Ajker Patrika

দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ১৫: ২০
দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার

দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তফসিলভুক্ত এবং অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৯ দশমিক ২৯ শতাংশ, সংখ্যায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯ জন। মারমা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ, সংখ্যায় ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬১ জন। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সংখ্যায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮ জন এবং সাঁওতাল ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ, সংখ্যায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪ জন বাস করেন। খাগড়াছড়িতে ২১ দশমিক ১৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ জন বসবাস করেন। বান্দরবানে ১২ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৫ জন বসবাস করেন।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণ প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে রক্ষা এবং সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পটিতে একটি ফ্লোর পাবলিক লাইব্রেরির জন্য বরাদ্দ দেওয়ার বিষয় উল্লেখ আছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে বই পড়ার সুযোগ পৌঁছে দিতে বর্তমানে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ৩৬৮টি উপজেলা বা থানার ৩ হাজার ২০০ স্পটে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের জন্য পঠনের বিকল্প উৎস তৈরি, পাঠাভ্যাসের উন্নয়ন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংগীত ও চারুকলার চর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি সম্প্রসারণে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন শিক্ষাক্রমে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বিতরণ, স্কুল-কলেজভিত্তিক নাট্যোৎসব এবং সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে স্থানীয় তরুণদের এসব অনুষ্ঠানে সরাসরি সম্পৃক্ত করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সমকালীন শিল্প ও সাহিত্য সংরক্ষণ, মুক্তচিন্তার প্রসার এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির মানসিক বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৪১ কাঠা জমি বরাদ্দ দিয়েছে। ওই জমিতে আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপনের লক্ষ্যে ডিপিপি তৈরির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত