Ajker Patrika

অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট চরমে: জামায়াত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২২: ১০
অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট চরমে: জামায়াত

দেশে ব্যাপক বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়লেও সংকট নিরসনে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া জনগণের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতির কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত ৯ আগস্ট থেকে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। অর্থাৎ কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে। সরকারের এমন অব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি ও সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশে জ্বালানিসংকট বেড়ে যাওয়ায় ক্রমান্বয়ে জনরোষ বাড়ছে। ইতিমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদর দপ্তরে বুধবার চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটি সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার চিত্রকে তুলে ধরে।’

জামায়াতের এই নেতা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছে ৪৫–৫৫ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ার ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫–৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে এমন চিত্র দেশের সর্বত্র। এমতাবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা।’

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংকটের কারণে জনরোষও বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চিঠি দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংকট মোকাবিলায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, শিল্প খাতে গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো, তেল পাচার রোধ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়ানোর দাবি জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত