Ajker Patrika

হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারতে যেতে পারবেন না: নাহিদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ২৫
হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারতে যেতে পারবেন না: নাহিদ
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কীভাবে হবে ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে নতুন করে নির্ধারিত হবে, তা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাহিদ এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কীভাবে হবে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে নতুনভাবে নিরূপণ হবে—এটা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না। তারেক রহমানের ভারত সফর করা একেবারেই অনুচিত হবে। বাংলাদেশের জনগণ এটা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

দিল্লিতে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনকে শুধু তাদের বক্তব্য হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনেই দিল্লিতে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘ঢাকায় যদি ভারতের সেভেন সিস্টার্সের কোনো স্বাধীনতাকামী সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করে এবং বাংলাদেশ সরকার বলে, ‘‘এর দায় আমাদের নয়, আমরা জানি না কীভাবে হয়েছে’’—পৃথিবীর কেউ কি সেটা বিশ্বাস করবে? দিল্লিতে যে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, সেটিও ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনেই হয়েছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, দিল্লি থেকে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা যা বলছে, সেটিকে শুধু শেখ হাসিনার বক্তব্য হিসেবে না দেখে ভারতের বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

সম্প্রতি তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নাহিদ। তিনি বলেন, ওই সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আসামিদের প্রত্যর্পণ ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় ভারত সরকারের দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া ও ভারতীয় পক্ষের কাছে জবাবদিহি চাওয়া উচিত ছিল।

নাহিদ বলেন, কেন এই ধরনের সংবাদ সম্মেলন হলো, কীভাবে এটি সংগঠিত হলো—এর জবাবদিহি চাইতে হবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধেই সংবাদ সম্মেলনটি হয়েছে।

ভারতের অবস্থানকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বলতে চায়, তাহলে প্রথমে শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মীমাংসা ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনাকে ও ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত পাঠিয়ে, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মীমাংসা করে, বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পর বন্ধুত্বের কথা বলতে হবে।

এনসিপির এ নেতা বলেন, সরকারকে ভারতের প্রতি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এ বিষয়গুলোতে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত