
মদিনার পথ ধরে হাঁটছিলেন আবু হুরায়রা (রা.)। সূর্য মাথার ওপর থেকে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। পেটের ভেতর ক্ষুধার আগুন জ্বলছে, যেন সেখানে ছোট ছোট পাথর জমা হয়ে আছে। একসময় আর না পেরে পথের পাশে বসে পড়লেন তিনি। তাঁর মুখ ফ্যাকাশে, চোখের গভীরে ক্লান্তি আর যন্ত্রণা। তিনি বুঝতে পারলেন, আজ আর কিছু মিলবে না।
তাঁর মতো অসংখ্য মুসাফির এমন অসহায় অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। তাঁদের না আছে ঘর, না আছে পরিবার। তাঁরা সবাই আল্লাহর মেহমান, যাঁদের একমাত্র আশ্রয় মসজিদে নববি। তাদের বলা হয়—আহলে সুফফা। ইলমের পিপাসায় তাঁরা তৃষ্ণার্ত। জ্ঞান অন্বেষণে তারা বসত গড়েছেন এখানে।
আবু হুরায়রা পথ দিয়ে আসা-যাওয়া করা সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এই পথ দিয়ে প্রায়ই আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) যাতায়াত করেন। আবু হুরায়রা (রা.) ভাবলেন, যদি তাঁদের কাছে কিছু খাবার চাওয়া যায়, তাহলে হয়তো কিছুটা ক্ষুধা নিবারণ হবে। তিনি মন স্থির করলেন, কিন্তু সরাসরি কিছু চাইতে পারলেন না। লজ্জায় মাথা নুয়ে এলো। তাই এক কৌশল অবলম্বন করলেন।
যখন আবু বকর (রা.) তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি কোরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। আবু হুরায়রার ইচ্ছা ছিল, তিনি উত্তর দিতে গিয়ে যদি তাঁর চেহারা দেখে বুঝতে পারেন তাঁর মনের কথা—তাহলে তিনি হয়তো কিছুটা খাবার দেবেন। কিন্তু আবু বকর (রা.) আয়াতের উত্তর দিয়ে চলে গেলেন। আবু হুরায়রা হতাশ হলেন। তিনি আবার পথ চেয়ে বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর উমর (রা.)-এর দেখা পেলেন। তাঁকেও সেই একই আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। কিন্তু তিনিও উত্তর দিয়ে চলে গেলেন।
আবু হুরায়রা (রা.)-এর সব আশা শেষ হয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, এই কঠিন সময়ে তিনি হয়তো কিছুই পাবেন না। মনের হতাশায় তিনি রাস্তার ধারে শুয়ে পড়লেন।
হঠাৎ তিনি শুনতে পেলেন মিষ্টি একটা কণ্ঠস্বর। সেই সুর তাঁর হৃদয়ে প্রশান্তির ঢেউ তুলল। তিনি চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলেন, স্বয়ং আবুল কাসেম, আমাদের প্রিয় নবী (সা.) তাঁর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছেন। নবীজি (সা.) তাঁর চোখের ভাষা বুঝতে পেরেছেন। তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বললেন, ‘আবু হুরায়রা, তুমি কি আমার সঙ্গে আসবে?’
আবু হুরায়রার চোখে পানি এসে গেল। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে নবীজির অনুসরণ করলেন। তাঁর মনে এক নতুন আশা জেগে উঠলো। তিনি ভাবলেন, হয়তো আজ নবীজি (সা.)-এর কাছ থেকে কিছু খাবার মিলবে।
নবীজির ঘরে ঢুকে আবু হুরায়রা অবাক হলেন। তিনি দেখতে পেলেন একটি পেয়ালায় কিছু দুধ রাখা আছে। নবীজি তাঁর পরিবারের লোকদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই দুধ কোথা থেকে এসেছে?’
পরিবারের লোকেরা বলল, ‘একজন মুসাফির আপনার জন্য হাদিয়াস্বরূপ পাঠিয়েছেন।’
নবীজি (সা.) তখন আবু হুরায়রাকে বললেন, ‘আবু হুরায়রা, আহলে সুফফার লোকদের ডেকে আনো।’
আবু হুরায়রা (রা.) এই কথা শুনে হতাশ হলেন। তাঁর মনে হলো, এতটুকু দুধ দিয়ে আহলে সুফফার সব লোকের কী হবে? প্রায় ৭০ জনের বেশি লোক আছেন। তাঁদের মধ্যে তিনি নিজেও একজন। তিনি মনে মনে ভাবলেন, এই সামান্য দুধ তাঁর একারই তো হবে না! কিন্তু নবীজি (সা.)-এর আদেশের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলার সাহস তাঁর ছিল না।
তিনি মসজিদের দিকে ছুটলেন। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন আহলে সুফফার লোকেরা নামাজ শেষে বসে আছে। তিনি তাঁদের জানালেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আপনাদের ডেকেছেন।’
আহলে সুফফার লোকেরা নবীজির ঘরে এসে বসলেন। সবার চোখে-মুখে ক্লান্তি আর ক্ষুধা। নবীজি (সা.) আবু হুরায়রাকে বললেন, ‘আবু হুরায়রা, এই দুধের পেয়ালা নিয়ে যাও এবং সবাইকে পান করাও।’
আবু হুরায়রা (রা.) পেয়ালাটি হাতে নিলেন। তিনি জানতেন, এই দুধের পরিমাণ খুবই কম। কিন্তু নবীজির আদেশ মান্য করা ছাড়া তাঁর কোনো উপায় ছিল না। তিনি এক এক করে সবাইকে দুধ পান করালেন। সবাই তৃপ্তি সহকারে পান করে পেয়ালাটি ফেরত দিচ্ছিল। প্রথম জন পান করল, দ্বিতীয় জন পান করল, তৃতীয় জন...এভাবে সবাই পান করল। আবু হুরায়রা অবাক হয়ে দেখলেন, পেয়ালার দুধ ফুরায়নি। সবার শেষে যখন তিনি পেয়ালাটি নিয়ে নবীজির কাছে এলেন, তখনো পেয়ালায় দুধ অবশিষ্ট ছিল।
নবীজি (সা.) আবু হুরায়রাকে বললেন, ‘আবু হুরায়রা, এখন আমি আর তুমি বাকি।’
আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি ঠিকই বলেছেন।’
নবীজি (সা.) তখন বললেন, ‘তুমি বসে পড় এবং পান কর।’
আবু হুরায়রা বসলেন। দুধ পান করা শুরু করলেন। নবীজি (সা.) বারবার বলতে লাগলেন, ‘পান কর, আবু হুরায়রা, পান কর।’
আবু হুরায়রা পান করতে লাগলেন। তিনি তৃপ্তির সঙ্গে পান করতে লাগলেন। একসময় তিনি আর পান করতে পারলেন না। তিনি নবীজিকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আমার পেটে আর কোনো জায়গা নেই।’
নবীজি (সা.) মুচকি হাসলেন। তিনি পেয়ালাটি হাতে নিয়ে বিসমিল্লাহ বলে বাকি দুধ পান করলেন।
তথ্যসূত্র: সহিহ্ বুখারি: ৬৪৫২

অজু মুমিনের আত্মিক পবিত্রতা, শারীরিক পরিচ্ছন্নতা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অজুর মাধ্যমে মুমিনের অন্তর পবিত্রতার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। তাই কোরআন ও হাদিসে অজুর গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৮ ঘণ্টা আগে
মানুষের চারপাশে যেমন ভালো বন্ধু থাকে, তেমনি অবধারিতভাবে কিছু শত্রুও তৈরি হয়। কেউ কেউ বন্ধুর ছদ্মবেশে ক্ষতি করার চক্রান্ত করে, আবার কেউ প্রকাশ্যে শত্রুতা করে। এই চক্রান্ত ও অনিষ্ট থেকে বাঁচতে মানবীয় চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য নেওয়া একান্ত জরুরি।
২ দিন আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২ দিন আগে