Ajker Patrika

সারা টেন্ডুলকারের কাছে ভালোবাসা মানেই বন্ধুত্ব

ফিচার ডেস্ক
সারা টেন্ডুলকারের কাছে ভালোবাসা মানেই বন্ধুত্ব
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের কন্যা হিসেবে শুধু নয়, সারা টেন্ডুলকার প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর উপস্থিতির কারণে। ব্যক্তিগত জীবনের ঝলকের মাধ্যমে তিনি ইন্টারনেটের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে গুজবগুলো ভক্তদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ভালোবাসা, নিজের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী ও কেমন বিয়ে চান, সে সম্পর্কে সারার অকপট মন্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অনেকের। সারা টেন্ডুলকার কেমন জীবনসঙ্গী চান, তা নিশ্চয়ই জানতে মন চাইছে? জেনে নিন তাহলে—

‘ভোগ’-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক কথোপকথনে সারা তাঁর বাবা-মা শচীন ও অঞ্জলি টেন্ডুলকার সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। জানিয়েছেন, তাঁদের সম্পর্ক তাঁকে একটি স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে যে তিনি তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ সঙ্গীর কাছ থেকে কী চাইবেন। সারা মনে করেন, তাঁর মা-বাবা অন্য সবকিছুর আগে খুব ভালো বন্ধু। তিনি জানান, বাড়িতে তাঁদের মধ্যে যে খুনসুটির সম্পর্ক, তা তিনি নিজের সম্পর্কেও পেতে চান।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সারা বলেন, ‘বাড়িতে তাঁদের মধ্যে খুব মজার খুনসুটি হয় এবং এটা এমন একটা গুণ, যা আমি আমার ভবিষ্যৎ সঙ্গীর মধ্যে অবশ্যই চাইব।’ তিনি তাঁর মা-বাবার মধ্যকার সুস্থ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন, বিশেষ করে তাঁদের সম্পর্কে কর্তৃত্বের লড়াইয়ের অনুপস্থিতির বিষয়টি। সারা আরও বলেন, ‘তাঁদের মধ্যে ক্ষমতার কোনো দ্বন্দ্ব কখনোই কাজ করে না, যা সত্যিই অসাধারণ।’

মা-বাবার বিয়ে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সারা টেন্ডুলকার স্মরণ করেন কীভাবে তাঁদের নিজ নিজ পেশার কারণে প্রায়ই দূরত্বের সম্পর্ক বজায় রাখতে হতো। তাঁর মা অঞ্জলি একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, অন্যদিকে শচীন তাঁর কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্রিকেটের জন্য বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে কাটিয়েছেন। সারা স্মরণ করেন, কীভাবে অঞ্জলি প্রায়ই পরিবারের দৈনন্দিন রুটিনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেন, এমনকি সন্তানদের জন্য পড়াশোনার সময়সূচিও তৈরি করতেন। সারা বলেন, ‘যখন আমি ছোট ছিলাম, আমি ভাবতাম সব সম্পর্কই এমন হয়।’ তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে শুরু করেন, দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও তাঁর মা-বাবা দারুণভাবে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছিলেন; বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন যোগাযোগ রাখা আজকের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ছিল।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

‘পেয়ার দোস্তি হ্যায়’—এই জনপ্রিয় ধারণাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সারা হেসে উত্তর দেন, ‘একদম ঠিক। ভালোবাসা মানেই তো বন্ধুত্ব!’

ভবিষ্যতে কীভাবে বিয়ে করতে চান, সে সম্পর্কেও এবার মুখ খুলেছেন সারা। তিনি জানান, তাঁর ভাইয়ের বিয়ে তাঁকে বিয়ের অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর পছন্দ-অপছন্দগুলো বোঝার একটি চমৎকার সুযোগ করে দিয়েছে। সারা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা আমার জন্য একটা দারুণ পরীক্ষামূলক পর্ব ছিল। এখন আমি জানি, আমি কী চাই আর কী চাই না।’

মজার ব্যাপার হলো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্বপ্নের বিয়ের ধারণা বদলে গেছে। সারা জানান, কৈশোরে তিনি একটি বড়সড় বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন এবং নিশ্চিত ছিলেন যে তিনি প্যাস্টেল রঙের পোশাক পরবেন। তবে এখন তিনি ছোটখাটো অনুষ্ঠানের দিকেই ঝুঁকছেন এবং লাল রঙের পোশাক পরার কথা ভাবছেন।

সারা বলেন, ‘আমি তুলা রাশির জাতিকা। খুব সিদ্ধান্তহীন। কে জানে কী পরব!’ তিনি আরও যোগ করেন, তিনি হয়তো বিয়ের পোশাকে সবুজ রংও বেছে নিতে পারেন।

সারা টেন্ডুলকারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই অনলাইনে আলোচনা হয়েছে, বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেটার শুবমান গিলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিষয়ে। বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁদের নাম একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, যা ভক্তদের মধ্যে ক্রমাগত জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি সারার নাম বলিউড অভিনেতা সিদ্ধান্ত চতুর্বেদীর সঙ্গেও জড়িয়েছে। তবে সারা বা যাঁদের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে, তাঁদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেননি।

সূত্র: ভোগ ইন্ডিয়া ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত