Ajker Patrika

হিদায়াত কী, কখন তা অর্জন হয়?

মাহমুদ হাসান ফাহিম 
হিদায়াত কী, কখন তা অর্জন হয়?
ফাইল ছবি

ইসলামি জীবনদর্শনে ‘হিদায়াত’ শব্দটির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটি মুমিন বান্দা প্রতিদিন নামাজের প্রতি রাকাতে আল্লাহর কাছে ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ বা সরল পথের হিদায়াত প্রার্থনা করেন। হিদায়াত হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক নুর বা আলো, যা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে।

হিদায়াত কী?

‘হিদায়াত’ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো পথপ্রদর্শন করা, সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া বা সরল পথে পরিচালনা করা। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ তাআলার দেওয়া ওই বিশেষ দিকনির্দেশনাকে হিদায়াত বলা হয়, যা মানুষকে সঠিক বিশ্বাস (ইমান) ও নেক আমলের ওপর অবিচল রাখে।

হিদায়াত অর্জনে বান্দার চেষ্টা

হিদায়াত আল্লাহর হাতে হলেও, এটি লাভের জন্য বান্দার পক্ষ থেকে আন্তরিক ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকা জরুরি। যারা সত্যের সন্ধানে ব্যাকুল থাকে, আল্লাহ তাদের পথপ্রদর্শন করেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। যদি সে হেঁটে আমার দিকে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)

হিদায়াত পাওয়ার ৩ আলামত

১. আখিরাতমুখী হওয়া: হিদায়াতপ্রাপ্ত মানুষের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি পরকালের জীবনকে দুনিয়ার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেবেন। তাঁর প্রতিটি কাজের মূল লক্ষ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করা।

২. দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করা: এর অর্থ এই নয় যে সংসার বা সমাজ ত্যাগ করতে হবে। বরং এর অর্থ হলো দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসিতা ও মোহে অন্ধ না হয়ে নিজেকে আল্লাহর হুকুমের ওপর রাখা। হালাল উপায়ে জীবনযাপন করে অন্তরকে পার্থিব আসক্তি থেকে মুক্ত রাখাই হলো প্রকৃত ‘জুহুদ’ বা দুনিয়াবিমুখতা।

৩. মৃত্যুর জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা: মৃত্যুর সময় ও ক্ষণ কারও জানা নেই। তাই বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে মৃত্যু আসার আগেই পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করে রাখে। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের জীবনের হিসাব নেয় এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে।’ (জামে তিরমিজি)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত