
সম্প্রতি ওমানের পরিবেশ অধিদপ্তর বন্য প্রাণী নিয়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা যেভাবে বন্য প্রাণী নিয়ে ছবি তুলছেন আর ভিডিও বানাচ্ছেন, তাতে বন্য প্রাণী মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে, বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, কিছু কনটেন্ট নির্মাতা অনুমতি ছাড়া দোফারের প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা বন্য প্রাণী নিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, কনটেন্ট নির্মাতারা এখানে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছেন। ফলে বন্য প্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এর ফলে মানুষ ও বন্য প্রাণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব বেড়ে যাচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এভাবে চলতে থাকলে বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকাটাও অসহনীয় হয়ে উঠবে। তারা প্রকৃত গাইডলাইন মেনে অনুমতি নিয়ে বন্য প্রাণীর ছবি ও ভিডিও তুলতে পরামর্শ দিয়েছে।
এটা তো ওমানের দোফারের ঘটনা। সেই দোফার, যেখানে অত্যন্ত দুর্লভ আরবীয় চিতাবাঘ, আরব সাগরের হাম্পব্যাক তিমির মতো প্রাণীরা বসবাস করে। বন্য প্রাণী নিয়ে এ ধরনের ঘটনা আমাদের এখানেও ঘটে চলেছে। কিছুদিন আগে আমাদের অভিনেত্রী জয়া আহসান এ রকম একটি ঘটনার জন্য চটেছিলেন। তিনি বিরক্ত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন—‘এ আরেক উপদ্রব বনের ভেতর। বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মন চাইলেই লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন শুরু করা যায়? মাইকের শব্দ, গানবাজনা এগুলো কি অ্যালাউ করা ঠিক এ রকম সেনসেটিভ জায়গায়?’
ভারতের কান্তারা চলচ্চিত্র নিয়ে অনেকেই আমরা অনেক কিছু জানি। অনেকেই সিনেমাটি দেখেছি। ঋষভ শেঠি ২০২২ সালে ‘কান্তারা’ সিনেমার মাধ্যমে অনেক আলোচিত হন। তিনি সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। পাশাপাশি সিনেমা রচনা ও পরিচালনাও করেন। তিনি যখন ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তি ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ওয়ান’ বানাচ্ছিলেন, তখন ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়—এই সিনেমায় কর্ণাটকের গোভিগুদ্দা এলাকায় বনের ভেতর বেশির ভাগ শুটিং করা হয়। শুটিং করতে গিয়ে বনের অংশ পোড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তাঁরা পরিবেশ ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পুলিশ স্টেশনে অভিযোগও করেন। সিনেমাটি করতে শুধু চারণভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুটিংয়ে বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বন্য হাতিরা আতঙ্কিত হয়ে গ্রামে আক্রমণ শুরু করে। শুটিং টিমের সঙ্গে এ নিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সেই সংঘর্ষে শুটিং টিমের একজন আহত হয়েছেন। সেখান থেকে তখন গ্রামবাসী শুটিং সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
বাংলাদেশেও সিনেমার অভিনয় করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। এই তো কিছুদিন আগে একটি নাটকের অভিনয় করছিলেন বুবলী ও সজল। তাঁরা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত একটি বনে শুটিং করছিলেন। নীরবে শুটিং করে চলে এলে বোধ করি তেমন কথা হতো না। কিন্তু বিপত্তি বেধেছে অন্য জায়গায়। শুটিং চলাকালে বন্য হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
২০২২ সালেই একটি নাটকে খাঁচাবন্দী টিয়া পাখি দেখানো হয়। নাটকটির নাম ‘শেষ গল্পটা তুমিই’। খাঁচাবন্দী টিয়া পাখির দৃশ্য দেখানো হয় ৪৫ সেকেন্ড। পরিচালকের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা হয়। বন্য প্রাণীর অপরাধ দমন ইউনিট নাটকটির চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অরণ্য ইমনের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী আইন ভাঙার অভিযোগ আনে।
একবার অবশ্য ‘হাওয়া’ সিনেমার বিরুদ্ধে বন বিভাগ মামলার আবেদন করে বসে। বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। অভিযোগে শালিক পাখিকে খাঁচায় বন্দী রাখা, মেরে খাওয়া কিংবা শাপলাপাতা মাছ ধরার দৃশ্য আইন লঙ্ঘনের নজির বলে অভিযোগ করা হয়। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২-এর ৩৮-১, ৩৮-২, ৪০ ও ৪৬ ধারায় মামলা করে। এটা ২০২২ সালের কথা।
বনে শুটিং করলে যেটা হয়, বনে থাকা বন্য প্রাণীরা নানাভাবে উত্ত্যক্ত হয়। এর ফলে বন্য প্রাণীদের আচরণ ও বাসস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ রকমের উত্ত্যক্তের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। শুটিংয়ের কারণে বন্য প্রাণীর আচরণগত পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে শুটিং এলাকার পশুপাখিদের এমন পরিবর্তন দেখা যায়। বন্য প্রাণীরা তাদের বিচরণ এলাকা থেকে অন্যত্র সরে যায়। বিচরণ এলাকার এমন পরিবর্তনের কারণে পশুপাখির স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ে। এর ফলে বন্য প্রাণীর প্রাচুর্যতা ও স্বভাব-বাসস্থানের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। শুটিংয়ের কারণে আগুন জ্বালানো বা গাছ কাটার মতো ঘটনা ঘটলে বনের বাস্তুতন্ত্র পরিবর্তিত হয়।
সম্প্রতি একটি পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ি এলাকায় বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসের পেছনে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। তাঁদের লক্ষ্য থাকে হাতির পালকে উত্ত্যক্ত করে ভিডিও তোলা। কেউ ঢিল মারে, কেউ চিৎকার করে হাতিদের ক্ষিপ্ত করে থাকে। বন বিভাগের লোকজন এসব কাজে বাধা দিলে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বন বিভাগের কর্মীদের ওপর চড়াও হন। এতে করে হাতির আচরণের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তারা দিনের বেলায়ও ধানখেতে চলে আসছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কারণে হাতি বিশ্রাম করারও সুযোগ পাচ্ছে না। বন বিভাগ যদিও জনসচেতনতার জন্য মাইকিং করছে, কিন্তু এতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এর ফলে এখানে যে ঘটনাটি ঘটছে তা হলো হাতির আক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। হাতি হত্যার ঘটনা যেমন বাড়ছে, বাড়ছে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানিও।
হাতি আমাদের দেশের মূল্যবান সম্পদ। আমাদের জীবন যেমন আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান, হাতির জীবনও তেমনি। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা শুধু ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট তৈরি করেন না। সমাজের অসংগতি, ভুল ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেও তাঁরা কনটেন্ট নির্মাণ করেন। নিজেদের নীতি-নৈতিকতা, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে শুধু ভাইরাল হলে, সেই ভাইরাল হওয়ার কোনো মূল্য থাকবে না। মানুষ ও সমাজ এসব কনটেন্ট ক্রিয়েটর মনে রাখবেন না। তাঁদের বলি, বরং এমন কনটেন্ট বানান, যা দেখে মানুষের শুভবুদ্ধি জাগ্রত হবে। মানুষ মানুষকে যেমন মূল্য দিতে শিখবে, ঠিক তেমনি মানুষ পশুপাখিকেও মূল্য দিতে শিখবে। ইচ্ছে হলেই আপনি যেকোনো কিছুর ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে পারেন না, এর জন্য অনুমতির দরকার পড়ে। আমরা এই সামান্য অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করি না।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দায়িত্ব অনেক। তাঁরা চাইলে সমাজের অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আনতে পারেন। শুধু প্রয়োজন এতটুকু বোঝাপড়া যে আপনি শুধু ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট তৈরি করবেন না; আপনার সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশের প্রতি একটা দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্ব থেকেই কনটেন্ট তৈরি করুন। আপনিও একটি পরিবর্তন চাইতে পারেন। একটা ভালো পরিবর্তন।
ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র, পরিবেশবিষয়ক লেখক

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটিকে আমার কাছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ গুরুত্বহীন, সম্মানিত অথচ অবহেলিত, ক্ষমতাবান এবং একই সঙ্গে ক্ষমতাহীন ব্যক্তি বলে মনে হয়। উনি অনেক কিছুই পারেন, অথচ কিছুই পারেন না। মাত্র দেড়টি কাজ ছাড়া আর সবকিছুই তাঁকে করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।
২ ঘণ্টা আগে
মুরগি, গরু, খাসি—যেকোনো মাংসের চাপ সুস্বাদু বটে। তবে অতিরিক্ত কাজের চাপ যেমন জীবনে কোনো ‘মজা’ যোগ করে না, তেমনি পানির চাপও চরম বিপদের কারণ হয়। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে হয়ে যাওয়া টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার পানির চাপ সেই প্রমাণ দিচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
জি এম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি লালমনিরহাট-৩ ও রংপুর-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সপ্তম, অষ্টম, নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।
১ দিন আগে
সবকিছুর দাম বাড়ে, মানুষের দাম বাড়ে না। এই আক্ষেপ এখন অনেকের। বিশেষ করে নুন আনতে পান্তা ফুরায় যাদের, তারা বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে করতে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করেছিল যারা, তাদের মনেও সংশয়।
১ দিন আগে