Ajker Patrika

সাদ্দামের প্যারোল: বাগেরহাটের ডিসি ও মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন কথা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎বাগেরহাট প্রতিনিধি­যশোর প্রতিনিধি
সাদ্দামের প্যারোল: বাগেরহাটের ডিসি ও মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন কথা
জুয়েল হাসান সাদ্দাম। ছবি: সংগৃহীত

­স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর যশোরে কারাবন্দী নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলের (সাময়িক মুক্তি) জন্য তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় মন্ত্রণালয়। এদিকে, সাদ্দামের স্বজনেরা জানিয়েছেন তাঁর প্যারোলের জন্য বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়। যশোরে করতে বলা হয়নি।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বর্ণালীর বাবার বাড়ির কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। এর আগে সাবেকডাঙ্গা স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাঁদের জানাজা হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত ও নয় মাসের শিশুসন্তান নাজিফের মেঝেতে রাখা নিথর দেহ উদ্ধার হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও সাদ্দামকে প্যারোল না দেওয়ায় দেশজুড়েআলোড়ন সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাদ্দামের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনা হয় কারা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি কারাবন্দী জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলের বিষয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আবেদন জমা পড়েনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, পরিবারের মৌখিক ইচ্ছার ভিত্তিতে মানবিক বিবেচনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে সাদ্দামকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ক্ষেত্রে যশোর জেলা প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে বলে দাবি করা হয়।

যশোর কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সব নিয়ম মেনে শনিবার সন্ধ্যায় মরদেহ দুটি কারাফটকে আনা হলে সাদ্দামকে সেখানে নেওয়া হয়। স্ত্রীকে শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখেন এবং জীবনে প্রথমবারের মতো নিজের মৃত সন্তানকে কোলে তুলে নেন তিনি। এ দৃশ্যে উপস্থিত স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সাদ্দামকে প্যারোলের জন্য আবেদন করা তাঁর মামা হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি আবেদন করেছিলাম। জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু যশোর জেলে, তাই আমাদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। পরে বাগেরহাটের জেল সুপারের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন, আমাদের কোনো সুযোগ নেই, আপনারা যশোরে মরদেহ নিয়ে দেখা করিয়ে আসেন। পরে আমরা যশোরে যাই। সেখানেও মাত্র ৪-৫ মিনিট সময় দিয়েছে মাত্র।’

হেমায়েত হোসেন আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসন ও কারাগার থেকে যদি আমাদের বলা হতো যশোরে আবেদন করেন, তাহলে আমরা তা করতাম। কিন্তু আমাদের কেউ জানায়নি।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘প্যারোলের একটি আবেদন নিয়ে আসছিল। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। যেহেতু সে আছে যশোরের কারাগারে, আবেদন করতে হবে সেখানকার (যশোরের) জেলা প্রশাসক বা জেল সুপারের কাছে। তবে প্যারোলের ক্ষেত্রে মুক্তি পেলে শুধু ওই জেলার মধ্যে তার প্যারোলের হুকুমটা কার্যকর হবে। এখানকার প্রশাসন তাদের বিষয়ে যশোর জেলা কারাগারেও বলে দিয়েছিল যেন কারাবন্দী সুন্দরভাবে, সঠিকভাবে স্বজনের লাশ দেখতে পারে।’

আজকের পত্রিকার বাগেরহাট প্রতিনিধি রোববার সকালে সাদ্দামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, সাদ্দামরা তিন ভাই ও তিন বোন। বাবা একরাম হাওলাদার মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। একতলা ভবনে সাদ্দামের মা, এক বোন ও সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তান থাকতেন। সাদ্দামের এক ভাই সরকারি চাকরি করেন। আরেক ভাই প্রকৌশলী। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেন, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাগেরহাট শহরের বগা ক্লিনিক এলাকায় যাই। তখন পুত্রবধূ, নাতি, এক মেয়ে ও মেয়ের ছেলে বাড়িতে ছিল। পুত্রবধূ কানিজের সঙ্গে কথা ছিল, দুপুরের দিকে তিনিও ওই বিয়েবাড়িতে যাবেন। কিন্তু ১টা ৪৫ মিনিটে তাঁকে (সাদ্দামের মা) পাশের বাড়ি থেকে মুঠোফোনে জানানো হয়, তাঁর পুত্রবধূ গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সাদ্দামের মা আরও বলেন, ‘আমার খুব শান্তির সংসার। বউমা ও নাতনিকে নিয়ে আমি থাকতাম বাড়িতে। আমার সংসারে কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু কেন যে ও এমন করল জানি না।’

এদিকে নিহত কানিজের ভাই শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বলেন, ‘আমার বোন আত্মহত্যা করার মতো মানুষ না। ঘটনার পরে সাদ্দামের পরিবারের যে ব্যবহার, তাতে মনে হয়েছে কোনো সমস্যা আছে।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী বলেন, ‘মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। যেসব ধোঁয়াশা আছে, সেগুলো তদন্তের বেরিয়ে আসবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলের জন্য আবেদন করেছিল পরিবার: বাগেরহাটের ডিসি

‘তোর পোলা-মাইয়াও যেন তোরে না দ্যাহে’, বাগেরহাটের ডিসি-এসপিকে হুমকি

‘পাকিস্তান না খেললে বিশ্বকাপ আর বিশ্বকাপ থাকবে না’

কুমিল্লা-১০: হাইকোর্টে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মোবাশ্বের, দেখালেন বিএনপির মনোনয়ন

খুলনায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার র‍্যাব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত