ইসি আনোয়ারুল ইসলামের ধারণা, সামনের নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়বে। তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন ঘিরে বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতির বাকি নেই।
এ রকম একটি উৎসবমুখর নির্বাচনে কেন দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে না, এ বিষয়ে ইসির বক্তব্যে কিছু বলা নেই। এবারের নির্বাচন তো শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচন করা নয়, একটি গণভোটও রয়েছে এর সঙ্গে। সুতরাং ভোটকেন্দ্রে যেন সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার আসেন, সেটা নিশ্চিত করার দরকার ছিল। সেটা যে হয়নি, তা ইসির বক্তব্যেও স্পষ্ট। এ কথা সত্য, একমাত্র সাজানো নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনেই ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি দেখা যায় না। জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় যে দুটি গণভোট হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচনের দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও ফলাফল নির্ধারণে কতটা সক্রিয় ছিলেন। এ নিয়ে নানা ধরনের গল্প প্রচলিত আছে। তা নিয়ে বিশদে না গিয়েও বলতে হয়, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততাই একটি নির্বাচনকে উৎসবমুখর নির্বাচনে পরিণত করতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সেই স্বতঃস্ফূর্ততাই কামনা করে সবাই।
এবারের নির্বাচনে ব্যাপকসংখ্যক তরুণ অংশ নেবে, এটা একটা ইতিবাচক দিক। তরুণেরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তরুণেরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিল পাবে, এমন দলকেই ভোট দেবে। সেই তরুণ সম্প্রদায়কে ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য প্রচারণা চালানো দরকার। আমরা মনে করি, ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য প্রচারণা চালানো আর গণভোটে হ্যাঁ বা না—দুটির কোনো একটির প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানো এক কথা নয়। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভোটারকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন তৎপরতা চালানো প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একেবারেই ঠিক হবে না। ভোটের অধিকার ভোটারের, তাঁকে জোর করে কোনো কিছুর প্রতি আকৃষ্ট করা নৈতিকতাবিরোধী কাজ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে ইসি যা বলেছে, তাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি উঠে এসেছে, কিন্তু এই বাহিনীগুলোর মনোবল ও নৈতিক বল কতটা রয়েছে, সে প্রশ্ন এড়ানো যাবে না। বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে পুলিশ বাহিনী যে রকম বাস্তবতার মধ্যে আছে, তাতে তাদের পক্ষে নিজের কাজটি ঠিকভাবে করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশ তাদের মানসিক ট্রমা কতটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে, তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করবে ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারটি।
একটি নির্বাচন দরকার। সে নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে হওয়া জরুরি। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো এখনো ভোটকেন্দ্রে কারচুপি নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। তারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করছে। একটি উৎসবমুখর নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র কেন পাহারা দিতে হবে—এই প্রশ্নটিও জনগণকে ভাবাচ্ছে।

ঢাকার রমনা বটমূলে যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়, তার একটি গভীর প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস রয়েছে। পয়লা বৈশাখের এই উৎসব বাঙালি জাতিসত্তার ধারায় মিশে আমাদের স্বরূপ সন্ধানে সহায়ক হয়েছে। এটি আমাদের জাতীয় সংকটের গর্ভ থেকে সঞ্জাত, শুধু আনন্দের আয়োজন নয়।
১ দিন আগে
প্রকৃতির আবর্তনে ঋতুরাজ বসন্ত বিদায় নিয়ে যখন রুদ্র বৈশাখের পদধ্বনি শোনা যায়, তখন বাংলার জল-হাওয়া আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জেগে ওঠে এক অপার্থিব উৎসবের দোলা। বাঙালির ‘পয়লা বৈশাখ’ আর পাহাড়ের ‘বৈসাবি’ যেন একই সূত্রে গাঁথা দুই ভিন্ন সুরের এক অনবদ্য রাগিণী।
১ দিন আগে
আজ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, পয়লা বৈশাখ। দিনটিকে শুধু একটি দিনপঞ্জিকার সূচনা বললে ভুল হবে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবারের নববর্ষ আমাদের সামনে নতুন কিছু ভাবনার দুয়ারও খুলে দিচ্ছে।
১ দিন আগে
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পথচলার ইতি টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন নির্বাচিত সরকারও দুই মাসে পা রাখতে যাচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছিল।
২ দিন আগে