Ajker Patrika

‘৫ শতাংশের বেশি নারী প্রার্থী দিতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৫৫
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ বিষয়ক অংশীজন সংলাপে বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ বিষয়ক অংশীজন সংলাপে বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক বাধা ও প্রেক্ষাপটের কারণে নির্বাচনে বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে, বিশেষ করে নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা—বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন। মনোনয়ন আদায় করে নিতে নারীরা সহিংসতার পথ বেছে নেন না। এ কারণেও তাঁদের মনোনয়নের সংখ্যা কম।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ বিষয়ক অংশীজন সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন এই সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, যেকোনো নারী ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দলের নারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই ইস্যু নিয়ে কথা বলতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারী নেত্রীদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেলিমা রহমান বলেন, তিনটা ওয়ার্ডের জন্য একজন নারীকে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু তাঁর কোনো কর্মকাণ্ড থাকে না। এই বৈষম্যটা দূর করতে হবে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ৫ শতাংশের বেশি নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সহিংসতাপ্রবণ পুরুষ প্রার্থীদের জন্য তা সম্ভব হয়নি বলে জানান দলটির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির সদস্য রাশেদা বেগম হীরা। তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অসম্ভব জেন্ডার সংবেদনশীল মানুষ। উনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ৫ শতাংশের বেশি নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর ছিল। কিন্তু “জ্বালাও পোড়াও” আর অবাধ্য নেতাদের জন্য ছাড় দিতে হয়েছে।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, সমাজের ৯০ শতাংশ গালি নারীকেন্দ্রিক। আজকাল স্লোগানেও নারীকেন্দ্রিক গালি ব্যবহার হচ্ছে। নারীকে বিভিন্নভাবে বুলিং করা হচ্ছে। এগুলো নারীকে মানসিকভাবে পিছিয়ে রাখছে বলে জানান তিনি।

দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারীদের মনোনয়ন দিতে পারেনি বলে জানান দলটির রাজনৈতিক সম্পাদক ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র দেওয়ার আগে দলের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দলের নারী সদস্যদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তখন তাঁরা জানিয়েছেন, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নারী প্রার্থীদের লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত নয়। জামায়াতের এই নারী সদস্য জানান, তিনি ফরিদপুরের একটি আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এবার সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, নারীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে সংস্কার বেশি প্রয়োজন। নারীর প্রতিনিধিত্ব সংখ্যায় না হয়ে যদি যোগ্যতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে হয়, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সেই গুরুত্বটা অনুধাবন করতে পারে, তখনই সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন আসবে।

সংলাপে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, গণফোরাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গণমাধ্যম ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সিলেটে বিএনপি নেতা মানিক সেনাবাহিনীর হাতে আটক

আজকের রাশিফল: আপনার স্পষ্ট কথা কারও বুক ফুটা করে দিতে পারে, পকেট সামলান

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেল অভিবাসন পুলিশ

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

পরিচালক পদ থেকে কেন নাজমুলকে সরিয়ে দিতে পারেনি বিসিবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত