
মা, বাবা, কন্যা কিংবা এ রকম নানান নামে থাকা দিবসগুলো নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। একটা মত, এই মানুষদের বছরের এক দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত করা ঠিক নয়। উল্টো মত, এসব দিবস আলোচ্য প্রসঙ্গের বাড়তি গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
এই বিতর্ক নিয়ে ভাবতে বসেছিলাম দুদিন আগে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মা দিবসে’র আগাম প্রচার নজরে এল। মনে হলো, মাকে নিয়ে যাঁরা বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করার কথা ভেবেছেন, তাঁরা কি কেবল জীববিদ্যার মায়ের কথাই ভেবেছেন? নাকি ‘মা’ ধ্বনির আরও বৃহৎ কোনো তাৎপর্যের দিকে নজর কেড়েছেন? বলা মুশকিল।
‘মা’ ধারণ করেন। জন্ম দেন। ডানার নিচে আশ্রয়ে রাখেন। এ যেন জীবনের অন্তহীন ধারাবাহিকতা। মাতৃস্নেহের কোনো দাঁড়ি, কমা নেই। চারপাশের প্রাণ-প্রকৃতি ও মানব-প্রজাতির সম্পর্কের সুতোও ঠিক তাই। সে জন্যই হয়তো ‘মাদার-আর্থ’ কথাটা শস্যবিদ্যা থেকে আবহাওয়াবিদ্যা পর্যন্ত বেশ চালু। ‘মা দিবস’ হয়তো আমাদের প্রাণ-প্রকৃতির কথাও ভাবতে বলে, কেবল জন্ম দেওয়া মায়ের কথা নয়। এই ‘দিবস’ এ-ও বলে, ‘মা’ শব্দটা মানব-প্রজাতির জন্য প্রজননশাস্ত্রের পরিসর অতিক্রম করে অনেক বেশি কিছু।
আমার জন্মদাত্রী মা বেঁচে নেই। তবে অন্য অনেকের মতো আমিও গভীরভাবে উপলব্ধি করি, মায়েরা সব সময় সন্তানের সঙ্গে থাকেন। তারপরও মাঝে মাঝে নিঃসঙ্গতা বাড়লে কয়েক শ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য মায়ের আশপাশটা ঘুরে আসি। টের পাই স্থায়ী ‘বন্ধু’ বলতে মানুষ ওই একজনকেই পায়। তবে চরম কোনো বিপদের দিনে কারও অবিশ্বাস্য সহায়তা পেলে, তীব্র গরমে সুশীতল ছায়া পেলে, বয়সনির্বিশেষে কারও দিক থেকে মায়া-মমতার ছোঁয়া পেলেও এ রকম বন্ধুত্বের অনুভূতি তৈরি হয়। কিছুটা সে রকম সূত্রেই এবারের মা দিবসের প্রচারণা দেখে ড. শিপ্রা রক্ষিত দস্তিদারের কথা মনে হলো।
আমার সঙ্গে দেখা হয়নি তাঁর এখনো। হয়তো হবে। হয়তো হবে না। কিন্তু মাঝে মাঝে বহু সময় ধরে কথা বলি আমরা। গভীর পাণ্ডিত্য যে অবিশ্বাস্য সারল্য তৈরি করে, তার নজির বাংলার এই প্রাচ্যবিদ। ‘মাদার-আর্থে’র একটা ছোট সংস্করণ। যদিও কথাটা বলা হয়নি সাহস করে।
ওনার বই পড়ে যোগাযোগের সূত্রপাত। লেখক-পাঠকের আলাপ অনেক সময়ই মায়া-মমতা মাখানো নানান গল্পে মোড় নেয়। কৌতূহলে কৌতূহলে তাঁর অবসর নষ্ট করি। ব্যস্ত মানুষদের বিশ্বে এ রকম সম্পর্ক কেবল মায়েদের সঙ্গেই হতে পারে। এ-ও বুঝতে পারি, মায়েরাই আসলে সন্তানসমদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষুধা সবচেয়ে সহজে মেটাতে পারেন। এ এক রহস্যভরা জাদুকরি সম্পর্ক।
শিপ্রা দস্তিদার চট্টগ্রামে থাকেন। সেখানেই পড়াশোনা করেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন কয়েক দশক। তাঁর বহু শিক্ষার্থীও শিক্ষকজীবন শেষ করেছেন। তবে নিরন্তর অধ্যয়নে থাকাদের পেশাগত জীবন শেষ হলেও প্রজ্ঞার দ্যুতি কেবল বাড়ে। সে কারণেই সমাজবিদ্যা, ইতিহাস, ভাষাতত্ত্বসহ বহু বিষয়ে আর্কাইভের মতো গল্প শোনাতে পারেন শিপ্রা মাসি।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সাহিত্যে পিএইচডি করেছেন তিনি। ভবতোষ দত্তসহ অনেক পণ্ডিত তাঁর কাজ নিয়ে দেশ-বিদেশে লিখেছেন। প্রাচ্য সমাজের সংস্কৃতি, ধর্মসহ আরও বহু বিষয়ে গবেষণাগ্রন্থ আছে তাঁর। যত লিখেছেন তার চেয়ে বহু বহু গুণ পড়েছেন নিভৃতে। একই সঙ্গে জীবনের নানান অভিজ্ঞতা ঋদ্ধ করেছেন। দাঙ্গা, যুদ্ধ, উদ্বাস্তু জীবনের ভাঙা-গড়াকে নির্মোহভাবে আত্মস্থ করে, চারপাশের নৈরাজ্য ও নৈরাশ্যকে মানসিক শক্তিতে পাল্টে নিয়ে জীবন্ত মানুষ কীভাবে অসীমের আদল নেয়—আমার এই নন-বায়োলজিক্যাল মা তা-ই।
এই লেখা শিপ্রা দস্তিদারের মতো সব মাকে নিয়েও বটে। বিশ্বে একমাত্র মায়েরাই নিঃশর্ত ভালোবাসার আধার। ১০ মে হলো সেই সূত্রে বিশুদ্ধতম এই সম্পর্ককে শ্রদ্ধার দিন। একমাত্র ‘মা’-কে দিয়ে আমরা প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কটা বুঝতে পারি। সেই সূত্রে এই দিনটি প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি বিকল্পহীন দায়বদ্ধতাও স্মরণ করায়। কেবল সে রকম দায়বদ্ধতাই মা দিবসকে অর্থবহ করে।
আলতাফ পারভেজ, লেখক ও গবেষক

পরিবেশ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল ১৯৭২ সালে স্টকহোমে। এ সময়ই শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তার আর প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয় বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিল। সেই ভাবনা থেকে মানব পরিবেশ সম্মেলন পরিবেশ সুরক্ষার বৈশ্বিক ভিত্তি নির্মাণ করে। পরের বছরই ১৯৭৩ সালের ৫ জুন ‘একমাত্র পৃথিবী...
২১ ঘণ্টা আগে
ভর্তুকি সমন্বয়, লোকসান কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম একলাফে ১৫ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
১ দিন আগে
দেশে এখন একটি ভয়ংকর প্রবণতা ক্রমেই যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কোনো ব্যক্তি চুরির অভিযোগে ধরা পড়ছেন, কাউকে ডাকাত বলে সন্দেহ করা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেছেন কিংবা কোনো তুচ্ছ বাগ্বিতণ্ডায় কেউ জড়িয়ে পড়ছেন—ব্যস, একদল উত্তেজিত...
১ দিন আগে
বাংলাদেশে শিশু হত্যা, ধর্ষণ, বলাৎকার নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহু বছর ধরে শিশুর ওপর সহিংস আচরণ, নির্যাতন, এককথায় শিশুনিধন প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার বড় শিকার ঘুরেফিরে হয় শিশুরা। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার ভুক্তভোগীও শিশুরা।
১ দিন আগে