আজ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, পয়লা বৈশাখ। দিনটিকে শুধু একটি দিনপঞ্জিকার সূচনা বললে ভুল হবে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবারের নববর্ষ আমাদের সামনে নতুন কিছু ভাবনার দুয়ারও খুলে দিচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন বেশ কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন। তবু এই প্রতিকূলতার মধ্যেই নববর্ষের আগমন আমাদের মনে আশার আলো জাগায়।
বাংলা নববর্ষের মূল দর্শন হলো পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করা। এই দর্শনকে সামনে রেখে আমাদের উচিত বিগত বছরগুলোর সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় শিল্প ও কৃষির উন্নয়নের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় রাখার কথাও যেন আমরা ভুলে না যাই। বিভিন্ন মত ও বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলাই হতে পারে একটি স্থিতিশীল সমাজের ভিত্তি। নববর্ষের এই উৎসব আমাদের সেই ঐক্যের বার্তাই বহন করে, যেখানে সব বিভেদ, বর্ণ-ধর্ম-বয়স ভুলে আমরা একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। বৈশাখ যেহেতু এসেছে, গ্রীষ্ম তার উত্তাপ ছড়াবেই। কিন্তু আমাদের মনের উত্তাপের নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিজেদের হাতেই। যে মব সংস্কৃতি গত দেড় বছরে চালু হয়েছিল, তা চাইলেই আমরা বিসর্জন দিতে পারি মনের উত্তাপ নিয়ন্ত্রণ করে—ন্যায়-অন্যায় ও সঠিক-বেঠিকের সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে। বাংলাদেশি হিসেবে বাংলা নববর্ষে এইটুকু পণ করা নিশ্চয়ই কঠিন কোনো ব্যাপার না।
গ্রীষ্মের কথা যখন উঠেছে, তখন পরিবেশের আলাপ করতেই হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশে ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। তাই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর যদি এ ব্যাপারে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়, তাহলে নাগরিক হিসেবে এই দায়িত্ব আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না।
বিশ্ব এখন যুদ্ধের কবলে। সেই প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশেও। জ্বালানি তেলের সংকট, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা কিংবা আন্তর্জাতিক ও ভৌগোলিক রাজনীতির ঝুট-ঝামেলা সত্ত্বেও নতুন বছরকে আমরা বরণ করে নিতে চাই সকল গ্লানি ও জরা মুছে দিয়ে; কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো আমরাও চাই ‘অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’।
বাংলা নববর্ষ আমাদের জীবনে যেমন আনন্দ নিয়ে আসে, তেমনি কিছু দায়িত্ববোধও জাগ্রত করে। যে দায়িত্বের মধ্যে পড়ে আত্মসমালোচনা, নতুন সংকল্প এবং সম্মিলিত অগ্রগতির সূচনা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
নতুন বছরে সকল পেশার, সকল শ্রেণির, সকল বয়সের সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা।
শুভ নববর্ষ।

ঢাকার রমনা বটমূলে যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়, তার একটি গভীর প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস রয়েছে। পয়লা বৈশাখের এই উৎসব বাঙালি জাতিসত্তার ধারায় মিশে আমাদের স্বরূপ সন্ধানে সহায়ক হয়েছে। এটি আমাদের জাতীয় সংকটের গর্ভ থেকে সঞ্জাত, শুধু আনন্দের আয়োজন নয়।
২ ঘণ্টা আগে
প্রকৃতির আবর্তনে ঋতুরাজ বসন্ত বিদায় নিয়ে যখন রুদ্র বৈশাখের পদধ্বনি শোনা যায়, তখন বাংলার জল-হাওয়া আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জেগে ওঠে এক অপার্থিব উৎসবের দোলা। বাঙালির ‘পয়লা বৈশাখ’ আর পাহাড়ের ‘বৈসাবি’ যেন একই সূত্রে গাঁথা দুই ভিন্ন সুরের এক অনবদ্য রাগিণী।
২ ঘণ্টা আগে
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পথচলার ইতি টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন নির্বাচিত সরকারও দুই মাসে পা রাখতে যাচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছিল।
১ দিন আগে
দেড় বছর বাংলাদেশ কী করবে, কী করবে না, কী বলবে, কী বলবে না—এসব নিয়ে ছিল মহাবিপদের মুখে। হঠাৎ জানা গিয়েছিল রিসেট বাটন সেট করা হয়ে গেছে, এখন আমাদের আর ইতিহাস বা মুক্তিযুদ্ধের দরকার নেই! রিসেট বাটন সবকিছু মুছে দিতে নাকি যথেষ্ট।
১ দিন আগে