Ajker Patrika

নবীজি (সা.)-এর দাম্পত্যজীবনের টুকরো স্মৃতি

কাউসার লাবীব
নবীজি (সা.)-এর দাম্পত্যজীবনের টুকরো স্মৃতি
ছবি: সংগৃহীত

পূর্ণিমার রাত। চাঁদের গতর আজ আলোকোজ্জ্বল। মদিনার ধুলাবালিময় অলিগলি আজ একটু অন্য রকমই লাগছে। চাঁদের আলোয় ভরপুর। এদিকে জনমানবহীন নির্জন উপত্যকায় প্রিয় নবী (সা.)-এর সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলেন উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)। চারদিকে কেবল নীরবতা আর ধু ধু বালির রাজ্য। হঠাৎ করেই আয়েশা (রা.)-এর মনে এক অদ্ভুত ইচ্ছা জাগল। তিনি নবীজিকে বললেন, ‘প্রাণের স্বামী, একটা প্রতিযোগিতা হয়ে যাক। আসুন, আমাদের মধ্যে কে আগে দৌড়াতে পারে—দেখা যাক।’

আদরের স্ত্রীর কথা শুনে নবীজি (সা.) কিছুটা মুচকি হাসলেন। তাঁর সঙ্গে দূরের চাঁদটাও যেন হেসে উঠল। তিনি কোনো কথা বললেন না। ইশারায় বোঝালেন—তাহলে শুরু হোক।

আম্মাজান আয়েশা (রা.) দৌড় শুরু করলেন। তাঁর বয়স তখন কম। শরীরও বেশ হালকা-পাতলা। বাতাসের গতিতে তিনি ছুটে চললেন। সহজেই তিনি নবীজি (সা.)-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন। নবীজি (সা.)-ও যেন ইচ্ছা করেই হেরে গেলেন! প্রিয়তমার কাছে মাঝে মাঝে হেরে যাওয়াও তো আনন্দের।

সময় কেটে গেল। সময়ের ব্যবধানে আম্মাজান আয়েশা (রা.) একটু স্বাস্থ্যবান হলেন। আগের মতো হালকা-পাতলা শরীর আর নেই। আবারও জনমানবহীন নির্জন উপত্যকা দিয়ে প্রিয় নবী (সা.)-এর সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলেন উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)। দুজনেরই মনে হলো সেই দৌড় প্রতিযোগিতার কথা। এবার নবীজি (সা.) নিজেই বললেন, ‘চলো, আবার প্রতিযোগিতা করি।’

বলতে না বলতেই দৌড় শুরু করলেন আয়েশা (রা.)। তাঁর মনে তো ভিন্ন এক আগ্রহ—এর আগের বার তিনি বিজয়ী হয়েছেন; কিন্তু এবার চিত্র পাল্টে গেল। নবীজি (সা.) তাঁর চেয়ে দ্রুতগতিতে দৌড়ে বিজয়ী হলেন। হাসতে হাসতে প্রিয়তমাকে বললেন, ‘এই জয় সেই জয়ের বদলা।’

তথ্যসূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ২৫৭৮

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত