Ajker Patrika

‘পদ্মা ব্যারাজ নিজস্ব অর্থায়নে, তিস্তার বেলায় কেন ভারত-চীনের দ্বারস্থ’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
‘পদ্মা ব্যারাজ নিজস্ব অর্থায়নে, তিস্তার বেলায় কেন ভারত-চীনের দ্বারস্থ’
‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে জনতার দলের অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারাজ করা যাবে, আর যখন তিস্তা প্রসঙ্গ আসে, তখন কেন ভারত বা চীনের দ্বারস্থ হতে হবে—সরকারের কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামীম কামাল। আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে জনতার দলের অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মো. শামীম কামাল বলেন, ‘সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তিস্তা নিয়ে অনেক আবেগঘন বক্তৃতা দেওয়া হয়েছে। অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা দেখলাম যে—পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে; যেখানে আমাদের সন্দেহ, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিস্তাপাড় ও উত্তরবঙ্গকে বাংলাদেশের রুটির ঝুড়ি বলা হয় উল্লেখ করে জনতার দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা মহাপরিকল্পনা চাই না, পরিকল্পনাই দেন। তিস্তা নিয়ে এত দিন ধরে আলোচনা, এত প্রতিশ্রুতি, সেখানে তিস্তাকে বাদ দিয়ে হঠাৎ করে পদ্মা ব্যারাজের প্রশ্ন আসে কীভাবে এবং নিজস্ব অর্থায়নে?’

‘আমরা পদ্মা ব্যারাজের বিরোধিতা করছি না’—মন্তব্য করে শামীম কামাল বলেন, ‘পদ্মাপাড়ের সাত কোটি মানুষ উপকৃত হোক, সেটা চাই; কিন্তু তিস্তাকে কেন মানুষের ওপরে ছেড়ে দিয়ে, অন্য দেশের মানে ইচ্ছার ওপরে ঠেলে দিয়ে আপনারা পদ্মার প্রজেক্টের মতো প্রজেক্ট গ্রহণ করছেন এবং নিজস্ব অর্থায়নে? আর যখন তিস্তা প্রসঙ্গ আসে, তখন কেন ভারত বা চীনের কাছে দ্বারস্থ হতে হবে? সুতরাং, এখানে একটা সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বা টালবাহানার সুযোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে প্রধান অর্থকরী ফসল তামাক, ভুট্টা, আলু ও বাদাম—উল্লেখ করে শামীম কামাল বলেন, এই বছর তামাক নিয়ে হরিলুট চলছে। এখন অভিমানী কৃষকেরা তামাক জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের ঘর-সংসার, জীবন-জীবিকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। কেননা, ৫ আগস্টের পরে এই তামাককে কেন্দ্র করে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল চাঁদাবাজি শুরু করেছে। একবার চাঁদা নেয় কৃষকের কাছ থেকে, আরেকবার চাঁদা নেয় তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে।

শামীম কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষক তামাক বিক্রি করতে পারছে না, আলু, ভুট্টা বিক্রি করতে পারছে না। যখন সারের প্রয়োজন, তখন সার নাই; যখন জ্বালানির প্রয়োজন, তখন আপনার পেট্রল-ডিজেল নাই, এখন পণ্য উৎপাদিত হয়েছে, সে পণ্য আপনারা কিনছেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জনতার দলের মহাসমন্বয়ক ও মুখপাত্র ডেল এইচ খান, মহাসচিব মো. আজম খান প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত