অসহিষ্ণুতা কোন পর্যায়ে পৌঁছালে একজন মানুষ দানব হয়ে উঠতে পারে, তারই একটি নমুনা দেখা গেল মানিকগঞ্জে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে মো. জুলহাস হোসেন কেন রিকশাচালক মো. জুসনকে ইটের উপর্যুপরি আঘাতে হত্যা করলেন, সেটা জানলে আপনার মনে প্রশ্ন জাগবে, এতটা স্থূল কারণেও ন্যূনতম মনুষ্যত্ব বোধ গায়েব হয়ে যায়?
জুলহাস হোসেনের বয়স ২৪। একেবারেই কাঁচা বয়স। মো. জুসনকে হত্যা করার পর তাঁর ভাগ্যে কী আছে, তা আদালতই নির্ধারণ করে দেবেন। একজন যুবক নিতান্তই রিকশাভাড়া নিয়ে বিবাদের কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একজন মানুষের জীবন নিয়ে নেবেন—এ কেমন কথা?
বিয়োগান্ত এই ঘটনাটি ঘটেছিল ৬ এপ্রিল রাতে। মূল আসামি মো. জুলহাস হোসেন ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭ এপ্রিল। এরপরই ঘটনাস্থল ঘুরে দেখানোর সময় জুলহাস বর্ণনা করেন কীভাবে তিনি রিকশাচালক মো. জুসনকে হত্যা করেছেন। বিকাশে ক্যাশ-ইন করাবেন বলে জুসনের রিকশা ভাড়া নিয়েছিলেন জুলহাস। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করার পর যখন ভাড়া দিতে চান, তখন রিকশাচালক জুসন ৮০০ টাকা দাবি করেন। জুলহাস দিতে চান মাত্র ২০০ টাকা। এ নিয়েই ঘটে বাগ্বিতণ্ডা। জুসন জোর করে জুলহাসকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেন। ঘটনার সমাপ্তি এখানেই হতে পারত। কিন্তু ক্ষুব্ধ জুলহাসের মনে ছিল অন্য ফন্দি। তিনি বেশি ভাড়া দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবারও জুসনের রিকশায় ওঠেন। এবার জুলহাসের মাথায় ছিল বীভৎস এক পরিকল্পনা। তিনি বার্থা গ্রামের নির্জন এক জায়গায় পৌঁছে ইট দিয়ে জুসনের মাথায় আঘাত করতে থাকেন। হত্যা করেন জুসনকে। রাস্তার পাশের ঝোপে মরদেহ লুকিয়ে তিনি পালিয়ে যান।
প্রায় পুরো ঘটনাটির বর্ণনা করার কারণ হলো মানুষের জীবন কত সস্তা হয়ে গেছে, সেটা সম্পর্কে পাঠককে অবহিত করা। তাহলে কি যেকোনো বাগ্বিতণ্ডার পরিণতি হিসেবে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করার মতো মানুষ বাড়ছে? বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে কি একজনের হাতে উঠে আসবে ধারালো ছোরা? শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীকে কড়া শাসন করেন, তাহলে কি শিক্ষার্থী সেই শিক্ষককে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করবে? স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়ে প্রতিপক্ষের সমর্থকের কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কি তার পেটে ঠেকাবে পিস্তল? এ রকমভাবে ঘটনাগুলো একের পর এক বসিয়ে দেওয়া যাবে, কিন্তু তা রাবারের মতো ছিঁড়ে যাবে না। কারণ, অসহিষ্ণুতার এই বিভীষিকা আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। ব্যক্তিগতভাবে যারা সহিংসতা ঘটাচ্ছে, তাদের নাগাল পাওয়াও তো কঠিন হয়ে পড়ছে।
নানাভাবেই তো মানুষ আর মানুষের মতো থাকছে না। জুলহাসদের মতো মানুষেরা যেন হত্যাকারী হয়ে না ওঠে, তার কোনো পরিবেশ কি আমরা সৃষ্টি করতে পারছি? বড় পরিসরে রাজনীতির মাঠে আমরা ঐক্যের কথা বলে ঘৃণার চাষবাস করছি যেমন, তেমনি সামাজিক পর্যায়ের মানুষও ওই ঘৃণার আবর্তে পড়ে যাচ্ছে। সতর্ক হওয়ার সময় বয়ে যাচ্ছে।

স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য কলকাতার বাঙালি সাংবাদিক। তিনি রাজনীতি, আইন, পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতিসহ নানা বিষয় নিয়ে ভারতের দ্য ওয়ার, স্ক্রোল, ফার্স্টপোস্টসহ বিভিন্ন পোর্টালে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গবেষণাধর্মী লেখালেখি করেন।
২ ঘণ্টা আগে
ভালোবাসা মরে যায় না। কোনো না কোনোভাবে টিকে থাকে। মন ভালো করে দেওয়া একটি খবর এসেছে মৌলভীবাজার থেকে। ৩১ বছর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করার পর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অবসরে গেলেন রানু গোপাল রায় নামের একজন শিক্ষক। সিলেট অঞ্চলের মানুষেরা ভালোবাসার এই অপূর্ব দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন।
১ দিন আগে
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না, বিশেষ করে যারা অনির্বাচিত শাসক গোষ্ঠী। আমাদের সংস্কৃতিতে সংকোচনের নীতি অনেক শাসকই গ্রহণ করেছে। নিজের মতো করে একটা সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। দেশভাগের পর থেকেই জিন্নাহর এই আকাঙ্ক্ষা শুরু হয়।
১ দিন আগে
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারকে কেন্দ্র করে গত এক দশকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অভূতপূর্ব প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ ক্রমাগত বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দ্রুততা ও আইনি বিষয়...
১ দিন আগে