নির্বাচন মানে দলের আদর্শ, প্রার্থীর যোগ্যতা-আচরণ এবং দলের বক্তব্যের ফুলঝুরি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে সাধারণ ভোটারদের নিজের পক্ষে নিয়ে আসা। দেশের মানুষ আসলে এরকম নির্বাচনই প্রত্যাশা করে। কিন্তু আমাদের দেশে নির্বাচন মানে সহিংসতা। তবে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি একটা উদাহরণ হয়ে আছে। সে রকম নির্বাচন হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও, এবারের নির্বাচন সেভাবে হবে না বলে আশঙ্কা করা যায়। একটা রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর যে আশাবাদ মানুষের মনে জেগেছিল, সে আশা নিরাশায় পরিণত হতে যাচ্ছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, তত সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এটা হতে থাকলে নির্বাচন নিয়ে সার্বিক প্রত্যাশার জায়গা থেকে আমরা পিছিয়ে যাব।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৫ ফেব্রুয়ারি আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী নওগাঁ, কুষ্টিয়া, ভোলা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্তমান দুটি প্রধান দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন এবং ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মতো একসময়ের মিত্র দলগুলোর মধ্যকার এই সংঘাত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর হামলা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন, বর্তমান পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
মাঠপর্যায়ে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা থামানো যাচ্ছে না, যা প্রশাসনিক তৎপরতার সীমাবদ্ধতাকেই নির্দেশ করে। কেবল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন গৎবাঁধা কথাতে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে না। যেখানেই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়নির্বিশেষে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো দরকার।
নির্বাচন কমিশনকে কেবল তদারকি সংস্থার ভূমিকায় থাকলে চলবে না, বরং নিজেদের সাংবিধানিক ক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সহিংসতাকবলিত আসনগুলোতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি নিরপেক্ষ ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরি সংলাপে বসে কর্মীদের সংযত রাখার আহ্বান জানানো এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করার স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।
গণতন্ত্রের উৎসব যেন শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম দায়িত্ব। সাধারণ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের রায় দিতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও তর্কাতীত নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের সব সময়ের প্রত্যাশা ছিল। জাতীয় নির্বাচন তো বটেই, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনেও জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, প্রতিটি নির্বাচনই যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। তারা চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারা যে যার
৬ ঘণ্টা আগে
মাত্র কয়েক মাস আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ যখন ঢাকা নগরের বাড়িভাড়া বিষয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল, তখন রাজধানীর অগণিত ভাড়াটের মনে স্বস্তির আশা জেগেছিল। কিন্তু ২০ জানুয়ারি ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ভাড়াটের অধিকার নিশ্চিতে নিয়ন্ত্রকের পক্ষে বিস্তারিত
৬ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সব রাজনৈতিক দল এখন মাঠে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—কোথাও চলছে সভা, কোথাও কর্মসূচি, কোথাও ডিজিটাল প্রচার। এই নির্বাচনের মাঠে ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল বলে কিছু নেই। ক্ষমতাসীনেরা থাকলে তারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা বলত। বিপরীতে বিরোধীরা বলত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির কথা। এখন
১ দিন আগে
১৯৬১ সালের ১৯ মে। সেদিন ভারতের আসামের বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় যে অভূতপূর্ব ও আত্মত্যাগের গাথা রচিত হয়েছিল, আজ তা বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য এবং চিরস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের ঢাকার রক্তাক্ত ভাষা আন্দোলনের ঠিক ৯ বছর পর আসামের মাটিতে পুনরায় বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ।
১ দিন আগে