Ajker Patrika

আপনার অস্থিরতার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল আবেগটি চিনুন

ফিচার ডেস্ক  
আপনার অস্থিরতার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল আবেগটি চিনুন
নিজের ভেতরের প্রকৃত আবেগটিকে চিনতে পারাই হবে মানসিক প্রশান্তি ফেরার প্রথম ধাপ। ছবি: পেক্সেলস

আপনি কি দিনের শেষে তুচ্ছ কোনো কারণে মেজাজ হারান? ধরুন, ট্রাফিক জ্যামে বসে আছেন। হঠাৎ পাশের জনের কোনো একটা কথায় কি রেগে যান? অথবা কারও ছোট একটা কথায় কি একদম ভেঙে পড়েন? আপনার অস্থিরতার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল আবেগটি চিনুন। জানুন এটা কেন হচ্ছে। এই অনুভূতিকে আমরা এক কথায় বলি ‘ফ্রাস্ট্রেশন’ বা ‘বিরক্তি’। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘আমরা যাকে স্রেফ বিরক্তি বলে এড়িয়ে যাই, তা আসলে একটি বহুতল ভবনের ওপরের তলার মতো। এর নিচে লুকিয়ে থাকে অনেক গভীর ও জটিল কিছু আবেগ।’

বিখ্যাত থেরাপিস্ট এবং মেন্টাল হেলথ কলামিস্টদের মতে, বিরক্তি বা ফ্রাস্ট্রেশন হলো একটি ‘ছাতা’র মতো। এর নিচে চাপা পড়ে থাকে আমাদের আসল মানসিক অবস্থা। আপনি যদি আপনার অস্থিরতার প্রকৃত কারণটি খুঁজে না পান, তবে এর সমাধান করা অসম্ভব।

আসল আবেগটি চিনুন

যখন আপনি অনুভব করেন যে কোনো কিছু আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন আপনার মনের ভেতরে নিচের যেকোনো একটি আবেগ কাজ করতে পারে:

রাগ: একে বলতে পারেন বিরক্তির সবচেয়ে কাছের বন্ধু। যখন কোনো ব্যক্তি বা বস্তু আপনার কাজে বাধা দেয় তখন আপনার মনে যে আগুন জ্বলে ওঠে। এটাই আসলে রাগ। একে আড়াল না করে বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রকাশ করা শিখতে হয়।

উদ্বেগ বা ভয়: অনেক সময় আমরা ভয় পাচ্ছি—এটা স্বীকার করার চেয়ে ‘বিরক্ত হচ্ছি’ বলাকে বেশি নিরাপদ মনে করি। ডাক্তার সময়মতো রিপোর্ট দিচ্ছেন না কিংবা সঙ্গী অনেকক্ষণ ধরে ফোন ধরছেন না। এখানে বিরক্তির চেয়েও বড় হলো আপনার অনিশ্চয়তার ভয়। আপনি আসলে নিরাপত্তা বা নিশ্চয়তা খুঁজছেন।

বিষণ্নতা বা দুঃখ: কোনো পরিস্থিতি যখন বদলানো অসম্ভব মনে হয়, তখন আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। প্রিয় কোনো স্বপ্নপূরণ না হওয়া বা চাকরি হারানোর ফলে যে বিরক্তি তৈরি হয়। তার মূলে রয়েছে গভীর দুঃখবোধ। একে স্রেফ বিরক্তি বলে উড়িয়ে দিলে মন থেকে সেই শোক কখনো মুছে যায় না।

অপরাধবোধ: ধরুন, আপনার কোনো ভুলের জন্য বন্ধু আপনাকে এখনো ক্ষমা করেনি। আপনি হয়তো তার ওপর বিরক্ত হচ্ছেন যে কেন সে বিষয়টি ভুলে যাচ্ছে না। কিন্তু গভীরে তাকালে দেখবেন, আপনি আসলে নিজের ওপর ক্ষুব্ধ। আপনি নিজেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছেন না বলেই এই বিরক্তির জন্ম।

লজ্জা: আত্মবিশ্বাসের অভাব বা নিজেকে ‘অযোগ্য’ মনে করার প্রবণতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিরক্তি আসতে পারে। যখন মনে হয় আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত জীবন যাপনের যোগ্য নন, তখন সেই হীনম্মন্যতা বিরক্তির রূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে।

কীভাবে সামলাবেন এই অস্থিরতা?

বিরক্তি কোনো স্থায়ী অনুভূতি নয়, এটি একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া মাত্র। যখন আপনার মেজাজ খিটখিটে হবে বা মনে হবে সবকিছু অসহ্য লাগছে, তখন নিজেকে প্রশ্ন করুন ‘আমি কি আসলেই বিরক্ত, নাকি অন্য কিছু?’ নিজের ভেতরের সেই প্রকৃত আবেগটিকে চিনতে পারাই হবে মানসিক প্রশান্তি ফেরার প্রথম ধাপ। মনোবিজ্ঞানীরা ফ্রাস্ট্রেশন বা বিরক্তি সামলানোর জন্য কিছু কার্যকরী কৌশলের কথা বলেন।

আবেগটিকে নাম দিন: আপনি কি আসলেই বিরক্ত, নাকি ভয় পাচ্ছেন? আপনার আবেগকে সঠিক নামে চিহ্নিত করতে পারলেই আপনার অর্ধেক অস্থিরতা কমে যাবে। একে বলা হয় ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’।

মাইন্ডফুলনেস বা সচেতনতা: বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিন। আশপাশে কী ঘটছে, আপনার শরীরে কী অনুভূতি হচ্ছে তা বিচার না করে কেবল অনুভব করার চেষ্টা করুন।

তাৎক্ষণিক কৌশল: যখন বিরক্তি চরমে পৌঁছাবে, তখন গভীরভাবে শ্বাস নিন। এটি আপনার স্নায়ুকে শান্ত করবে এবং ভুল কিছু করে বসা থেকে বিরত রাখবে।

দৃষ্টিভঙ্গি বদলান: আমরা অনেক সময় যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তা নিয়ে বেশি ভাবি। নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে এমন বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিলে বিরক্তি কমে আসে।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন: পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম আপনার সহনশীলতা বাড়ায়। শরীর ভালো থাকলে ছোটখাটো বিষয়ে বিরক্ত হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, ভেরি ওয়েল মাইন্ড

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বিজেপি সরকারের

দুদক আইন: কমিশনশূন্যতায়ও দুদক ‘সচল’ রাখতে আইন সংশোধন হচ্ছে

ইরান সংকট সমাধানে সির সহায়তা চান ট্রাম্প, বিনিময়ে কী ছাড়তে হবে

ফরিদপুরে বাসে চাঁদাবাজি, অভিযুক্তদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা

সাবেক মন্ত্রী মোশাররফের জানাজা ঘিরে নিরাপত্তা বলয়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত