সেদিন পরিচিত এক বড় বোন হোয়াটসঅ্যাপে একটা রিলসের লিংক দিয়ে বললেন, ‘তুমি কি পুলিশকে ইনফর্ম করতে পারো প্লিজ?’ লিংকে ক্লিক করে দেখি, বেশ বড় গলার ব্লাউজ ও লাল শাড়ি পরে জমকালো সেজেগুজে এক নারী বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। সাবলীলভাবে বলে যাচ্ছেন, ‘আমাদের কাছে অনেক ভালো ভালো কালেকশন আছে। আমি কোনো মিথ্য়ে কথা বলি না। যা সত্য়ি তাই বলছি। একদম ছোট ছোট খুব সুন্দর সুন্দর মেয়ে আছে। একেবারে টসটসে কমলালেবুর মতো। এমন সাইজের যে আপনারা যেভাবে খুশি সেভাবে খেলাধুলা করতে পারবেন। কাঁধে নিয়ে, চিৎ করে, উপুড় করে যেভাবে খুশি!’ রিলসের নিচে লেখা: সব রকম সার্ভিস নিতে যোগাযোগ করুন—একজনের নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা। স্থান আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
শুধু এটাই নয়। এমন আরও রয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্য়ালয়পড়ুয়া সচ্ছল পরিবারের মেয়েরা ইদানীং স্বেচ্ছায় অনলাইনে এ ধরনের বিজ্ঞাপন নিজেরাও দিচ্ছেন। এদের মধ্য়ে কেউ কেউ নিজেদের ইনস্টাগ্রামে উত্তেজক ছবি আপলোড করে ক্যাপশনে লিখছেন, ‘ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ট্যুরে বা রিসোর্টে নিয়ে যেতে চাইলে ইনবক্সে টোকা দিন।’ কেউ কেউ আবার ফেসবুকে পাবলিক পোস্টেই জানাচ্ছেন যে তাঁরা সরাসরি ছাড়াও অনলাইনে সার্ভিস দিচ্ছেন। এই অনলাইন সার্ভিসটা আসলে কী? ভার্চুয়াল প্রেমের মতো এখন শারীরিক সম্পর্কটাও ভার্চুয়াল হয়ে গেছে? এর পেছনেও অর্থ খরচ করছেন অনেকে। রিমি (ছদ্মনাম) নামের একজন তার ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেই এই সেবা দিতে আগ্রহী। খুব অবাক হলাম দেখে যে মেয়েটা খুবই ছোট। স্কুলপড়ুয়া। বিভিন্ন পোস্টে লিখেছে, ‘ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপে সার্ভিস নিতে চাইলে ৫০ শতাংশ আগে অ্যাডভান্স করতে হবে। অ্যাডভান্স করার আগে কোনো উত্তেজক ছবি বা ভিডিও পাঠাতে বলবেন না।’ শুধু তা-ই নয়, সে সম্মিলিতভাবেই এই সেবা দিচ্ছে বলে বোঝা যাচ্ছে। অন্য আরও যারা এ ধরনের অনলাইন ও হোটেল সার্ভিস দেয় তাদের রেফারও করছে নিজের প্রোফাইলে। এবং প্রত্য়েকের বয়সই কম। বোঝাই যায় অনেকেরই আঠারো বছর হয়নি।
শুধু কি নারীরাই স্বেচ্ছায় অনলাইনে এই যৌনসেবা দিয়ে যাচ্ছেন? না কিন্তু। আকাশ (ছদ্মনাম) নামের এক কিশোর রিমি (ছদ্মনাম) মেয়েটির প্রোফাইলেই বিজ্ঞাপন দিয়েছে। লেখা, ‘শারীরিক চাহিদা সবারই থাকে। যাঁরা একাকিত্বে ভোগেন বা যাঁদের স্বামী দেশের বাইরে থাকেন, তাঁরা যোগাযোগ করুন। শতভাগ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে কি এ ধরনের কাজের সঙ্গে কেউ যুক্ত হতে পারে? সেটা কি আইনত বৈধ? অথবা প্রথম যে ঘটনার কথা বললাম, ছোট ছোট মেয়েদের যৌনকাজে নিয়োজিত করার ব্যাপারটা...সেখানে কেউ কি ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে যৌনসেবা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে বা নিয়োগ দিতে পারে? এটা নিশ্চয়ই আইনত বৈধ হওয়ার কথা না। পতিতাবৃত্তি আইনে (১৯৩৩) অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনকর্মে নিযুক্ত করা নিষিদ্ধ। যদি তা-ই হয়, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এত সাহসের সঙ্গে পাবলিকলি কীভাবে এসবের বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে? এগুলো দেখারও কি কেউ নেই?
এবার আসি গ্রাহকের প্রসঙ্গে। যাঁরা ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছ থেকে এ ধরনের সেবা নেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আইনটা কী সেটা সবার কাছেই স্পষ্ট হওয়া দরকার। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে পতিতাবৃত্তি নিরোধের জন্য রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই যে অনলাইন সার্ভিস বা ভার্চুয়াল সেক্সের ব্যাপারটা, এটার কি কোনো আইনত বৈধতা রয়েছে? কারণ, অনলাইনে যৌনসেবা দেওয়া ও নেওয়া দুটোর সঙ্গেই অনেকগুলো ব্যাপার জড়িয়ে রয়েছে। অনেকে যৌনসেবা দেওয়ার পর সেটার রেকর্ডিং রেখে দিয়ে পরবর্তী সময়ে গ্রাহককে হয়রানি করতে পারে, বারবার অর্থ চেয়ে ব্ল্যাকমেল করতে পারে, মানহানির ভয় দেখাতে পারে। অন্যদিকে গ্রাহকের পরিবার ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষতির কথা না হয় না-ই বললাম। মনে যেসব প্রশ্ন রয়ে যায় তা হলো—আজকাল কি শুধু পেটের দায়েই নারীরা যৌনসেবামূলক কাজে জড়ান? শিশুরা কি আর শিশু নেই? তারাও কি বুঝে গেছে ‘কাম’ কী? শিশুদের প্রতি কী আচরণ করা উচিত, তা কি আমরা দিন দিন ভুলতে বসেছি? কোনো আইনই আর আইন নেই? সম্পর্কের মূল্য কি দিন দিন কমে যাচ্ছে? আর? আমরা কি আদৌ জানি, আমরা আসলে কী চাই?
বাংলাদেশে পতিতাবৃত্তি আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। তবে, এই বিষয়ে আইন আরও জোরদার হওয়া উচিত। নয়তো একটা সময় গিয়ে আমরা ভুলে যাব ন্যায়-অন্যায় বলে জগতে সত্য়িই কিছু আছে।
লেখক:– সহসম্পাদক আজকের পত্রিকা

দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ক্যাডেট কলেজের আদলে ৬০০ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতিটি সংসদীয় আসনে ছেলে ও মেয়েদের জন্য একটি করে আবাসিক সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ গড়ে তোলা হবে।
১০ ঘণ্টা আগে
প্রচলিত একটি কথা আছে, পৃথিবীর বুকে কৃষির প্রথম বীজটি বপন হয়েছিল কোনো এক নারীর সুনিপুণ হাতে। সভ্যতার উন্মেষকাল থেকে আজ অবধি কৃষির সঙ্গে নারীর এই নাড়ির টান একটুও ছিন্ন হয়নি, বরং কালের পরিক্রমায় তা পেয়েছে নতুন মাত্রা।
১০ ঘণ্টা আগে
ব্রিটিশ আমলে ১৮৭০ সালে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনো শহরের ভেতরে অনেক লাল বিল্ডিং চোখে পড়ে। একসময় এই উপজেলা শহরে হাজার হাজার মানুষ রেল কারখানায় কাজ করত। তবে কারখানাটির এখন আর সেই জৌলুশ নেই।
১০ ঘণ্টা আগে
পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে মা-বাবা-সন্তানের সম্পর্ক। একসময় মা-বাবার অকারণ অপত্যস্নেহ দেখে সমালোচনা করত মানুষ। এখন মা-বাবা অবলীলায় সন্তানকে হত্যা করতে পারেন, লাশ লুকিয়েফেলে দিতে পারেন কোথাও এবং দোষ চাপাতে পারেন মেয়ের স্বামীর ওপর। ৮ জুলাই রাতে খুলনা শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় নির্জনা নামের...
১ দিন আগে