Ajker Patrika

সখীপুরে তরুণী অপহরণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণ: দুজনের যাবজ্জীবন, দুজনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ১০
সখীপুরে তরুণী অপহরণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণ: দুজনের যাবজ্জীবন, দুজনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক তরুণীকে অপহরণের পর দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং এতে সহায়তার দায়ে চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াছ এ রায় ঘোষণা করেন। প্রধান আসামিসহ দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অপর দুজনকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সখীপুর পৌরসভার ছোট চওনা এলাকার মো. খোরশেদ আলমের ছেলে মো. শহীদ ও সখীপুর থানার তেলধারা (বাঘবেড়কুলিয়া) গ্রামের আবু হানিফের স্ত্রী অজুফা বেগম।

অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শহীদকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ও অজুফা বেগমকে ধর্ষণের কাজে সহায়তা করার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সে সঙ্গে অপহরণের দায়ে সখীপুরের বড় চওনা (কেলকুড়ি) গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. ইসমাইল এবং কচুয়া গ্রামের মো. মজিবর রহমানের ছেলে মো. আব্দুর রহমানকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলা চলাকালে অপর আসামি মো. বাবুল মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, ২০২০ সালের ১৮ মে রাতে ভুক্তভোগী সখীপুরের কীর্তনখোলায় যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে আসামিরা তাঁর গতি রোধ করে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

পরে নির্জন স্থানে তাঁকে কুপিয়ে ও মারধর করে আসামি অজুফা বেগমের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে আসামি শহীদ, ইসমাইল, আব্দুর রহমান ও বাবুল তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ভুক্তভোগী উদ্ধার হলে সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাবুল আকতার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়।

বিচারের সময় ট্রাইব্যুনাল ভুক্তভোগীর জবানবন্দি, মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট, সুরতহাল এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও পর্যালোচনা করেন। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন। রায়ে আদায় করা জরিমানার অর্থ সংক্ষুব্ধ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত