Ajker Patrika

এপস্টেইনের ই-মেইল ইনবক্স দেখতে পারেন আপনিও, কীভাবে দেখবেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এপস্টেইনের ই-মেইল ইনবক্স দেখতে পারেন আপনিও, কীভাবে দেখবেন

মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি দণ্ডিত শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ নতুন নথি প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এই বিশাল তথ্যভাণ্ডারে রয়েছে ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজারের বেশি ভিডিও। এই নথিপত্রে বিল ক্লিনটন, বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের নামও জড়িয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের জন্য এই বিপুল পরিমাণ ডেটা বা নথিপত্র ঘেঁটে দেখা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। এই জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ‘Jmail’ নামের একটি অভিনব ওয়েব টুল তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের ঠিক নিজের ই-মেইল অ্যাকাউন্টের মতোই এপস্টেইনের গোপন ইনবক্সটি দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।

হুবহু গুগল জিমেইলের আদলে ‘Jmail’

‘জে-মেইল’ (Jmail) ওয়েবসাইটটির ইন্টারফেস বা চেহারা অনেকটা গুগলের জিমেইলের মতোই। তবে এর লোগোতে থাকা ইংরেজি ‘M’ অক্ষরের মাথায় একটি ছোট হ্যাট বা টুপি ঝোলানো রয়েছে এবং স্ক্রিনের ডানদিকের প্রোফাইল ছবিতে রয়েছে হাস্যোজ্জ্বল জেফরি এপস্টেইনের ছবি। জিমেইলের মতোই এখানেও ইনবক্স, স্টারড এবং সেন্ট মেইল দেখার অপশন রয়েছে।

ওয়েবসাইটটিতে কেবল ই-মেইলই নয়, আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচার রয়েছে:

JPhotos: এখানে বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ১ লাখ ৮০ হাজার ছবির ডেটাবেস রয়েছে।

JDrive: ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র পড়ার জন্য একটি বিশেষ ড্রাইভ।

JFlights: এপস্টেইনের কুখ্যাত ব্যক্তিগত বিমানের যাতায়াত বা ফ্লাইটের ট্র্যাকিং সফটওয়্যার।

Jotify ও Jamazon: স্পটিফাইয়ের আদলে তৈরি ‘জোটিফাই’-তে কয়েক ঘণ্টার অডিও রেকর্ডিং এবং অ্যামাজনের আদলে ‘জে-অ্যামাজন’-এ এপস্টেইনের কেনাকাটার হিসাব পাওয়া যাবে।

কীভাবে তৈরি হলো এই টুল?

ইন্টারনেট শিল্পী রিলি ওয়ালজ এবং ওয়েব ডেভেলপার লুক ইগেল এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে এপস্টেইনের নথির প্রথম কিস্তি প্রকাশের পর ওয়ালজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লেখেন, ‘আমরা জিমেইলের একটি ক্লোন তৈরি করেছি, যেখানে আপনি এপস্টেইন হিসেবে লগ-ইন করে তাঁর সব মেইল দেখতে পারবেন।’

উইয়ার্ড (Wired) ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেভেলপার লুক ইগেল জানান, সরকারিভাবে প্রকাশিত পিডিএফ নথিগুলো পড়া খুবই কষ্টসাধ্য এবং প্রাণহীন ছিল। তিনি বলেন, ‘ফাঁস হওয়া নথিগুলো মূলত নিম্নমানের এবং খুবই বাজেভাবে স্ক্যান করা পিডিএফ ফাইল। আমরা চেয়েছিলাম সাধারণ মানুষ যেন অনুভব করতে পারে যে এগুলো আসলেই বাস্তব জীবনের ই-মেইল। তাই আমরা জিমেইলের আদলে এটি তৈরি করেছি।’

মজার ব্যাপার হলো, আই টুল ‘কারসার’ (Cursor) ব্যবহার করে নির্মাতারা মাত্র এক রাতেই পুরো ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বর্তমানে এই টুলের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলী মানুষ এবং গবেষকেরা এপস্টেইনের ব্যক্তিগত যোগাযোগের জালটি বিশ্লেষণ করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত