Ajker Patrika

পারস্য উপসাগরে ছড়িয়ে পড়ছে ইরানের তেল, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পারস্য উপসাগরে ছড়িয়ে পড়ছে ইরানের তেল, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে প্রায় ৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রধান অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খাড়গ দ্বীপের অদূরে পারস্য উপসাগরে একটি বিশাল তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস সেন্টিনেল উপগ্রহের পাঠানো সাম্প্রতিক ছবিতে এই চিত্র ধরা পড়ার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে থাকা ইরানের তেল অবকাঠামোগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৈশ্বিক তেল বিপর্যয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অরবিটাল ইওএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) নাগাদ এই তেলের আস্তরণটি ২০ বর্গমাইলেরও বেশি (প্রায় ৫২ বর্গকিলোমিটার) এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড এআই বলছে, শুক্রবার নাগাদ এটি আরও বিস্তৃত হয়ে ৭১ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, সমুদ্রের পানিতে ইতিমধ্যে ৩ হাজার ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়েছে।

এই তেল ছড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে।

প্রথমত, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রপ্তানি করতে না পারায় তেল মজুত করার জায়গাও ফুরিয়ে আসছে। ফলে অনেক অপরিশোধিত তেল ট্যাংকারে অনিরাপদভাবে জমিয়ে রাখা হচ্ছে, যা থেকে লিক হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, কোনো কোনো মহলে গুঞ্জন রয়েছে, মজুত করার জায়গা না থাকায় ইরান নিজেই হয়তো সাগরে তেল ছেড়ে দিচ্ছে। তবে এর পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ মেলেনি।

জ্বালানি বিশ্লেষক দালগা খাতিনোগ্লু জানান, খাড়গ দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত অন্যতম প্রধান তেলক্ষেত্র ‘আবুজার’-এর সঙ্গে সংযুক্ত সমুদ্রের তলদেশের পুরোনো পাইপলাইনটিতে ফাটল ধরে এই লিক হতে পারে। কয়েক দশক পুরোনো এই পাইপলাইনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যাতে ২০২৪ সালের অক্টোবরেও একবার ফাটল দেখা দিয়েছিল।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বেশ কিছু তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এসব হামলা থেকে লিক হয়েও তেল ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জার্মানির হ্যামবার্গ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক নিমা শুকরি বলেন, ‘নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের সামগ্রিক তেল নিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। তেলকূপগুলো কোনো যন্ত্র নয় যে চাইলেই চট করে বন্ধ ও চালু করা যাবে। জোর করে বন্ধ করতে গেলে পুরো পাইপলাইন বা ভূগর্ভস্থ তেলের রিজার্ভার স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বায়ুর কারণে তেলের এই বিশাল আস্তরণটি ক্রমশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সৌদি আরবের জলসীমার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামুদ্রিক সীমানাতেও প্রবেশ করতে পারে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ কেইভান হোসেইনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরের জলভাগ এমনিতেই অতিরিক্ত তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং দূষণের কারণে সংকটে রয়েছে। এই তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে সমুদ্রের তলদেশের পলল, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন, প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক কচ্ছপ, সামুদ্রিক পাখি এবং মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো মারাত্মকভাবে ধ্বংস হবে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এটি একটি বড় আঞ্চলিক পরিবেশগত সংকটে রূপ নেবে।’

তবে এখন পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই তেলের আস্তরণ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গাজীপুরে ৫ হত্যা: মরদেহগুলোর ওপর ছিল লিখিত অভিযোগ, যা লেখা আছে

গাজীপুরে তিন শিশুসন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে হত্যা: ফোনকলে স্বীকারোক্তি দিয়ে পলাতক অভিযুক্ত

গাজীপুরে গভীর রাতে একই পরিবারের ৫ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে ভারত, বাংলাদেশের আকাশে কি তারই ঝলকানি

পুলিশ সদস্যকে মারধর: ঢাকার উত্তরা থেকে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত