রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাস দুয়েক আগে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত এক কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাত করেছিল দুর্বৃত্তরা। তাদের ফেলে যাওয়া একটি ব্যাগ থেকে পাঁচটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তারা কোথাও হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং পুলিশের ওপর হামলা সেই পরিকল্পনারই অংশ ছিল। জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকায় একটা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে জঙ্গিবিরোধী একটা অবস্থান ছিল সরকারের পক্ষ থেকে। সে সময় কেউ কেউ অভিযোগ করতেন, সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত ও পাকাপোক্ত করার জন্য জঙ্গি নাটক করছে। ওই সময় অনেক জঙ্গিকে আটক করে কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরপরই অনেক দাগি সন্ত্রাসীসহ জঙ্গিগোষ্ঠীর অনেককে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর ২০২৬ সালের নির্বাচনী আবহে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বড় একটা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও এই ঘটনা নিয়ে জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা করা হয়েছিল। নির্বাচনের কারণে ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়।
বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার মূল কারণ এখানকার মানসকাঠামোর মধ্যে না থাকলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সেটা নতুন আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সালাফিজম চিন্তার ব্যাপক বিস্তৃতির সঙ্গে জঙ্গি তৎপরতার একটা যোগসূত্র আছে। শিক্ষিত বেকার তরুণেরা পড়ালেখা শেষে যখন ন্যূনতমভাবে বাঁচার জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারে না, তখন তাদের জীবনের প্রতি একধরনের হতাশা তৈরি হয়। জঙ্গিগোষ্ঠীর লোকেরা মূলত এদের টার্গেট করে থাকে এবং সদস্য সংগ্রহ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে থাকে।
রাজশাহী অঞ্চলের বাংলা ভাইয়ের বা একই দিনে একই সময়ে ৬৩ জেলায় বিচারালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় বোমা বিস্ফোরণের সময়ে আতঙ্কগ্রস্ত দেশের জনগণ আর ফিরে যেতে চায় না। সেটা রোখার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অপতৎপরতা প্রতিরোধ করা জরুরি। শুধু পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে সক্রিয় করে তা প্রতিরোধ করা যাবে না। আইন ও বিচারের মাধ্যমে কারাগারে বন্দী করে তাদের সাময়িকভাবে রোধ করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে তাদের নির্মূল করার জন্য নতুন ভাবনা ও পরিকল্পনার দরকার আছে। তাদের চিন্তা যেন সহজ-সরল ও বিশ্বাসী মানুষের প্রভাবিত করতে না পারে, সেটার জন্য কাজ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও মিডিয়া বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সর্বস্তরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, জঙ্গিবাদের কোনো সীমানা নেই। এটি একটি বিষবৃক্ষের মতো, যা প্রতিকূল পরিবেশে শুকিয়ে গেলেও সুযোগ পেলেই আবার অঙ্কুরিত হয়। তাই আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। উগ্রবাদমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনা-পরবর্তী সময়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে, বাজেটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন কোথা থেকে হবে; ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়ার সুযোগ কতখানি; কিংবা বাজেটে প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের অন্তরায়গুলো কীভাবে উতরানো যাবে?
৮ ঘণ্টা আগে
উদ্ভিদের জেনেটিক বা কৌলিতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য বিশ্বের সামগ্রিক বৈশ্বিক উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে কৃষিবৈচিত্র্য, যার সঙ্গে আমাদের রয়েছে সরাসরি খাদ্যের জোগান। এটাই হলো কৃষিবৈচিত্র্যের মূল ভিত্তি।
১২ ঘণ্টা আগে
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিশ্চয়ই বলে বোঝাতে হবে না। একজন শিক্ষার্থীর মানসিক গড়ন তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগুরু যে অবদান রাখেন, সেটাই তার পরবর্তী জীবনে চলার পথের পাথেয় হয়ে ওঠে।
১৩ ঘণ্টা আগে
২৭ জুন, ২০২৬ আমাদের জন্য এক বিশেষ দিন। ‘আজকের পত্রিকা’ এদিন পাঁচ বছর পূর্ণ করে ছয়ে পা রেখেছে। সময়ের হিসাবে পাঁচ বছর হয়তো খুব দীর্ঘ নয়, কিন্তু একটি সংবাদপত্রের জীবনে প্রতিটি দিনই নতুন নতুন পরীক্ষা, প্রতিটি সংখ্যাই একটি
২০ ঘণ্টা আগে