মিসরের ঐতিহ্যবাহী খাবার

মিসরের খাদ্যসংস্কৃতির ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরের প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। নীল নদের উর্বর অববাহিকা, বিভিন্ন সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সংস্কৃতির মিশ্রণে এই রন্ধনশৈলী গড়ে উঠেছে। মিসরের খাবার মূলত শস্য, শাকসবজি এবং সুগন্ধযুক্ত মসলার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই প্রাচীন দেশের দুটি রেসিপি রইল আপনাদের জন্য।

ফিতির মেশালতেত হলো মিসরের একটি জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী স্তরযুক্ত পেস্ট্রি। এটি দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের বহু স্তরবিশিষ্ট পরোটার মতো হলেও এর স্বাদ ও তৈরি প্রক্রিয়া একেবারেই অনন্য। এই খাবারের শিকড় প্রোথিত রয়েছে প্রাচীন ফারাওদের আমলে। সেই যুগে ফিতির মেশালতেত দেবতাদের উদ্দেশে মন্দিরগুলোতে নৈবেদ্য বা উৎসর্গীকৃত খাবার হিসেবে পেশ করা হতো। কালের বিবর্তনে এটি আজ মিসরের আতিথেয়তার অন্যতম প্রতীক। বর্তমানে যেকোনো ধর্মীয় উৎসব, বিয়ে এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে এটি ঐতিহ্যগতভাবেই তৈরি ও পরিবেশন করা হয়। যদিও মিসরের বহু রেস্তোরাঁয় এটি পাওয়া যায়, তবে লোকমুখে প্রচলিত যে মিসরের গ্রামীণ কৃষকদের স্ত্রীদের হাতের তৈরি ‘ফিতির’ সবচেয়ে সুস্বাদু হয়।
ফিতির মেশালতেত মূলত তিনভাবে খাওয়া যায়। এর পরিবেশন রীতিও বেশ চমৎকার।
সাধারণ বা প্লেইন ফিতির: এর ভেতরে কোনো পুর থাকে না। এটি সাধারণত মিষ্টি ও ঝাল—দুই ধরনের সাইড ডিশের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। যেমন ফলের জ্যাম, মধু, চিজ এবং সবুজ জলপাই।
ঝাল পুরযুক্ত: এর ভেতরে কিমা করা গরুর মাংস বা চিজের পুর দেওয়া থাকে। এটি পরিবেশন করা হয় কাটা টমেটো, শসা এবং এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে।
মিষ্টি পুরযুক্ত: এর ভেতরে হালুয়া, চকলেট কিংবা কিশমিশের পুর দেওয়া থাকে। এটি সাধারণত এমনিতেই খাওয়া যায়। তবে চাইলে ফলের জ্যাম ও ক্রিম মিশিয়েও এটি খাওয়া যায়।
মিষ্টিমুখ করতে চাইলে মিসরের বিখ্যাত ডেজার্ট বা মিষ্টি খাবারের তালিকায় সবার ওপরে থাকবে উম্মে আলী। এটি মূলত একধরনের দুধ ও পেস্ট্রির মিশ্রণে তৈরি পুডিং। এটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সমান জনপ্রিয়। এর বিভিন্ন নাম আছে। যেমন ওম আলী, উম্মে আলী, ওমালি।

এই রাজকীয় ডেজার্টের নামের পেছনে রয়েছে তেরো শতকের এক রোমাঞ্চকর কিংবদন্তি। আরবি উম্মে আলী শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো আলীর মা। ইতিহাস বলে, তৎকালীন সুলতান ইজ্জ আল-দিন আইবাকের স্ত্রী এক বিশেষ বিজয় ও আনন্দের মুহূর্তে এই মিষ্টি পদ তৈরির নির্দেশ দেন। তিনি মূলত আলীর মা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই মিষ্টি প্রস্তুত করার পর পুরো মিসরের সাধারণ মানুষের মাঝে এটি উৎসবের অংশ হিসেবে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই মিষ্টির নাম ও স্বাদ অপরিবর্তিত রয়েছে।
উম্মে আলী গরম কিংবা ঠান্ডা—দুভাবেই পরিবেশন করা যায়। এটি তৈরির জন্য প্রথমে সাধারণ পাউরুটি কিংবা পাফ পেস্ট্রিকে ছোট ছোট টুকরা করে ভেঙে একটি পাত্রে সাজানো হয়। এরপর এতে পরিমাণমতো চিনি, তরল দুধ এবং নারকেলের কোরা একসঙ্গে ভালো করে মেশানো হয়। এমনভাবে মেশানো হয়, যাতে পেস্ট্রিগুলো দুধ শুষে নিতে পারে। মিশ্রণটির ওপর ছেটানো হয় কিশমিশ, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম এবং সামান্য দারুচিনির গুঁড়া। সবশেষে পাত্রটি ওভেনে দিয়ে বেক করা হয়। পুডিংয়ের ওপরের অংশটি সোনালি-বাদামি রং হওয়া পর্যন্ত বেক করা হয়।
সূত্র: টেস্ট এটলাস

দৈনিক চার ঘণ্টা বা তার বেশি সময় টিভি দেখার অভ্যাস মস্তিষ্কজনিত জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বিহেভিয়ারাল নিউট্রিশন অ্যান্ড ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা। ‘ইউকে বায়োব্যাংক’-এর ডেটা বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা...
১ ঘণ্টা আগে
বাসি খাবার দ্রুত গরম করার জন্য মাইক্রোওয়েভ ওভেন আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। অফিস বা ঘরের ব্যস্ততায় কয়েক মিনিটেই খাবার ধোঁয়া ওঠা গরম করে নেওয়ার সুবিধা অতুলনীয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, সব খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করার জন্য উপযুক্ত নয়? কিছু খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে শুধু তার স্বাদ ও টেক্সচারই নষ্ট হয়...
৩ ঘণ্টা আগে
আজকের ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। বর্তমানে এটি কিশোর-কিশোরীদের জীবনযাপনের ধরনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। বিউটি টিউটরিয়াল দেখা কিংবা প্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের ব্যবহৃত মেকআপসামগ্রী কেনা, এসবই যেন এখন বয়ঃসন্ধিকালের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে পর্দার এই ঝলমলে দুনিয়ার পেছনে
৬ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে আত্ম-উন্নয়ন বা লাইফস্টাইলের যেকোনো অভ্যাসের পেছনে ‘ম্যাক্সিং’ শব্দটি যুক্ত করার এক অদ্ভুত প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোকে বলা হচ্ছে ‘বুকসম্যাক্সিং’। ফাইবারযুক্ত খাবার বেশি খাওয়াকে ‘ফাইবারম্যাক্সিং’। চেহারার আকর্ষণ বৃদ্ধিতে ‘লুকসম্যাক্সিং’, কিংবা একটু স্বস্তির
৮ ঘণ্টা আগে