Ajker Patrika

দেশে এক বছরে স্টারলিংকের গ্রাহক ৫ হাজার

অর্চি হক, ঢাকা 
দেশে এক বছরে স্টারলিংকের গ্রাহক ৫ হাজার
ফাইল ছবি

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর এক বছরে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক মাত্র পাঁচ হাজারের কিছু বেশি গ্রাহক টানতে পেরেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই করপোরেট গ্রাহক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের স্টারলিংক নিয়ে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রচলিত ইন্টারনেট বাজারে স্টারলিংক এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্টারলিংক একটি ব্যয়বহুল সেবা। বাংলাদেশে এটি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের এমন দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া, যেখানে এখনো নির্ভরযোগ্য ব্রডব্যান্ড বা মোবাইল নেটওয়ার্কের কভারেজ নেই কিংবা সীমিত।’

বাংলাদেশে নন-জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট অরবিট সেবা দিতে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) লাইসেন্স পায় স্টারলিংক। এরপর ওই বছরের মে মাসে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত দেশে স্টারলিংকের গ্রাহকসংখ্যা ৫ হাজার ৩৮৯ জন।

বাংলাদেশে স্টারলিংকের অফিশিয়াল রিসেলার হিসেবে কাজ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বলেন, ‘মূলত যারা একটু ভালো মানের সেবা চাচ্ছেন এবং যারা একটু উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড চাচ্ছেন, তারাই আমাদের কাস্টমার।’ বিএসসিএল স্টারলিংকের কিট যারা নিয়েছেন, তারা সবাই করপোরেট গ্রাহক বলে জানান তিনি।

প্রযুক্তিভিত্তিক অলাভজনক গণমাধ্যম রেস্ট অব ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে স্টারলিংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আফ্রিকার ২০টির বেশি দেশে স্টারলিংক রয়েছে। কেনিয়াতে স্টারলিংক চালু হয় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। প্রথম ২০ মাসে তাদের গ্রাহকসংখ্যা ছিল ১৭ হাজারের বেশি। নাইজেরিয়ায় স্টারলিংকের যাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সেখানে স্টারলিংকের সক্রিয় গ্রাহক ছিল সাড়ে ৫৯ হাজারের বেশি।

স্টারলিংক বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আবাসিক প্যাকেজের মাসিক মূল্য ৬ হাজার টাকা, আর আবাসিক লাইট ৪ হাজার ২০০ টাকা। ব্যবসা সংক্রান্ত কাজের জন্য মাসে ৪ হাজার ৬০০ টাকা থেকে শুরু। সমুদ্রে ইন্টারনেট সেবার জন্য মাসে পরিশোধ করতে হয় ৩২ হাজার টাকা। এ ছাড়া সেটআপ যন্ত্রপাতির জন্য ৪৭ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়।

স্টারলিংকের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায়ই মোবাইল নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং অধিকাংশ শহর ও জনবহুল এলাকায় ব্রডব্যান্ড পৌঁছে গেছে। ফলে স্টারলিংকের মূল বাজার হবে এমন স্থান, যেখানে কোনো ধরনের ব্রডব্যান্ড পৌঁছায় না। বিশেষ করে, বাস, ট্রেন এবং অন্যান্য গণপরিবহনে স্টারলিংক চালু করা গেলে এর গ্রাহক বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

এই প্রযুক্তিবিদের মতে, স্টারলিংক দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা বা মোবাইল অপারেটরদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠবে না। কারণ, যেসব এলাকায় বিকল্প সংযোগ রয়েছে, সেখানে তুলনামূলক ব্যয়বহুল স্টারলিংক ব্যবহারের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত