
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি সাহিত্যকে অনেকেই নিম্নমানের বলে মনে করেন। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, বাস্তবে পাঠকেরা অনেক সময় মানুষের লেখা গল্পের চেয়ে এআই-নির্মিত গল্পই বেশি পছন্দ করছেন। শুধু তা-ই নয়, কোন গল্প মানুষ লিখেছেন আর কোনটি এআই তৈরি করেছে—তা শনাক্ত করতেও তাঁরা প্রায় হিমশিম খাচ্ছেন।
নিও সায়েন্টিস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিডনি সিয়ার্স ও ডিনা ওয়েইসবর্গ ১ হাজার ৬৮২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে গবেষণাটি করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়স, লিঙ্গ ও বর্ণের ক্ষেত্রে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে ছোটগল্প পড়তে দেওয়া হয়। অর্ধেক পড়েন সাহিত্য সাময়িকী থেকে নেওয়া মানুষের লেখা গল্প আর অন্যরা পড়েন ChatGPT 4.0 দিয়ে তৈরি গল্প।
এরপর অংশগ্রহণকারীদের আরও দুটি দলে ভাগ করা হয়। গল্পটি বাস্তবে মানুষ বা এআই—যে-ই লিখে থাকুক, একদলকে বলা হয়, সেটি মানুষ লিখেছেন এবং অন্যদলকে বলা হয় এআই লিখেছে।
ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ। এআইয়ের লেখা গল্প পাঠকারীরা গল্পের গুণমান গড়ে ১ দশমিক ৫৪ নম্বর দেন, যেখানে মানুষের লেখা গল্পের ক্ষেত্রে গড় নম্বর ছিল শূন্য দশমিক ৯৭। অর্থাৎ, এআইয়ের গল্পকে পাঠকেরা তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয়ও মনে করেছেন। তবে গল্পটি মানুষ লিখেছেন বলে জানানো হলে বাস্তবে সেটি যে-ই লিখে থাকুক, মূল্যায়ন সামান্য বেড়ে যায়।
গবেষকেরা পরে আরও দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মানুষ ও এআইয়ের লেখা গল্প আলাদা করে শনাক্ত করতে বলেন। প্রথম পরীক্ষায় মাত্র ৩৯ শতাংশ সঠিক উত্তর দেন। দ্বিতীয় পরীক্ষায় সঠিকতার হার ছিল ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ, মানুষের সক্ষমতা মোটামুটি অনুমানের পর্যায়েই ছিল।
ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লেয়ার হার্ডেকার বলেন, ‘মানুষকে এখন অস্বস্তিকর একটি বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে—ছোটগল্প লেখার ক্ষেত্রে আমরা হয়তো রোবটের চেয়ে স্বভাবতই ভালো নই।’ তাঁর মতে, এআই যখন দ্রুত উন্নত হচ্ছে, একসময় সেটি শেক্সপিয়ারের মতো মানসম্পন্ন লেখাও তৈরি করতে পারলে মানুষের সৃষ্টিশীলতার অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠবে।
তবে গবেষণার ফল নিয়ে কিছুটা সতর্কতার কথাও বলেছেন রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রডনি জোন্স। তাঁর মতে, গবেষণায় মানুষের লেখা গল্প সাহিত্য সাময়িকী থেকে নেওয়া হয়েছিল, যা সাধারণ পাঠকের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। বিপরীতে এআইয়ের লেখা ছিল সহজপাঠ্য ও ‘ভ্যানিলা’ ধরনের।
গবেষক ওয়েইসবর্গও মনে করেন, এআইয়ের সৃষ্টিশীলতা মানুষের সৃষ্টিশীলতার মতো হবে না। তবে তা এমন শিল্পকর্ম তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে, যার নিজস্ব শিল্পমূল্য থাকবে—যদিও সেই মূল্যায়নের মানদণ্ড হয়তো মানুষের সৃষ্টিশীলতার চেয়ে ভিন্ন হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা নেওয়ার সম্ভাব্য চেষ্টা শনাক্ত করে তা প্রতিহত করার দাবি করেছে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিক’। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে’ বলা হয়েছে, তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে এমন কিছু কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা হয়েছে, যা জৈব
১১ মিনিট আগে
আগামী অক্টোবর মাস থেকে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ৫ কোটি নতুন ব্যবহারকারীকে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ডাটা সংযোগসহ স্মার্টফোনের আওতায় আনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য আমাদের রয়েছে, তা অর্জনে এআইয়ের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
১ দিন আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ১০ শতাংশের বেশি বলে মনে করেন অ্যানথ্রপিকের শীর্ষস্থানীয় এআই নিরাপত্তা গবেষক ইভান হিউবিঙ্গার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
১ দিন আগে