সম্প্রতি মাদ্রাসাগুলোতে শিশু ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ধর্মভিত্তিক এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের চরম গর্হিত অপরাধের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিশুরা শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মর্মে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ প্রচলিত আছে। তবে কতটি মাদ্রাসায় কতটি শিশু এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তার বার্ষিক পরিসংখ্যান রাখা জরুরি। যদিও এমন উদ্যোগ নিতে তেমন কোনো সংস্থা বা গোষ্ঠীকে দেখা যায় না। ফলে এহেন পৈশাচিক ঘটনার বেশির ভাগই অন্তরালে থেকে যায়। ঘটনাক্রমে প্রকাশ পায় মাত্র কিছু। নির্যাতিত শিশুদের অধিকাংশেরই পরিবার লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনা চেপে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অনেককেই আবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ কিংবা দোষী ব্যক্তির দ্বারা ‘ধর্মীয় গোপনীয়তা রক্ষা’র নামে ধর্মীয় জুজুর ভয় দেখানো হয়। সংঘটিত পৈশাচিক ঘটনাবলি এভাবে ধামাচাপা দিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের বাধ্য করানো হয়। তবে ধর্ষিত শিশু বা নারীর জীবন যখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন কোনো না কোনোভাবে ঘটনা প্রকাশ পায়। তখন নড়েচড়ে বসে মিডিয়া ও প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এহেন কুকর্ম যেন রীতিমতো একটি ঘৃণ্য গুপ্তসংস্কৃতির রূপ নিয়েছে।
বলা বাহুল্য, ধর্মের প্রতি সাধারণ মানুষের দুর্বলতা শাশ্বত। বিশেষ করে প্রান্তিক স্তরের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় দুর্বলতা অন্যদের চেয়ে তুলনামূলক বেশিই থাকে। সেই দুর্বলতা থেকেই তারা সাধারণত মাদ্রাসাশিক্ষার দিকে ঝোঁকে। অপরাধীরা ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে ফাঁদ পেতে সেই দুর্বলতাকে তাদের পৈশাচিক রিপু চরিতার্থের কাজে লাগায়। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এহেন পশুবৃত্তিক গর্হিত অপরাধের বিরুদ্ধে কথিত আলেমসমাজকে সোচ্চার হতে দেখা যায় না; তৎপর হতে দেখা যায় না ধর্মের আলোকিত শিক্ষার আলোকে এসব পৈশাচিক কুকর্মের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে। অথচ এদের (কথিত আলেম) অনেককেই নারীবিদ্বেষী ফতোয়া দিতে ও সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াতে বেশ উচ্চকণ্ঠ হতে দেখা যায়। মনগড়া ফতোয়ায় এদের অনেকেই আবার যে কাউকে যখন-তখন কাফির, মুশরিক, মুরতাদ, মোনাফিক, বিধর্মী, জাহান্নামি প্রভৃতি নেতিবাচক সনদ দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। ধর্মীয় কোনো ইস্যুতে পান থেকে চুন খসলেই তথাকথিত অতি ধার্মিকতার ভাবাবেগে তাদের অনেকেই আবার দ্বিধা করে না জনপদ অশান্ত করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিতেও।
পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকেও এমন পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় না। এমনকি নারীবাদী ও প্রগতিশীল গোষ্ঠীরও তেমন একটা প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। ফলে এসব (একশ্রেণির) লেবাসী পিশাচের দ্বারা অবলীলায় নীরবে-নিভৃতে যৌন ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সমাজের অসহায় নারী ও শিশু।
উল্লেখ্য, মাদ্রাসাশিক্ষার আড়ালে এসব অপরাধীর পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা কিংবা প্রতিবাদ করলেই তাদের (অপরাধী) সমর্থনে একশ্রেণির ধর্মান্ধ ও উগ্রবাদীরা ‘মাদ্রাসাশিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে’ মর্মে উপস্থাপন করে তাদের কুকর্মগুলোকে আড়াল করার অপকৌশল চালায় এবং এভাবে একপ্রকার বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে ‘ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘নাস্তিক’ ট্যাগ দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে সমালোচনাকারী বা প্রতিবাদকারীকে মবের কোপানলে ফেলার অপচেষ্টাও চালানো হয়। এভাবে তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে মূলত অপরাধীদের অপকর্মসমূহ আড়াল করে নিরাপত্তা দেয়।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় একজন মাদ্রাসার পরিচালক ১১ বছরের একটি শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন মর্মে অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন যে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তী সময়ে ওই চিকিৎসক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরলে তা মিডিয়াসহ সাধারণ মানুষের নজরে আসে। এরপরই প্রশাসন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এ কারণে ওই চিকিৎসক ধর্মান্ধ ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা ব্যাপক সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। এমনকি তিনি ও তাঁর পরিবার হত্যার হুমকিরও শিকার হন মর্মে বিষয়টি তিনি প্রশাসনের নজরে আনেন। অবশ্য হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে অদ্যাবধি প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এটা খুবই স্পষ্ট যে ওই চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত সমাজে একটি ভয়ার্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও তা যেন প্রকাশ না পায়। অর্থাৎ, ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে এমন পৈশাচিক ঘটনা ঘটলে তা যেন সব সময় ধামাচাপাতেই থাকে।
উল্লেখ্য, ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে এ জাতীয় নরপশুরা কখনোই ধর্মের লোক হতে পারে না। এদের যারা সরাসরি অথবা নীরবতার মাধ্যমে সমর্থন করে, তারাও প্রকৃতপক্ষে ধর্মের লোক হতে পারে না। এ জাতীয় নরপিশাচেরা শুধু মানুষ ও সভ্যতারই শত্রু নয়, ধর্মেরও শত্রু বটে। এদের কুকর্মের দ্বারা নষ্ট হয় ধর্মের পবিত্রতা। ভূলুণ্ঠিত হয় ধর্মের মাহাত্ম্য।
সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে যেখানে তার অধিকাংশই প্রকাশ পায়, সেখানে ধর্মীয় শিক্ষালয়ের (সব নয়) মতো গুপ্তধর্ষণের ঘটনা নেহাতই কম প্রকাশ হয়। ধর্ষণ গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে যেভাবেই ঘটুক না কেন, তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ-জাতীয় পশুসুলভ নরপিশাচেরা সর্বৈব পরিত্যাজ্য। তবে বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে এহেন পশুত্বের চর্চা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। কেননা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মানুষের সর্বোচ্চ ও সর্বশেষ আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা। সাধারণ মানুষ ধর্মের প্রতি সব সময়ই সরলপ্রাণ ও সরলমনা থাকে। ফলে একজন অপরাধী যদি ধর্মীয় লেবাসে থাকে, তবু সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ সরলতার দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে একজন ধার্মিক মর্মে বিশ্বাস করেন। সমাজের অন্য মানুষের চেয়ে তাকে অপেক্ষাকৃত বিশেষ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন বা ভাবেন। এসব অপরাধী ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে সেই সরলতারই সুযোগ নেয়। তাই এ ধরনের ধুরন্ধর অপরাধীরা কখনোই ক্ষমার যোগ্য নয় এবং তাদের শাস্তিও বিশেষ দৃষ্টান্তমূলক হওয়া উচিত, যাতে তারা এমন পশুবৃত্তিক প্রবণতা থেকে নিবৃত্ত থাকে।
বিরাজমান পরিস্থিতি যেন এক অঘোষিত সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তাই এই সংকট নিরসনে প্রবলভাবে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এমনকি রাজনৈতিকভাবেও এই সংকটকে মোকাবিলা করতে হবে। সমাজ ও সভ্যতার মর্যাদা রক্ষার দায় সবারই। এ ক্ষেত্রে দুরবস্থা উত্তরণে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে, বিদ্যমান নৈতিক অবক্ষয় রোধে নীরবতা ভেঙে সম্মানিত আলেমসমাজকেই বেশি এগিয়ে আসতে হবে। কেননা, ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার দায় সবচেয়ে বেশি তাদেরই।

আমি একসময় মিরপুর এলাকায় থাকতাম। সেটা আমার পেশাগত জীবনের শুরুর দিকের কথা। তখন রিপোর্টার ছিলাম। বয়সও কম। যেকোনো বিষয় নিয়েই কৌতূহল, বিস্তারিত জানারও ইচ্ছা হতো। মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলীর মাজার নিয়ে একবার আগ্রহ জন্মাল।
১ ঘণ্টা আগে
শিক্ষকেরা যদি তাঁদের সম্মানের আসন অক্ষুণ্ন রাখতে না পারেন, তাহলে শিক্ষালয়ে সুশিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়। উচ্চশিক্ষা মানেই জ্ঞানের চর্চা, জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কতটা এগিয়ে গেল, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নতুন কী আবিষ্কার করলেন...
১ ঘণ্টা আগে
ড. রুশাদ ফরিদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। জাতীয় বাজেটে প্রত্যাশা এবং বিভিন্ন খাতে যথার্থ অর্থ বরাদ্দ ও তা যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়ার কারণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা...
১ দিন আগে
এবার যেভাবে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি দেখছি, কদম ফুল ফোটা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে বর্ষাকাল বুঝি এসে গেছে। এ বছর মে মাসে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মে মাসে দুই থেকে তিনটি তীব্র বজ্রঝড় ও এক-দুটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১ দিন আগে