Ajker Patrika

মানুষের চেয়ে এআইয়ের লেখা গল্পই বেশি পছন্দ করলেন পাঠকেরা: গবেষণা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৫৪
মানুষের চেয়ে এআইয়ের লেখা গল্পই বেশি পছন্দ করলেন পাঠকেরা: গবেষণা
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি সাহিত্যকে অনেকেই নিম্নমানের বলে মনে করেন। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, বাস্তবে পাঠকেরা অনেক সময় মানুষের লেখা গল্পের চেয়ে এআই-নির্মিত গল্পই বেশি পছন্দ করছেন। শুধু তা-ই নয়, কোন গল্প মানুষ লিখেছেন আর কোনটি এআই তৈরি করেছে—তা শনাক্ত করতেও তাঁরা প্রায় হিমশিম খাচ্ছেন।

নিও সায়েন্টিস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিডনি সিয়ার্স ও ডিনা ওয়েইসবর্গ ১ হাজার ৬৮২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে গবেষণাটি করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়স, লিঙ্গ ও বর্ণের ক্ষেত্রে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে ছোটগল্প পড়তে দেওয়া হয়। অর্ধেক পড়েন সাহিত্য সাময়িকী থেকে নেওয়া মানুষের লেখা গল্প আর অন্যরা পড়েন ChatGPT 4.0 দিয়ে তৈরি গল্প।

এরপর অংশগ্রহণকারীদের আরও দুটি দলে ভাগ করা হয়। গল্পটি বাস্তবে মানুষ বা এআই—যে-ই লিখে থাকুক, একদলকে বলা হয়, সেটি মানুষ লিখেছেন এবং অন্যদলকে বলা হয় এআই লিখেছে।

ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ। এআইয়ের লেখা গল্প পাঠকারীরা গল্পের গুণমান গড়ে ১ দশমিক ৫৪ নম্বর দেন, যেখানে মানুষের লেখা গল্পের ক্ষেত্রে গড় নম্বর ছিল শূন্য দশমিক ৯৭। অর্থাৎ, এআইয়ের গল্পকে পাঠকেরা তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয়ও মনে করেছেন। তবে গল্পটি মানুষ লিখেছেন বলে জানানো হলে বাস্তবে সেটি যে-ই লিখে থাকুক, মূল্যায়ন সামান্য বেড়ে যায়।

গবেষকেরা পরে আরও দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মানুষ ও এআইয়ের লেখা গল্প আলাদা করে শনাক্ত করতে বলেন। প্রথম পরীক্ষায় মাত্র ৩৯ শতাংশ সঠিক উত্তর দেন। দ্বিতীয় পরীক্ষায় সঠিকতার হার ছিল ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ, মানুষের সক্ষমতা মোটামুটি অনুমানের পর্যায়েই ছিল।

ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লেয়ার হার্ডেকার বলেন, ‘মানুষকে এখন অস্বস্তিকর একটি বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে—ছোটগল্প লেখার ক্ষেত্রে আমরা হয়তো রোবটের চেয়ে স্বভাবতই ভালো নই।’ তাঁর মতে, এআই যখন দ্রুত উন্নত হচ্ছে, একসময় সেটি শেক্‌সপিয়ারের মতো মানসম্পন্ন লেখাও তৈরি করতে পারলে মানুষের সৃষ্টিশীলতার অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠবে।

তবে গবেষণার ফল নিয়ে কিছুটা সতর্কতার কথাও বলেছেন রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রডনি জোন্স। তাঁর মতে, গবেষণায় মানুষের লেখা গল্প সাহিত্য সাময়িকী থেকে নেওয়া হয়েছিল, যা সাধারণ পাঠকের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। বিপরীতে এআইয়ের লেখা ছিল সহজপাঠ্য ও ‘ভ্যানিলা’ ধরনের।

গবেষক ওয়েইসবর্গও মনে করেন, এআইয়ের সৃষ্টিশীলতা মানুষের সৃষ্টিশীলতার মতো হবে না। তবে তা এমন শিল্পকর্ম তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে, যার নিজস্ব শিল্পমূল্য থাকবে—যদিও সেই মূল্যায়নের মানদণ্ড হয়তো মানুষের সৃষ্টিশীলতার চেয়ে ভিন্ন হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত