
পছন্দের কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার ইচ্ছা থাকা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। অনেক সময় আমরা কাউকে মনে মনে পছন্দ করি, কিন্তু কোনো অবৈধ সম্পর্কে জড়াতে চাই না। এমন পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে।
হ্যাঁ, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, পছন্দের কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা জায়েজ। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো—সংশ্লিষ্ট ছেলে বা মেয়ের সঙ্গে কোনো প্রকার অবৈধ বা ইসলামবিরোধী সম্পর্ক থাকা যাবে না।
যদি বিয়ের উদ্দেশ্যে দোয়া করা হয় এবং এই সম্পর্কে যদি কল্যাণ থাকে, তবে আল্লাহ তা কবুল করতে পারেন।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দার দোয়া ততক্ষণ কবুল করা হয়, যতক্ষণ সে কোনো পাপ কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া না করে এবং দোয়ায় তাড়াহুড়ো না করে।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)
নির্দিষ্ট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য দোয়া করার ক্ষেত্রে আলেমরা একটি বিশেষ ‘শর্ত’ জুড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, আমরা যা পছন্দ করি, তা আমাদের জন্য সব সময় কল্যাণকর না-ও হতে পারে।
‘হে আল্লাহ, যদি অমুক ব্যক্তি আমার দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তাকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে কবুল করুন এবং বিষয়টি আমার জন্য সহজ করে দিন।’
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হয়তো তোমরা কোনো একটি বিষয় অপছন্দ করো, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার হয়তো কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয়, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা বাকারা: ২১৬)
পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত আপনার জন্য সঠিক কি না, তা জানার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো ‘ইস্তিখারা’ করা। রাসুল (সা.) সাহাবিদের সব কাজে ইস্তিখারা করার শিক্ষা দিতেন। দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ইস্তিখারার দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সঠিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত চাওয়া সুন্নত।
নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের জন্য কোরআনের এই দুটি দোয়া নিয়মিত পাঠ করতে পারেন:
১. মুসা (আ.)-এর দোয়া
رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবে, আমি তার মুখাপেক্ষী। (সুরা কাসাস: ২৪)
এই দোয়া পড়ার পর আল্লাহ মুসা (আ.)-এর জন্য থাকা-খাওয়া ও উত্তম জীবনসঙ্গীর ব্যবস্থা করেছিলেন।
২. চোখের শীতলতা লাভের দোয়া
উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনিওঁ ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের আমাদের জন্য চোখের শীতলতাস্বরূপ করে দাও এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানাও। (সুরা ফুরকান: ৭৪)
দোয়া হলো মুমিনের হাতিয়ার। পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে চাইলে আল্লাহর কাছে বিনয়ের সঙ্গে সাহায্য চান, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিন। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা আপনার কল্পনার চেয়েও বেশি কল্যাণকর হতে পারে।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২৬ মিনিট আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে
ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন হলো মহররমের ১০ তারিখ। যাকে ‘আশুরা’ বলা হয়। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস ও ঐতিহ্যে এ দিন বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে এ দিনের বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্যের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তাফসির, ইতিহাস ও ফাজায়েলবিষয়ক গ্রন্থে আশুরার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনাও
১ দিন আগে
মহররম ও আশুরা উপলক্ষে আমাদের সমাজে বেশ কিছু কাজ প্রচলিত আছে। বিভিন্ন আলেমের কাছ থেকে শুনেছি—এসব কাজের মধ্যে অনেকগুলোই ইসলাম সমর্থন করে না। মহররম ও আশুরায় কী কী বিষয় থেকে বিরত থাকা উচিত? বিস্তারিত জানতে চাই।
২ দিন আগে