
যখন তুর্কি নারীর সৌন্দর্যের কথা বলা হয়, তখন আমাদের মনে ভেসে ওঠে কোমল, উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী নারীদের অবয়ব। তুর্কি নারীদের সুন্দর ত্বকের রহস্য কোনো নামীদামি প্রসাধনী নয়, বরং তাঁদের দেশের আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব প্রবল। এর পাশাপাশি তাঁরা ত্বকে প্রাকৃতিক কয়েকটি উপকরণ ব্যবহার করেন, যেগুলোর গুণে তাঁদের ত্বক থাকে গভীর থেকে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল। যদি আপনার ত্বকও সম্প্রতি ক্লান্ত বা নিষ্প্রাণ বলে মনে হয়, তবে তুর্কি-অনুপ্রাণিত এই সৌন্দর্য কৌশলগুলো হয়তো আপনার জন্য সঠিক সমাধান হতে পারে।

তুরস্কে গোলাপজল কোনো বিলাসবহুল স্কিনকেয়ার সামগ্রী নয়। এটি খুবই সাধারণ একটি উপকরণ। স্থানীয় বাজারে এটি খুব সহজলভ্য। তুর্কি নারীরা বাথরুমের তাকে, ড্রেসিং টেবিলে ও হ্যান্ডব্যাগে এটি রাখেন। তুর্কি নারীরা তাঁদের ত্বক ঠান্ডা রাখতে, লালচে ভাব কমাতে এবং গরম, ঘর্মাক্ত দিনে আবার সতেজ বোধ করতে এটি চিরকাল ব্যবহার করে আসছেন। মুখ ধোয়ার পর অনেক তুর্কি নারীই কড়া টোনার ব্যবহার না করে ত্বকে গোলাপজল আলতো করে ব্যবহার করেন। কেউ কেউ দিনের বেলায় ত্বক শুষ্ক বা টানটান লাগলে মুখে স্প্রেও করেন এটি। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, কেন গোলাপজল এত ব্যবহৃত হয়? গোলাপজল মৃদু এবং আরামদায়ক। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখে, পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মেকআপ ছাড়াই ত্বক পরিচ্ছন্ন ও সতেজ রাখে। তাই তুর্কি নারীদের মতো পরিচ্ছন্ন ত্বক পেতে একটি ছোট স্প্রে বোতলে গোলাপজল ভরে রাখুন। মুখ ধোয়ার পর বা যখনই আপনার ত্বক নিস্তেজ মনে হবে, তখন এটি মুখে ব্যবহার করুন। গরমকালে এটি ফ্রিজে রাখুন। ক্লান্ত ত্বকে স্প্রে করলে আরাম পাওয়া যাবে।
তুর্কিরা কেবল দৈনন্দিন জীবনের নিয়ম হিসেবেই নয়, ত্বক উজ্জ্বল রাখতেও দীর্ঘসময় ধরে গোসল করেন। ত্বক মসৃণ, পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর দেখাতে স্টিম বাথের পর তাঁরা ত্বকে স্ক্রাব করেন। শরীর শিথিল করতে এবং লোমকূপগুলো খুলে দেওয়ার জন্য স্টিমবাথ নেন। এরপর একটু ধারালো লুফা দিয়ে ত্বক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করেন। এতে মৃত কোষ ঝরে যায়। ত্বক হয়ে ওঠে ভেতর থেকে উজ্জ্বল। এরপর ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক তা ভালোভাবে শুষে নিতে পারে এবং ত্বকের গভীরে পুষ্টি পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।
তুর্কি পরিবারগুলোতে টক দই শুধু খাওয়ার জন্যই নয়, এটি ত্বকের যত্নের জন্যও সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। রোদে পোড়া দাগ, ত্বকের জ্বালা ভাব এবং নিষ্প্রভ ভাবের সমস্যা দূর করার জন্য এটি একটি পুরোনো দিনের প্রতিকার। সাধারণত তাঁরা টক দই সরাসরি মুখে লাগান। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক মনে হলে অনেকে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে নেন। গ্রীষ্মকালে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়, যখন সূর্যের তাপে ত্বকের ক্ষতি হয়। এটি কেন কার্যকর? দই ত্বক আলতোভাবে এক্সফোলিয়েট করে, লালচে ভাব কমায় এবং কোনো রকম রুক্ষতা ছাড়াই ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে। এটি আরামদায়ক ও সহজ। পরিষ্কার ত্বকে ঘন টক দইয়ের প্রলেপ লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তুর্কি নারীরা সপ্তাহে একবার বা দুবার এই প্যাক ব্যবহার করেন। এতে তাঁদের ত্বক হয়ে ওঠে তুলতুলে নরম ও উজ্জ্বল।

তুরস্কে প্রচুর পরিমাণে জলপাই তেল উৎপন্ন হয়। তাই এটি যে তাঁদের সৌন্দর্যচর্চার একটি অপরিহার্য উপাদান, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। হেয়ার সিরাম এবং দামি ক্রিমের অনেক আগে থেকে শুষ্ক চুল, রুক্ষ ত্বক এবং ভঙ্গুর নখের জন্য জলপাই তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেখানে। তুর্কি নারীরা গোসলের পর ত্বকে কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল লাগান। নখের গোড়া, ভ্রু বা এমনকি চোখের পাতায় হালকাভাবে ব্যবহার করেন এটি। জলপাই তেল ভালো চর্বি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি কোনো অপ্রয়োজনীয় উপাদান ছাড়াই আপনার চুল ও ত্বকে পুষ্টি জোগায়। অনেক নারীই এটি সাপ্তাহিক হেয়ার মাস্ক হিসেবে অথবা চুলের শুষ্ক আগায় সারা রাত লাগিয়ে রাখেন।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য

ফুটবলের দেশ বললেই সবার আগে যে দুটি দেশের নাম আমাদের মনে আসে, তার একটি আর্জেন্টিনা, অন্যটি ব্রাজিল। মজার বিষয় হলো, ফুটবল জনপ্রিয় হলেও এই দুটি দেশের কোনোটিরই জাতীয় খেলা ফুটবল নয়। আর্জেন্টিনার সরকারি জাতীয় খেলার নাম পাতো (Pato)। ঘোড়ার পিঠে চড়ে এ খেলা খেলতে হয়। এটি এমনই এক রোমাঞ্চকর খেলা, যেখানে...
১ দিন আগে
কাগজের নোট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স—কোনোটিই কমবে না। এদিকে শপিং ব্যাগ ভর্তি করার নিখাদ আনন্দটুকু ঠিকই পাওয়া যাবে। বিষয়টি শুনতে অবাস্তব মনে হলেও তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের কাছে এটিই এখন মানসিক শান্তি খোঁজার আধুনিক ট্রেন্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ...
১ দিন আগে
টান টান উত্তেজনা, গ্যালারিজুড়ে হাজারো দর্শকের গর্জন আর মাঠের সবুজ ঘাসে বল দখলের লড়াই। সাত সকালে ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ জমিয়ে তুলতে সঙ্গে রাখুন ঐতিহ্যবাহী ম্যাক্সিকান কফি। মেক্সিকোর শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই কফির নাম ক্যাফে দে ওল্লা। সব উপাদান ঘরে থাকলে তো ভালোই হলো, না থাকলে আপনার ঘরে থাকা...
১ দিন আগে
ফুটবল দল হিসেবে অনেকেরই প্রিয় মেক্সিকো। খুব কম হলেও মেক্সিকান খাবারের চল আছে আমাদের দেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে। সালসা মেক্সিকোর একটি সসজাতীয় খাবার। এটির সঙ্গে মিশিয়ে বিভিন্ন খাবার খাওয়া হয়। দুটি জনপ্রিয় মেক্সিকান খাবার সালসা অ্যান্ড চিপস এবং ম্যাঙ্গো সালসা। মেক্সিকান রান্নায় সালসার ব্যবহার বেশ...
১ দিন আগে