি নারীকেন্দ্রিক। আজকাল স্লোগানেও নারীকেন্দ্রিক গালি ব্যবহার হচ্ছে। নারীকে বিভিন্নভাবে বুলিং করা হচ্ছে। এগুলো নারীকে মানসিকভাবে পিছিয়ে রাখছে বলে জানান তিনি।

দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারীদের মনোনয়ন দিতে পারেনি বলে জানান দলটির রাজনৈতিক সম্পাদক ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র দেওয়ার আগে দলের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দলের নারী সদস্যদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তখন তাঁরা জানিয়েছেন, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নারী প্রার্থীদের লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত নয়। জামায়াতের এই নারী সদস্য জানান, তিনি ফরিদপুরের একটি আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এবার সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, নারীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে সংস্কার বেশি প্রয়োজন। নারীর প্রতিনিধিত্ব সংখ্যায় না হয়ে যদি যোগ্যতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে হয়, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সেই গুরুত্বটা অনুধাবন করতে পারে, তখনই সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন আসবে।

সংলাপে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, গণফোরাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গণমাধ্যম ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ২৪তম

কাশফিয়া আলম ঝিলিক, ঢাকা 
নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ২৪তম

লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩ থেকে ১৩১ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে; বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমতার এই চিত্র অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং।

এশিয়ায় লৈঙ্গিক সমতার বর্তমান অবস্থান

এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পারফরম্যান্স বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশ ভিন্ন। পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ সমতা অর্জন করে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য ও জীবনধারণের ক্ষেত্রে ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ স্কোর নিয়ে এই অঞ্চল তালিকার তলানিতে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম, চীন, ব্রুনেই দারুসসালাম ও পাপুয়া নিউগিনিতে জন্মের সময় লৈঙ্গিক অনুপাতের বৈষম্য এই স্কোরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ স্কোর নিয়ে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

২০০৬ সাল থেকে রাজনৈতিক গ্যাপ ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমলেও অগ্রগতির হার ধীর ও অসম। ২০২৫ সালে শুধু নিউজিল্যান্ড রাজনৈতিক সমতায় ৫০ শতাংশ অতিক্রম করতে পেরেছে। যেখানে জাপান, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, ফিজি ও ভানুয়াতু ১০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। যদিও আমরা দেখেছি, জাপান রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে গত বছর। তবে এই অঞ্চলের দিকে তাকালে এখানে ১৯টি দেশের মধ্যে ৯টিতে এখনো কোনো নারী রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব পালন করেননি।

মধ্য এশিয়ার দিকে তাকালে দেখা যায়, ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ স্কোর নিয়ে অঞ্চলটি চতুর্থ স্থানে আছে। আর্মেনিয়া ও জর্জিয়া হলো এই অঞ্চলের শীর্ষ দেশ। তবে সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের হার মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ৬৪ দশমিক ৬

শতাংশ। বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে এই অঞ্চল রয়েছে। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান ২৪তম। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেটি শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে স্থান পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ স্কোর নিয়ে তালিকার সর্বনিম্ন স্থানে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ৩২তম।

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশ

পুরো দক্ষিণ এশীয় ব্লকের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ পর্যায়ে পূর্ণ লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, ভুটান ও মালদ্বীপে সংসদীয় সমতার হার এখনো ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নজিরবিহীন ৭৫ ধাপ উন্নতি করে ২৪তম স্থানে উঠে এসেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রায় ৯৫ শতাংশ বৈষম্য দূর করতে সক্ষম হয়েছে। সাফল্য সত্ত্বেও বাংলাদেশে শ্রমঘন কাজে নারীর অংশগ্রহণ কমছে এবং নারী-পুরুষের আয়বৈষম্য আগের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেড়েছে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

এই সময় পুরো দেশ তাকিয়ে আছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। সেই নির্বাচনের

পর থাকছে সম্ভাবনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের রাস্তা। শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার গড় হার

৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এখানে ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান। মালদ্বীপে পূর্ণ সমতা থাকলেও নেপাল ও পাকিস্তানে সাক্ষরতার হার ৭৫ শতাংশের নিচে। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে জন্মের সময় লৈঙ্গিক অনুপাতের অবনতি এই অঞ্চলের অগ্রগতির পথে অনেকটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশীয় অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও সংকট

পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের স্কোর ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কম্বোডিয়ায় নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি। তবে একটি বড় বৈষম্য দেখা গেছে শিক্ষার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে। যদিও এশিয়ায় নারীরা উচ্চশিক্ষায় পুরুষদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তবু উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপক পদে মাত্র ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ নারী কাজ করছেন। জনতাত্ত্বিক উপাত্তে এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে। হংকংয়ে প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা মাত্র ৮৬ জন। এই ভারসাম্যহীনতা ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও সামাজিক কাঠামোতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এশিয়ায় দ্রুততম সময়ে সমতার দিকে এগিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উল্লেখযোগ্য। তবে এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের গ্যাপ বিশ্বব্যাপী মাত্র ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। এটি পূরণ না হলে এশিয়ায় সমতার সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব নয়। আইসল্যান্ডের মতো এশিয়ার দেশগুলোকেও এখন ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট ও কেয়ারগিভার সাপোর্টের মতো নীতিমালায় আরও জোর দিতে হবে।

তথ্যসূত্র:

১. গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৫: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)।

২. আঞ্চলিক ডেটা: পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার ওপর ডব্লিউইএফের বিশেষ বিশ্লেষণ।

৩. বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য।

৪. জনসংখ্যা উপাত্ত: দেশভিত্তিক নারী ও পুরুষের অনুপাতসংক্রান্ত ডেটা সেট (২০২৬ প্রজেকশন)।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ড. রাজিয়া বানু, নারী অগ্রযাত্রায় উজ্জ্বল নক্ষত্র

ফিচার ডেস্ক
ড. রাজিয়া বানু। ছবি: সংগৃহীত
ড. রাজিয়া বানু। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।

ড. রাজিয়া বানুর পরিচয় শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর বাবা ওয়াজির আলী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ভাগনে ও জামাতা। শুধু তা-ই নয়, ওয়াজির আলী ছিলেন প্রথম বাঙালি মুসলমান এসডিও এএইচএম। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে নারীদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ দূর করতে ড. রাজিয়া বানু ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিধান রাখার ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ও দূরদর্শী চিন্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, সংবিধানে যদি নারীর অধিকার স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত না থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়।

রাজিয়া বানু শিক্ষার জগতেও ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি কয়েক প্রজন্মকে নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রচিন্তার পাঠ দিয়েছেন। আজকের বাংলাদেশে নারীদের অগ্রযাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল রাজিয়া বানুর মতো নারীদের হাত ধরে। তাঁর জন্ম ১৯২৬ সালের ২৪ জুন, কলকাতায়। ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি মারা যান।

ড. রাজিয়া বানু, নারী অগ্রযাত্রায় উজ্জ্বল নক্ষত্র

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত