ফিচার ডেস্ক

সবুজ পাহাড়, জলপাইগাছ আর আঙুরবাগানে ঘেরা এক মনোরম গ্রাম রাদিকনদলি। ছবির মতো গ্রামটি ইতালির টাসকানি অঞ্চলের সিয়েনা শহরের কাছে। একসময় প্রাণচঞ্চল মধ্যযুগীয় বসতি হলেও এখন তা প্রায় জনশূন্য। যেখানে আগে ৩ হাজারের মতো মানুষ থাকত, সেখানে এখন বাস করে মাত্র ৯৬৬ জন। গ্রামের ৪৫০টি বাড়ির মধ্যে শতাধিক খালি পড়ে রয়েছে।
এই হারানো জনজীবন ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামে গিয়ে বসবাস করলে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ সহায়তা।

বাড়ি কিনলেই নগদ টাকা
২০২৩ সালে রাদিকনদলি গ্রামে প্রথম চালু হয় এই প্রকল্প। যাঁরা খালি বাড়িগুলোর একটি কিনে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, তাঁদের দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ২০ হাজার ইউরো বা প্রায় ২৩ হাজার ডলার। পাশাপাশি পরিবহন খরচসহ বাড়তি খাতে আরও ৬ হাজার ইউরো সহায়তা।
এ বছর কর্মসূচিটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। শুধু ক্রেতা নয়, ভাড়াটিয়ারাও এই সহায়তা পাবেন। যাঁরা ভাড়া নিয়ে বসবাস করবেন, তাঁদের প্রথম দুই বছরের অর্ধেক ভাড়া সরকার বহন করবে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত। মেয়র ফ্রান্সিসকো গুয়ারগুয়াগলিনি জানান, ‘দুই বছর আগে যে কর্মসূচি শুরু করেছিলাম, সেটিকে আমরা আরও শক্তিশালী করেছি। এ বছরই আমরা ৪ লাখ ইউরোর বেশি বরাদ্দ রেখেছি নতুন বাসিন্দাদের জন্য।’

বাড়ি কেনা বা ভাড়ার খরচ
এখানকার খালি বাড়িগুলোর মধ্যে আছে ছোট অ্যাপার্টমেন্ট, পুরোনো খামারবাড়ি, শহরতলির টাসকান স্টাইলের ফার্ম হাউস। পাথর গাঁথা দেয়াল, কাঠের বিম আর পুরোনো ইটের কারুকাজে সাজানো এই বাড়িগুলোর দাম ৫০ থেকে ১ লাখ ইউরোর মধ্যে। যেসব বাড়ি কিছুটা পুরোনো, সেগুলো সংস্কারে লাগে প্রায় ১০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ পুরো সহায়তা পেলে কেউ চাইলে ৩০ হাজার ইউরো বা ৩৫ হাজার ডলারের মধ্যে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্ট কিনে নিতে পারেন। ভাড়াটেরাও কম দামে উপকৃত হচ্ছেন। যে বাড়ির মাসিক ভাড়া ৪০০ ইউরো, সেটি এখন ভর্তুকিতে মাত্র ২০০ ইউরোতে পাওয়া যায়। শর্ত হলো, বাড়ি কিনলে অন্তত ১০ বছর এবং ভাড়া নিলে ৪ বছর সেখানে থাকতে হবে।
হারিয়ে যাওয়া প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা
গ্রামের জনসংখ্যা কমতে শুরু করে ১৯৫০ সাল থেকে। তখন তরুণেরা কাজের সন্ধানে বড় শহরে পাড়ি জমান। এই শহরে প্রতিবছর প্রায় ১৫ জন বয়স্ক মানুষ মারা যান, অথচ জন্ম হয় মাত্র ৩টি শিশুর। ২০২৩ সালে প্রকল্প চালুর পর এখন ২৩টি বাড়ি বিক্রি হয়েছে। ৬০ জন নতুন বাসিন্দা এসেছেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ইতালিয়ান, কিছু বেলজিয়ানও আছেন। শহরের মেয়রের লক্ষ্য, অন্তত ১ হাজার বাসিন্দার এখানে জায়গা করা।

অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল
রাদিকনদলি শুধু সুন্দর নয়, টেকসইও বটে। পুরো গ্রাম চলে ভূতাপীয় শক্তিতে। এখানেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থার কাছ থেকে এর জন্য গ্রামটি রয়্যালটি পায়। মেয়র গুয়ারগুয়াগলিনি বলেন, ‘আমরা ছোট হলেও অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল।’ গ্রামটি সিয়েনা শহর থেকে ৪০ মিনিট এবং ফ্লোরেন্স থেকে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে। যদিও পর্যটকের ভিড় তুলনামূলক কম। এখানে আঙুরের মদ, জলপাই তেল, পিচি পাস্তা ও বুনো শূকরের মাংস এখানকার বিশেষ খাবার। এখানে বছরজুড়ে নানা উৎসব, লোকজ মেলা আর সংগীতানুষ্ঠান হয়।
নতুন জীবনের আহ্বান
রাদিকনদলির বাড়িগুলো দেখতে চাইলে স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্সি ভি পি ইমোবিলিয়ারে গিয়ে দেখা যাবে। এ ছাড়া দেশের বড় কয়েকটি ওয়েবসাইটের বাড়িগুলোর তালিকা রয়েছে।
বেলফোর্তের পাথরের সরু গলি, শান্ত পরিবেশ এবং ছোট বসতবাড়িতে এখনো কিছু স্থানীয় পরিবার বসবাস করছেন। মেয়ররা আশা করছেন, নতুন মানুষদের আগমনে এই ঘুমন্ত টাসকানি গ্রাম আবারও জীবন্ত হয়ে উঠবে। গ্রামে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন প্রাণ এবং গ্রামটির ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য আরও ছড়িয়ে পড়বে।
সূত্র: সিএনএন

সবুজ পাহাড়, জলপাইগাছ আর আঙুরবাগানে ঘেরা এক মনোরম গ্রাম রাদিকনদলি। ছবির মতো গ্রামটি ইতালির টাসকানি অঞ্চলের সিয়েনা শহরের কাছে। একসময় প্রাণচঞ্চল মধ্যযুগীয় বসতি হলেও এখন তা প্রায় জনশূন্য। যেখানে আগে ৩ হাজারের মতো মানুষ থাকত, সেখানে এখন বাস করে মাত্র ৯৬৬ জন। গ্রামের ৪৫০টি বাড়ির মধ্যে শতাধিক খালি পড়ে রয়েছে।
এই হারানো জনজীবন ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামে গিয়ে বসবাস করলে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ সহায়তা।

বাড়ি কিনলেই নগদ টাকা
২০২৩ সালে রাদিকনদলি গ্রামে প্রথম চালু হয় এই প্রকল্প। যাঁরা খালি বাড়িগুলোর একটি কিনে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, তাঁদের দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ২০ হাজার ইউরো বা প্রায় ২৩ হাজার ডলার। পাশাপাশি পরিবহন খরচসহ বাড়তি খাতে আরও ৬ হাজার ইউরো সহায়তা।
এ বছর কর্মসূচিটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। শুধু ক্রেতা নয়, ভাড়াটিয়ারাও এই সহায়তা পাবেন। যাঁরা ভাড়া নিয়ে বসবাস করবেন, তাঁদের প্রথম দুই বছরের অর্ধেক ভাড়া সরকার বহন করবে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত। মেয়র ফ্রান্সিসকো গুয়ারগুয়াগলিনি জানান, ‘দুই বছর আগে যে কর্মসূচি শুরু করেছিলাম, সেটিকে আমরা আরও শক্তিশালী করেছি। এ বছরই আমরা ৪ লাখ ইউরোর বেশি বরাদ্দ রেখেছি নতুন বাসিন্দাদের জন্য।’

বাড়ি কেনা বা ভাড়ার খরচ
এখানকার খালি বাড়িগুলোর মধ্যে আছে ছোট অ্যাপার্টমেন্ট, পুরোনো খামারবাড়ি, শহরতলির টাসকান স্টাইলের ফার্ম হাউস। পাথর গাঁথা দেয়াল, কাঠের বিম আর পুরোনো ইটের কারুকাজে সাজানো এই বাড়িগুলোর দাম ৫০ থেকে ১ লাখ ইউরোর মধ্যে। যেসব বাড়ি কিছুটা পুরোনো, সেগুলো সংস্কারে লাগে প্রায় ১০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ পুরো সহায়তা পেলে কেউ চাইলে ৩০ হাজার ইউরো বা ৩৫ হাজার ডলারের মধ্যে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্ট কিনে নিতে পারেন। ভাড়াটেরাও কম দামে উপকৃত হচ্ছেন। যে বাড়ির মাসিক ভাড়া ৪০০ ইউরো, সেটি এখন ভর্তুকিতে মাত্র ২০০ ইউরোতে পাওয়া যায়। শর্ত হলো, বাড়ি কিনলে অন্তত ১০ বছর এবং ভাড়া নিলে ৪ বছর সেখানে থাকতে হবে।
হারিয়ে যাওয়া প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা
গ্রামের জনসংখ্যা কমতে শুরু করে ১৯৫০ সাল থেকে। তখন তরুণেরা কাজের সন্ধানে বড় শহরে পাড়ি জমান। এই শহরে প্রতিবছর প্রায় ১৫ জন বয়স্ক মানুষ মারা যান, অথচ জন্ম হয় মাত্র ৩টি শিশুর। ২০২৩ সালে প্রকল্প চালুর পর এখন ২৩টি বাড়ি বিক্রি হয়েছে। ৬০ জন নতুন বাসিন্দা এসেছেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ইতালিয়ান, কিছু বেলজিয়ানও আছেন। শহরের মেয়রের লক্ষ্য, অন্তত ১ হাজার বাসিন্দার এখানে জায়গা করা।

অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল
রাদিকনদলি শুধু সুন্দর নয়, টেকসইও বটে। পুরো গ্রাম চলে ভূতাপীয় শক্তিতে। এখানেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থার কাছ থেকে এর জন্য গ্রামটি রয়্যালটি পায়। মেয়র গুয়ারগুয়াগলিনি বলেন, ‘আমরা ছোট হলেও অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল।’ গ্রামটি সিয়েনা শহর থেকে ৪০ মিনিট এবং ফ্লোরেন্স থেকে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে। যদিও পর্যটকের ভিড় তুলনামূলক কম। এখানে আঙুরের মদ, জলপাই তেল, পিচি পাস্তা ও বুনো শূকরের মাংস এখানকার বিশেষ খাবার। এখানে বছরজুড়ে নানা উৎসব, লোকজ মেলা আর সংগীতানুষ্ঠান হয়।
নতুন জীবনের আহ্বান
রাদিকনদলির বাড়িগুলো দেখতে চাইলে স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্সি ভি পি ইমোবিলিয়ারে গিয়ে দেখা যাবে। এ ছাড়া দেশের বড় কয়েকটি ওয়েবসাইটের বাড়িগুলোর তালিকা রয়েছে।
বেলফোর্তের পাথরের সরু গলি, শান্ত পরিবেশ এবং ছোট বসতবাড়িতে এখনো কিছু স্থানীয় পরিবার বসবাস করছেন। মেয়ররা আশা করছেন, নতুন মানুষদের আগমনে এই ঘুমন্ত টাসকানি গ্রাম আবারও জীবন্ত হয়ে উঠবে। গ্রামে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন প্রাণ এবং গ্রামটির ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য আরও ছড়িয়ে পড়বে।
সূত্র: সিএনএন

বাইরের পৃথিবীতে হাসিমুখে থাকা কিংবা অন্যদের হাসানো আমাদের অনেকের কাছে খুব সহজ মনে হয়। কিন্তু দিন শেষে নিজের আপনজন বা পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানো মাঝে মাঝে বেশ কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সাধারণত পরিবারকে এমন একটি নিরাপদ আশ্রয় ভাবি, যেখানে আমাদের সব ধরনের আবেগ, রাগ বা বিরক্তি সরাসরি প্রকাশ করে
১ ঘণ্টা আগে
অনেকে মনে করেন, ভাগ্য হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু বাস্তবে ভাগ্য তৈরি হয় আমাদের অভ্যাস, দৃষ্টিভঙ্গি এবং চারপাশের পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের আচরণের মাধ্যমে। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট। জাপানের হিরোশিমায় কাজ করছিলেন সুতোমু ইয়ামাগুচি। সেদিন ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হয় ঠিক তাঁর সামনেই।
২ ঘণ্টা আগে
শীতে বাড়িতে কোনো না কোনো স্য়ুপ তো তৈরি করছেনই। খাওয়ার সময় একটা জিনিসই মিস করছেন, তা হলো অনথন। ইতস্তত না করে বাড়িতে এবার বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু এই খাবার।
৪ ঘণ্টা আগে
কথাটা সবার সঙ্গে নিশ্চয় মিলে গেল! আমরা যারা ফিট থাকতে চাই, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চাই, বছরের শেষ দিনটিতে প্রায় প্রত্যেকে একটি প্রতিজ্ঞা করি। সেই প্রতিজ্ঞায় থাকে, এই বছর আমরা কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাব না, কোনো ধরনের ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত শর্করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার, চিনি ইত্যাদি এড়িয়ে চলব...
৮ ঘণ্টা আগে