Ajker Patrika

আবারও যৌন হয়রানি

সম্পাদকীয়
আবারও যৌন হয়রানি

শিক্ষকেরা যদি তাঁদের সম্মানের আসন অক্ষুণ্ন রাখতে না পারেন, তাহলে শিক্ষালয়ে সুশিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়। উচ্চশিক্ষা মানেই জ্ঞানের চর্চা, জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কতটা এগিয়ে গেল, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নতুন কী আবিষ্কার করলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলেন—এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ছে, এ কথা ভেবে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু শিক্ষকের বিরুদ্ধে যদি নিজেরই সন্তানসম ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই স্বস্তি মুহূর্তের মধ্যে অস্বস্তিতে পরিণত হয়। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক শিক্ষাসফরে গিয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ওই প্রভাষককে সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা এবং পরবর্তী সময়ে কোনো শিক্ষাসফরের দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উদ্বেগের ব্যাপার হলো, প্রথমে যখন এই হয়রানির বিষয়টি জানাজানি হয়েছিল, তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। অভিযোগ আছে, এই শিক্ষকের কাছ থেকে সাধারণ মুচলেকা নিয়ে ঘটনাটি সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রশাসন যদি এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনার পর মুখ বন্ধ করে থাকে এবং আইনি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই শিক্ষকের খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই প্রভাষক ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিয়োগ পাওয়া সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল মজিদের সময় নিয়োগ পান। এটাই কি ছিল এই শিক্ষকের মূল যোগ্যতা? নইলে প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে শুরুতে ব্যবস্থা গ্রহণ করল না কেন? তখনই প্রশাসনের টনক নড়ল, যখন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে থাকলেন।

যেকোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। দেখতে হবে, তদন্ত কমিটিতে যেন শুধু প্রশাসনের লোক না থাকে। সে ক্ষেত্রে তাদের প্রভাবে মূল ঘটনা বদলে যেতে পারে। অবশ্যই তদন্ত কমিটিতে নারী সদস্য, মনোবিজ্ঞানী, আইনজ্ঞ থাকতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে তাঁর শিক্ষকের অসদাচরণের ব্যাপারে অভিযোগ আনা খুব কঠিন। এতে পরীক্ষায় নম্বর কমে যাওয়ার ভয়, সামাজিক অপবাদের ভয়, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনের ব্যাপারে শঙ্কা থাকে। ফলে মরিয়া না হলে কেউ অভিযোগ করে না। আসলে প্রচলিত ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তার পরিবর্তন প্রয়োজন। অশালীন ন্তব্যকে ‘মজা’ বলে এড়িয়ে যাওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহারকে স্বাভাবিক ঘটনা মনে করা, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে কথা বলার স্বাধীনতা থাকা দরকার। আমাদের শিক্ষায়তনগুলোর নীতিনির্ধারকেরা কেন ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার ব্যাপারে কঠোর হন না, সে প্রশ্নও তাঁদের কাছে করা উচিত।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই করা বাঞ্ছনীয়। নইলে শিক্ষালয়ে যৌন হয়রানিসহ নানা উপসর্গের জন্ম হতেই থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত