Ajker Patrika

‘২৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আরও খেলা উচিত ছিল’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৮: ২৩
‘২৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আরও খেলা উচিত ছিল’
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: ফাইল ছবি

আইসিসি ইভেন্ট তো বটেই। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আগেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৫ ওয়ানডে, ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাশাপাশি টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, রাকিবুল হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুবরা। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ২০০৮ সালে ওয়ানডে সিরিজের পর এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত মুখোমুখি হলেও টেস্টে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ হয় না বললেই চলে। টেস্টে সবশেষ তারা খেলেছে ২০১৭ সালে। ১৩ আগস্ট ডারউইনে ফুরোচ্ছে তাদের ৯ বছরের অপেক্ষা। তার চেয়েও বড় কথা অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট খেলেছে ২০০৩ সালে। ২৩ বছর পর তাসমান পাড়ের দেশটিতে শান্তর নেতৃত্বে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

যে দল নিয়ে বাংলাদেশ এবার অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে, সেই দলের কোনো ক্রিকেটারেরই অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এটা কতটা রোমাঞ্চকর—আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের উত্তরে শান্ত বলেন, খুবই ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট খেলতে পারছি। আমার মতে গত ২৩ বছরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল।’

টেস্টে এখন পর্যন্ত ছয়বারের দেখায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ কেবল একবার জিতেছে। সেই জয়টাও এসেছে ২০১৭ সালে মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে। বাকি পাঁচ ম্যাচে অজিদের সঙ্গে ন্যুনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারেনি বাংলাদেশ। এমনকি ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির পর এই সংস্করণে প্রথম জয় বাংলাদেশ পেয়েছে ২০০৫ সালে। প্রথম ২৫ বছরে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে বাংলাদেশের ছিল ২৩ জয়।

টেস্টে নিজেদের পারফরম্যান্সের দৈন্যতাও তুলে ধরেছেন শান্ত। তাঁর মতে ভালো খেললে অস্ট্রেলিয়া নিয়মিত নিমন্ত্রণ করত বাংলাদেশ দলকে। টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘যদিও আমরা টেস্টে ভালো খেলিনি। আমরা যদি আরও ভালো খেলতে পারতাম, তাহলে হয়তো অস্ট্রেলিয়াতে আরও বেশ কিছু টেস্ট খেলার সুযোগ হতো আমাদের।’

২৩ বছর আগে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন দলে থাকা সুমন আজ বিসিবি প্রধান নির্বাচক। সেই দুই টেস্টেই বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। ডারউইনের টেস্ট শেষ হয়েছিল তিন দিনে আর কেয়ার্নসে বাংলাদেশ হেরেছিল চার দিনেই। সুমন কদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সম্মান নিয়ে আসতে চান। বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও অস্ট্রেলিয়া সিরিজ হবে বলে সংবাদমাধ্যমে কদিন আগে জানিয়েছিলেন। নান্নু এক সময় ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক।

শান্ত যেন আজ সুমন-নান্নুদের সুরেই সুর মিলিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্যটা থাকবে, যেটা আমাদের নির্বাচকেরাও বলেছেন যে কীভাবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। সম্মানটা অর্জন করতে পারি। আমার মনে হয় সেখানে যদি আমরা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই তারা ভবিষ্যতে ডাকবে। অবশ্যই প্রত্যেকটা ম্যাচই জেতার জন্য আমরা খেলি। কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, কতটুকু তাদেরকে কঠিন সময় দিতে পারি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা এই ধরনের দুইটা ম্যাচ খেলতে পারি, অবশ্যই ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’

ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল। আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত