Ajker Patrika

শিশুর প্রতি পাশবিকতা কেন

সম্পাদকীয়
শিশুর প্রতি পাশবিকতা কেন

রাজধানীর নয়াপল্টনের মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতনের পাশবিক ঘটনা ঘটেছে। শিশুটির বয়স চার বছরেরও কম। স্কুলের পোশাক পরা এক শিশুকে অফিসকক্ষে নিয়ে গিয়ে একজন নারী শিশুটিকে চড় মারেন। পরে কক্ষে আগে থেকে অবস্থান করা এক পুরুষ শিশুটির গলা ও মুখ চেপে ধরেন। তাঁর হাতে স্ট্যাপলার ছিল।

শিশুটি কাঁদতে থাকে। ওই নারী শিশুটির হাত ধরে আটকে রাখেন। একপর্যায়ে শিশুটি নারীর শাড়িতে থুতু ফেললে পুরুষটি শিশুর মাথা শাড়িতে চেপে ধরে কয়েকবার ঝাঁকুনি দেন। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে শিউরে উঠেছেন বিবেকবান মানুষেরা। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান ও ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর শারমিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে থাকলেও মানসিক ট্রমার মধ্যে আছে। ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে উঠছে সে। আশঙ্কার বিষয় হলো, শিশুটি দীর্ঘ মেয়াদে যদি মানসিক সমস্যায় পড়ে যায়, তার দায়ভার কে নেবে?

এ বয়সী শিশুরা স্কুলে যায় আনন্দ নিয়ে। সেখানে গিয়ে তারা খেলার ছলে পড়াশোনা করবে। কোনো বাঁধাধরা নিয়ম এবং বই পড়ার চাপ থাকবে না—শিশু বয়সের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এ রকমই হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণহীন কিছু স্কুল গড়ে উঠছে, যেগুলোকে শিশুদের পড়াশোনা ও নিয়মশৃঙ্খলা শেখানোর নামে একধরনের টর্চার সেলে পরিণত করা হয়েছে। পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় যে গলদ আছে, সেটা এমন ঘটনায় প্রমাণ পাওয়া যায়। সরকার যদি এই স্কুলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার কারণে কিছু ঘটনা মানুষের সামনে আসছে। হয়তো এ রকম আরও অনেক ঘটনা অন্তরালে চলে যায়। সেই হিসাব মেলা ভার।

শিশুশিক্ষার্থীর প্রতি এমন অমানবিক আচরণ রোধ করার জন্য শুধু আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি নয়, এর সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। যে কেউ চাইলেই একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে স্কুল খুলে বসবেন—এই অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের স্কুলগুলোকে সরকারের প্রতি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এগুলোর কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তদারকি করতে হবে। বিশেষ করে অলিগলিতে গড়ে ওঠা ছোট ছোট স্কুলের নিবন্ধন এবং সেখানে শিক্ষার পরিবেশ আছে কি না, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

স্কুল হওয়া উচিত শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল, কোনো বিভীষিকার কেন্দ্র নয়। নয়াপল্টনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সমাজে একটি বার্তা দিতে যে শিশুর গায়ে হাত তোলার পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আমাদের শিশুদের একটি সুস্থ ও নিরাপদ শৈশব দেওয়া উচিত, যেখানে কোনো শিশু আর ভয়ের রাজত্বে নয়, বরং আনন্দের সঙ্গে বেড়ে উঠবে। সেটা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ছাড়া সম্ভব নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত