Ajker Patrika

অফিসকে বাসা বানিয়ে থাকছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী

ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ  
অফিসকে বাসা বানিয়ে থাকছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী
ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অফিসকে বাসা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী। রীতিমত রান্নাবান্নাসহ বিদ্যুতের অবাধ ব্যবহারও করা হচ্ছে সেখানে। এত সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে সময়মতো অফিসে না আসার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা বিষয়টি স্বীকার করলেও নাগরিক সমাজ তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

নগরের বাউন্ডারী রোডে অবস্থিত পাঁচতলা দৃষ্টিনন্দন ভবনটি ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়। ভবনের পঞ্চম তলার তিনটি কক্ষ ব্যবহার করছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। এর মধ্যে একটি কক্ষ ডাইনিং হিসেবে এবং বাকি দুটি আবাসিক কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়াও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, নকশাকার রাশেদুল ইসলাম, এস্টিমেটর হুমায়ূন কবীর, উচ্চমান সহকারী হাদিউল ইসলাম মোড়ল, ইলেক্ট্রিশিয়ান জেবারুল মিয়াসহ মোট আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে অবস্থান করছেন।

তারা অফিসের বিদ্যুৎ, পানি, এসি, ফ্রিজ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করছেন। আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে অফিস কক্ষে পাওয়া যায়নি। পরে পঞ্চম তলায় গিয়ে হাবিবুর রহমানকে পাওয়া গেলেও শফিকুর রহমানের কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

সাংবাদিক দেখে চমকে যান নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। এরপর বলেন, “পরিবার ঢাকায় থাকায় ময়মনসিংহে আলাদা বাসা ভাড়া নিইনি। অফিসের গেস্টরুমে থাকছি। ভাড়া হিসেবে কিছু টাকা আগামী জুন মাসে সরকারকে দেব।”

সকাল সাড়ে ৯টার সময় অফিসে না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সকাল ৯টায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নাশতা খেতে উপরে উঠেছি।”

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে কক্ষে পাওয়া না গেলেও তিনি মুঠোফোনে বলেন, “আমাদের থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।”

অভিযুক্ত উচ্চমান সহকারী হাদিউল ইসলাম মোড়ল বলেন, “আমাদের চাকরির বিধিতে অফিসে রাত্রিযাপনের নিয়ম নেই। কিন্তু স্যার (নির্বাহী প্রকৌশলী) থাকায় বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। স্যার না থাকলে আমরাও থাকব না।”

এদিকে অফিসে কর্মরত আয়া মমতাজ বেগম জানান, গত ছয় মাস ধরে তিনি আটজনের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা রান্না করছেন। তিনি বলেন, “প্রথমে জনপ্রতি এক হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললেও এখন মোট ছয় হাজার টাকা দেয়। ঈদে বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি। প্রতিদিন ৪-৫ পদের রান্না করতে হয়। সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।”

এভাবে সরকারি অফিসকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাসিক কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ। তিনি বলেন, “এটি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে অন্য কর্মকর্তারাও সতর্ক হবেন।”

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত