Ajker Patrika

ফেসবুকে সমালোচনার পর প্রত্যাহার হচ্ছেন এসপিরা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ২০: ২৮
ফেসবুকে সমালোচনার পর প্রত্যাহার হচ্ছেন এসপিরা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা ও বিতর্কের পর সর্বশেষ মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়াজুল ইসলামেকে নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক সমালোচনা শুরু হয়েছিল। এর ঠিক দুই দিনের মাথায় তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫ মে দেশের ১২ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার পদায়ন করা হয়েছিল। ওই পদায়নের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের আগে একইভাবে সরানো হয় পঞ্চগড় ও ফেনীর এসপিকেও।

উল্লেখ্য, ৫ মে দেশের ১২টি জেলায় পুলিশ সুপার পদে রদবদল করা হয়েছিল। ওই আদেশে মাহবুব আলম খানকে ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়।

তবে তাঁর পদায়নের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা অবস্থায় ফেনীর এসপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

এই ঘটনায় ৭ মে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। রিটে তাঁর নিয়োগ বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত ও পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে রিটটি করেন।

এদিকে পঞ্চগড়ের এসপি মিজানুর রহমানকে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণ আচরণের অভিযোগে অতীতে সরকার তাঁকে একবার শাস্তি দিয়েছিল। ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়। শাস্তি হিসেবে তাঁর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছিল।

এই কর্মকর্তাকে আবার পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মিজানুর রহমান বিসিএস পুলিশের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তাঁর বাড়ি বরিশাল জেলায়। পঞ্চগড়ে যোগদানের আগে তিনি ঢাকায় স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন-১-এ সহ-অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ১১ মে তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়।

এর পরপরই ১৩ মে মৌলভীবাজারের এসপি রিয়াজুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই গতকাল শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তাঁকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা ওই আদেশে বলা হয়, ‘আপনি মৌলভীবাজার জেলার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে ১৬ মে শনিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকায় রিপোর্ট করবেন।’ তবে ওই আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসপি রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এভাবে জেলা পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে পুরো বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে ওঠে। তাঁদের মতে, নিয়োগের আগে কর্মকর্তাদের অতীত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো কর্মকর্তাই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করা অনেক পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যেও অস্বস্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত