Ajker Patrika

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘মন জানালা’র আয়োজন

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৩০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘মন জানালা’। ৪০ পেরোনো নারীর মন, শরীর আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র ‘থেমে যাওয়া নয়, সময় এখন এগিয়ে যাবার’ শিরোনামে বিশেষ সেশনের আয়োজন করে। ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বিসিএস ক্যাডার, শিক্ষক, উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন পেশার ৭০ জনের বেশি নারী। তাঁদের মধ্য়ে কেউ দীর্ঘদিন সংসার সামলে এখন নিজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন। অনেকেরই সন্তান প্রতিষ্ঠিত, কেউ আবার সন্তানদের বিদেশে রেখে একা জীবনের নতুন অধ্যায় পার করছেন। অনুষ্ঠানে আসার কারণও সবার আলাদা। কেউ এসেছেন জীবনের এই সময়ে নিজের জন্য আলাদা একটি পরিচয় গড়ে তুলতে। কেউ নতুন বন্ধুর খোঁজে, যাঁদের সঙ্গে নির্দ্বিধায় নিজের কথা বলা যায়। আবার কেউ এসেছেন শুধু শুনতে—অন্য নারীদের গল্প, সংগ্রাম আর সাহসের কথা।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী নিজের কথার শুরুতেই বলেন, ‘আমি যদি সংগ্রাম না ভালোবাসতে পারি, তাহলে সুখী প্রজাপতি হব কীভাবে! এখানে অনেকেই আছেন, যাঁরা তাঁদের নিজেদের দক্ষতাকে ভেতরে চেপে রেখেছেন। এই মন জানালাটা আমাদের খুবই একান্ত। নিজের ক্ষেত্রে আমি আমার মনকে কখনোই বাধা দিই না। যখন আমার বয়স ৪০ হলো, তখন আমি আবার গান শুরু করি। এর আগে ১২ বছর গান করতে পারিনি।’

ফাহমিদা নবী বলেন, ‘যে তোমাকে গুরুত্ব দেয়, তুমিও তাকেই গুরুত্ব দাও। কিন্তু সবাইকে ভালোবাসতে হবে। কখনো রাগ করবেন না। আল্লাহ আমাদের সুন্দর হাসি উপহার দিয়েছেন। সোজা পথেই হাঁটব। নিজেকে নিয়েই চলব। নিজের জন্য বাঁচতে হবে।’

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পরিচিত মুখ অভিনেত্রী দীপা খন্দকার এসেছিলেন সবার কথা শুনতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের একেকটা সময় একেক দায়িত্বের। প্রত্যেকটা বয়সের আলাদা কাজ আছে। সেই কাজটা খুঁজে বের করতে হবে। এখন আপনাদের সবার যে বয়স, সেটা নিজেকে সময় দেওয়ার। নিজেকে খুশি রাখতে যা করা দরকার করবেন। হাসবেন, সাজবেন, ঘুরবেন। স্বামী-সন্তানকে অনেক সময় দিয়েছেন, দেবেন; তবু এর বাইরে গিয়ে কীভাবে নিজেকে ভালো রাখা যায়, তা ভাবতে হবে। শরীরকে সুস্থ রাখাটা নিজের কাছে। আবার কষ্টটাও একান্ত আপনার। এ কারণে যেকোনোভাবেই হোক নিজেকে ভালো রাখতে হবে। মনের যত্ন নিতে হবে। মন খুলে হাসবেন, গল্প করবেন।’

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গৃহিণীদের ব্যাপারে দীপা খন্দকার বলেন, ‘গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেন। তাঁরা ঘরকে জীবন্ত রাখেন। সংসারকে সচল রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।’

একজন গৃহিণী মায়ের সঙ্গে আসেন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়ে রামিসা। মাকে সাহস দিতেই তাঁর আসা। এমন গৃহিণী আরও অনেকেই এসেছেন। অনুষ্ঠানে সবার উদ্দেশে রামিসা বলেন, ‘গৃহিণী হিসেবে পরিচয় দেওয়াটা গর্বের বিষয়। আজ এসেছি মায়ের জন্য। মাকে বলি, নিজের কথা ভাবো এখন। আমাদের কথা অনেক ভেবেছ। আজ যাঁরা এসেছেন, সবাইকে একই কথা বলব।’

উপস্থিত ছিলেন রেজুভা ওয়েলনেসের ওয়েলনেস অ্যান্ড বিউটি কনটেস্ট কনসালট্যান্ট ডা. তাওহিদা রহমান ইরিন। তিনি বলেন, ‘৪০ বছর চ্যালেঞ্জ না। এটা অভিজ্ঞতা। প্রতিটি কাজ আনন্দ নিয়ে করতে হবে। নিজেকে প্রতিদিন একটু হলেও সময় দিতে হবে।’

‘দিন শেষে প্রশ্ন করতে হবে, নিজেকে সময় দিতে পেরেছি কি না? ঠিকমতো খেয়েছি কি না? শরীরচর্চা করতে হবে। সিঁড়ি ব্যবহার করা, ছাদে হাঁটা, সম্ভব হলে বাইরে হাঁটতে যাওয়া। এগুলো করতে হবে।’ যোগ করেন তিনি।

মন জানালার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৌসুমী মৌ বলেন, ‘৪০ হচ্ছে পরিণত বয়স। এই সময়ে মানুষ নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। আমাদের মূল লক্ষ্য এই বয়সের নারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং নিজেদের কথা বলার একটি নিরাপদ পরিসর গড়ে তোলা।’

প্রতিষ্ঠানটির আরেক প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিবুল করিম জানান, নিজের মাকে দেখে এই প্ল্যাটফর্ম শুরু করার অনুপ্রেরণা পান। এই ছোট ছোট উদ্যোগ একটা সময় বড় কিছু হবে বলে বিশ্বাস। উদ্দেশ্য হলো, সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে বড় কিছু করা। একে অপরের পাশে থাকা। তিনি জানান, একে অপরের পাশে থাকতে চান। মন জানালাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত