রাজশাহীর চারঘাটের সারদা বাজারে মেসার্স আল-আমিন সাইকেল স্টোর অ্যান্ড হার্ডওয়্যার নামের এক দোকানের মালিক আল-আমিন আলী। গত ২৬ এপ্রিল দোকানে অবস্থানকালে তাঁর ওপর একবার হামলা হয়। এরপর চিকিৎসা নিতে তিনি যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে আবারও দ্বিতীয় দফায় তাঁকে আক্রমণ করা হয়। তখন তাঁর দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রামদার কোপে। এই ‘মহৎ’ কাজটি দলবল নিয়ে সম্পন্ন করেন স্থানীয় যুবদল নেতা মাজিদুল ইসলাম মিন্টু। তিনি সারদা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।
বীরদর্পে এই কাণ্ড ঘটানোর পর ফোনকলে কারণটা তিনি নিজেই জানিয়েছেন এভাবে—‘আল-আমিন আমার ভাগনেকে মেরেছিল। তাই হাসপাতালে গিয়ে তাকে মারতে গিয়ে রামদার আঘাতে দুটি আঙুল পড়ে গেছে। এটা নিয়ে সবাই মিলে এত ফোন করলে হয়!’
কী দারুণ! যেন প্রতিশোধপরায়ণ কোনো নায়কের সিনেমার সংলাপ! আল-আমিন যদি মিন্টুর ভাগনেকে কোনো কারণে মেরেই থাকেন, তাহলে তিনি থানায় না গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন কেন? তিনি কি বোঝাতে চান ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি করে যা খুশি তা করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন?
আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিরা পলাতক। ভয়াবহ ব্যাপার হলো, ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মামলা করার পরও অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান আল-আমিন। একটি সভ্য রাষ্ট্রে কোনো নাগরিক যদি বিচার চাওয়ার কারণে আরও আতঙ্কে দিন কাটান, তবে সেটি শুধু প্রশাসনের ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতিও প্রশ্ন তোলে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী অভিযুক্তরা আত্মগোপনে আছেন। কিন্তু একই সময়ে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির মোবাইল ফোনটি সচল। ফোনেই তিনি ঘটনার স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন! অথচ তিনি এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত মুক্ত জীবনযাপন করছেন। মিন্টু এখনো নির্বাচিত কোনো পদে নেই। তবু এলাকায় তাঁর প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—অপরাধীরা কি সত্যিই ধরাছোঁয়ার বাইরে, নাকি রাজনৈতিক পরিচয়ই তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি স্থানীয় পর্যায়ে ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। এতে যেমন একটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিও মানুষের আস্থা কমে যায়। রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যদি তাদের দলে এ ধরনের সন্ত্রাসীদের পালতে থাকে আর এদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তাহলে জনগণ তো দলের দিকেই আঙুল তুলবে। কতজনের আঙুল কাটবেন মিন্টুরা? নিশ্চয়ই তাঁদের সংখ্যা সচেতন নাগরিকদের বিপরীতে নগণ্য।
চারঘাটের এই ঘটনা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় সমাজে এই বার্তাই প্রতিষ্ঠিত হবে—ক্ষমতার ছায়ায় থাকলে নৃশংস অপরাধ করেও পার পাওয়া যায়।

সংস্কৃতি বলতে আমরা অনেকেই কেবল গান, নাটক, নৃত্য কিংবা বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমকে বুঝে থাকি। অথচ সংস্কৃতির পরিধি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত, গভীর ও সুদূরপ্রসারী। একটি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ভাষা, বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, সামাজিক আচরণ, রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি—
২৪ মিনিট আগে
পরিবেশ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল ১৯৭২ সালে স্টকহোমে। এ সময়ই শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তার আর প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয় বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিল। সেই ভাবনা থেকে মানব পরিবেশ সম্মেলন পরিবেশ সুরক্ষার বৈশ্বিক ভিত্তি নির্মাণ করে। পরের বছরই ১৯৭৩ সালের ৫ জুন ‘একমাত্র পৃথিবী...
১ দিন আগে
ভর্তুকি সমন্বয়, লোকসান কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম একলাফে ১৫ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
১ দিন আগে
দেশে এখন একটি ভয়ংকর প্রবণতা ক্রমেই যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কোনো ব্যক্তি চুরির অভিযোগে ধরা পড়ছেন, কাউকে ডাকাত বলে সন্দেহ করা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেছেন কিংবা কোনো তুচ্ছ বাগ্বিতণ্ডায় কেউ জড়িয়ে পড়ছেন—ব্যস, একদল উত্তেজিত...
১ দিন আগে