ঠাকুরগাঁওয়ে সাদা পোশাকে দায়িত্বরত এক পুলিশ কনস্টেবলকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, আসামিরা ‘আজকে পুলিশ মেরে দুপুরে ভাত খাব’ বলে তাঁর ওপর নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়েছে উল্লেখ করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য। এ ছাড়াও লক্ষাধিক টাকা চাঁদা দাবি ও জোরপূর্বক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
আজ শনিবার এ মামলায় অভিযুক্ত ৫ জনকেই গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও থানা–পুলিশ। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পুলিশ কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩ / ১৮৬ / ৩৪১ / ৩৩৩ / ৩৫৩ / ৩৪২ / ৩৩২ / ৩৬৫ / ৩৮৫ / ৫০৬ / ১১৪ / ৩৪ ধারায় সরকারি কাজে বাধা, অপহরণ, অবরুদ্ধ করে চাঁদা দাবি ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নম্বর-২৫) দায়ের করা হয়েছে।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে কোনো গভীর রহস্য বা আর্থিক লেনদেনের বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসামিদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সোহেল রানা (৩২), মো. বিপ্লব ইসলাম (২৭), মো. নাজমুল হোসেন ওরফে রাব্বি (২২), মো. সাকিব খান (২৬) ও মো. নাইম আহাম্মেদ (২৮)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার কনস্টেবল মো. আজিজুল ইসলাম সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তথ্য ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
তিনি শহরের গোয়ালপাড়া (পুরোনো ওয়ালটন সার্ভিস মোড়) এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার ও অটোরিকশা নিয়ে একদল যুবক তাঁর পথরোধ করে। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবকেরা তাঁকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারের ভেতর টেনেহিঁচড়ে তুলে নেয় এবং চড়-থাপ্পড় মেরে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে একটি দোকানে নিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
সাদা পোশাকে তথ্য সংগ্রহের কারণে আসামিরা তাঁকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এই থানায় থাকতে হলে আমাদের চাঁদা দিতে হবে।’ একপর্যায়ে জোরপূর্বক তিনটি ১০০ টাকা মূল্যমানের ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে ঘটনার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়, কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে এক আসামি অন্যদের হুকুম দিয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘এই বেটা পুলিশকে ধর। আজকে পুলিশ মেরে দুপুরে ভাত খাব।’ এরপর দুজন (আসামি) তাঁর গালে চড় থাপ্পড় দেন ও দোকানে থাকা শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে দুই পায়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। ভুক্তভোগী চিৎকার করলে আসামিরা তাঁর মুখ চেপে ধরে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
পরে ভুক্তভোগী ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা নেন। প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ ও আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের কারণে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এজাহারনামীয় পাঁচ আসামির সবাইকে আমরা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাঁদের কড়া নিরাপত্তায় ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
এসআই হারুন অর রশিদ আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা অর্থনৈতিক লেনদেনের কোনো বিষয় থাকতে পারে। আসামিরা কেন একজন পুলিশ সদস্যের ওপর এতটা চড়াও হলো, তা বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এ জন্য খুব দ্রুতই আদালতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।’
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘সরকারি পোশাক ছাড়া তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্যের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা মাঠে নামি এবং প্রধান পাঁচ আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করি।’

কিশোরগঞ্জের ইটনায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর আরিক মিয়া নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালীবাড়ি চরের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কিশোরটির গলায় ইট ও কোমরে বালুর বস্তা বাঁধা ছিল।
১ ঘণ্টা আগে
পেট্রল ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় জড়িত স্বামী সাজু খানকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মানববন্ধন হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বীথির পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
১ ঘণ্টা আগে
সাব্বির বিন শামস ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা রয়েছে। আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দলটির সহযোগী এবং অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের অভিযুক্ত করে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা মাজারের শিরনি, লাল কাপড়, মোমবাতি রাখার স্থানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপকরণ ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলে। এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে