সবকিছুর দাম বাড়ে, মানুষের দাম বাড়ে না। এই আক্ষেপ এখন অনেকের। বিশেষ করে নুন আনতে পান্তা ফুরায় যাদের, তারা বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে করতে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করেছিল যারা, তাদের মনেও সংশয়। সত্যিই কি বেকার মানুষের ভাগ্য খুলবে? মাস শেষে বেতন পাওয়া যাবে, সেই অর্থে ঘরে আসবে বাজার, কেনা হবে জামা-কাপড়, হয়তো বিশেষ কোনো দিনে ঘুরতে যাওয়া যাবে কোথাও!
দাম মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়ার কারণ শুধু দাম বাড়া নয়, বরং সেটা কিনতে পারার সামর্থ্য নেই। দুটি উপায়ে এই সমস্যার সমাধান হয়। প্রথমটি হলো, যাদের কারণে হঠাৎ করে নাগালের বাইরে চলে যায় দ্রব্যমূল্য, তাদের পাকড়াও করতে পারলে দামের এই ঊর্ধ্বগতি কিছুটা কমতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো, মানুষের হাতে অর্থ আসার ব্যবস্থা করে দেওয়া। একটু আগে যাকে বলা হলো কর্মসংস্থান। এই দুটি বিষয় নিয়ে কে ভাববে? রাজনীতির মাঠ গরম করার মতো বহু ঘটনাই ঘটছে এখন। তার সবকিছু সবার নজরে আসেও না। কোনো কোনো ঘটনা নজরে যেন না আসে, তার জন্য সরকারও নানা রকম ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু কখনো কখনো তা বুমেরাং হয়ে যায়। তাতে জনগণের কোনো উপকার হয় না। জনগণের উপকার হতো যদি রাজনৈতিক খেলা বাদ দিয়ে জনগণের জীবনকে অর্থপূর্ণ করার জন্য নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা যেত। এটা মানুষের প্রধান চাহিদার অন্যতম।
খোলা মনে একটি প্রশ্ন করা যায়। সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গলদঘর্ম হচ্ছে, তখন মন্ত্রীরা অবলীলায় মিডিয়ার সামনে এসে কী করে বলতে পারেন, পণ্যের দাম বাড়েনি! রাশিয়ায় এ রকম বিষয় নিয়ে একটি কৌতুক রয়েছে, সেটি বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না। এক লোক হাসপাতালে এসে বলছেন, ‘আমি চোখ আর কানের একজন ডাক্তার দেখাতে চাই।’ যিনি রোগীদের নাম লিখে নিচ্ছিলেন, তিনি হেসে বললেন, ‘নাক আর চোখ তো দুজন ডাক্তার দেখেন। তাঁরা আলাদা মানুষ। আপনার সমস্যা কী হয়েছে, সেটা বলুন।’ রোগী বললেন, ‘আমি চোখে দেখি এক জিনিস, কানে শুনি আরেকটা। আমার চোখ না কান নষ্ট হয়েছে, সেটা জানা দরকার!’ এই রোগীটি আমাদের দেশেও খুব পরিচিত। এই রোগী বাজারে গিয়ে যা দেখেন আর মন্ত্রীর মুখে যা শোনেন, তাতে তাঁর মনেও চোখ না কান খারাপ—এই প্রশ্নটির জন্ম হতে পারে।
আর কর্মসংস্থান? সব সরকারই নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু তা ফাঁকা বুলি কি না, তা নিয়ে কি মানুষের সংশয় কাটে? অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি না হলে, বিনিয়োগ না বাড়লে কোত্থেকে হবে কর্মসংস্থান? কর্মসংস্থান না হলে তরুণেরা কীভাবে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে? নিদেনপক্ষে পরিবারের খরচ চালানোর কাজে অংশ নেবে?
দাম এখন বহু রাজনৈতিক প্রশ্নের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা কি সরকার বুঝতে পারছে?

জি এম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি লালমনিরহাট-৩ ও রংপুর-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সপ্তম, অষ্টম, নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
সভ্যতার কোনো এক আদি পর্ব থেকে মানুষের আবাস ও ভূমির স্বপ্ন জাগরিত হয়েছিল, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ থেকে অনুমান করা যায়, আদিকাল থেকেই উন্নত আবাসভূমির চিন্তা মানুষকে ধাবিত করেছে। আমাদের এই উপমহাদেশেই মহেঞ্জদারো, হরপ্পা, নালন্দা, মহাস্থানগড়—এসব থেকেই বোঝা যায়, কত উন্নত পুরকৌশল
১ দিন আগে
বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং নীল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি বঙ্গোপসাগর। প্রায় ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রাঞ্চল এবং ২০০ নটিক্যাল মাইলের অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু মাছের আধার নয় বরং এটি জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান অবলম্বন, কর্মসংস্থানের উৎস এবং বৈদেশিক মুদ্রা
১ দিন আগে
মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক জৌলুশে নয়, বরং নিহিত থাকে তার অন্তরের পবিত্রতা ও মানবিকতায়। একটি সরল হৃদয় কখনো কৃত্রিমতার আশ্রয় নেয় না; সে ভালোবাসে নিঃস্বার্থভাবে, বিশ্বাস করে অকপটে এবং সম্পর্ককে মূল্যায়ন করে আন্তরিকতার আলোকে। কিন্তু বর্তমান সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা হলো, অনেক সময় সরলতাকে দুর্বল
১ দিন আগে