Ajker Patrika

বমি করলে কখন রোজা ভাঙে, কখন ভাঙে না?

ইসলাম ডেস্ক 
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭: ৪৬
বমি করলে কখন রোজা ভাঙে, কখন ভাঙে না?
ছবি: সংগৃহীত

রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে অনেকেরই বমি হতে পারে। বমির কারণে রোজা ভাঙবে কি না, তা নির্ভর করে বমি স্বেচ্ছায় করা হয়েছে, নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে তার ওপর। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই মাসআলাটি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোজার বিধান

যদি কোনো রোজাদার অসুস্থতার কারণে বা কোনো অসুবিধার ফলে অনিচ্ছাকৃত বমি করেন, তবে তাঁর রোজা ভাঙবে না। তিনি বাকি সময় রোজা পূর্ণ করবেন এবং এর জন্য কোনো কাজা করতে হবে না। তবে শর্ত হলো, এই বমি যেন ‘মুখভরে’ না হয়।

২. স্বেচ্ছায় বা ইচ্ছাকৃত বমি করলে কী হবে?

যদি কেউ ইচ্ছা করে বমি করেন, তবে তাঁর রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তী সময়ে ওই রোজার কাজা করা ওয়াজিব হবে। স্বেচ্ছায় বমি করার কয়েকটি পদ্ধতি হলো: ক. মুখ বা গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বমি করা। খ. ইচ্ছাকৃত কোনো দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু শোঁকা। গ. বিরক্তিকর কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে বমির উদ্রেক করা।

৩. বমি করার পর কি রোজা ভেঙে ফেলা যাবে?

মুখভরে বমি হলে বা ইচ্ছাকৃত বমি করার পর যদি রোজাদার প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েন, তবে তিনি রোজা ভেঙে ফেলতে পারবেন। ইসলাম মানুষের জীবনের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। হজরত সাওবান (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি মহানবী (সা.)-কে বমি করার পর রোজা ভাঙতে দেখেছি।’ (সুনানে আবু দাউদ)

নবীজি (সা.) নিজেই এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, বমি করার কারণে তিনি রোজা পালনে শারীরিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, তাই তিনি রোজা ভঙ্গ করেছিলেন। (তাহাবি শরিফ)

৪. কাজা নাকি কাফফারা?

বমির কারণে রোজা ভেঙে গেলে কেবল একটি কাজা আদায় করাই যথেষ্ট, এর জন্য কোনো ‘কাফফারা’ (টানা ৬০টি রোজা) আবশ্যক হয় না। পরের রমজান আসার আগেই এ কাজা রোজাটি আদায় করে নেওয়া উত্তম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত