
গণভোটে একাধিক বিষয় একসঙ্গে উপস্থাপন করে ভোটারদের কার্যত ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
আজ মঙ্গলবার জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করাকে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাব তুলেন বিরোধীদলীয় নেতা মোহাম্মদ শফিকুর রহমান। তা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে একপর্যায়ে গণভোট নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমাদের জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি। ঠিক আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম, ওরা যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম, তেলের দাম কত? যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই আচারণটা দেখতে পাচ্ছি।’
জুলাই সনদের সঙ্গে কোনো সমস্যা না থাকলে তো প্রক্রিয়া (বাস্তবায়ন) নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করে পার্থ বলেন, ‘আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন? আমাদের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) আগে থেকেই দেওয়া। আপনারা সে সময় বিপ্লবী সরকার করেন নাই কেন? সাধারণ সরকারে গেলেন কেন? অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকার করতেন। ছিঁড়ে ফেলে দিতেন সংবিধানকে। নতুন করে সংবিধান বানাতেন। পুরানো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন। এটা আসলে হয় না।’
৭২ এর সংবিধান তৈরির সময়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করে পার্থ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমাতে যেয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিপরিষদের ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছি। এ কারণে আমরা অনুধাবন করেছি পরিবর্তনের। আমরা মনে করি, পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে দাবি করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আপনারা জনগণকে বাধ্য করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা গণভোটে চারটি বিষয় দিয়েছেন। কিন্তু কোনো ভোটার যদি একটি বিষয়ে একমত না হয়, তবে সে কী করবে? হ্যাঁ-তে ভোট দেবে নাকি না-তে? আপনারা তো ভোটারদের বাধ্য করেছেন। সনদের বাকি বিষয়গুলো কেন গণভোটে দিলেন না?’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে শ্রদ্ধা করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। এখানে আমার ভাইয়েরা অনেক বেশি কষ্ট করেছে। আমরা জেলে গিয়েছি, আন্দোলনে ছিলাম, ২০ দলে ছিলাম, চার দলে ছিলাম, অনেক আগে থেকে। আমরা চাই না, কিন্তু একটা প্রক্রিয়া, সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দাও। সংবিধানকে ছুড়ে ফেলব কেন? সংবিধান কি মনে করায় দেয়— এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? আমি সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলে দেব? এই সংবিধান দিলে গাত্রদাহ কেন হবে? আমি তো পরিবর্তন করতে পারি, কেন ছুড়ে ফেলে দেব।’
এনসিপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এনসিপি যে আমাদের দল, আমাদের হিরোরা, যাঁরা যুদ্ধ করেছেন, যাঁরা এখানে আছেন, তাঁদেরকেও বলে দিই, আপনারা জেন-জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যায়েন না। এনসিপি ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে আসবেন।’

সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের খুব গরম বিরোধী দল ভাববেন না—যৌক্তিক বিষয় উপেক্ষা হলে ওয়াকআউটের সুযোগ থাকবে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।’
২০ ঘণ্টা আগে
সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করা হলে তা বিবেচনা করবে বিরোধী দল বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাঁর দল।
১ দিন আগে
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
১ দিন আগে
সরকারের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আপনাদের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারলেন না, অপমানিত হয়ে ফিরে আসলেন; জাতির কাছে ব্যাখ্যা দিতে পারেন নাই।’
২ দিন আগে