Ajker Patrika

ইন্টারনেট নেই তিন সপ্তাহ, আরও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইন্টারনেট নেই তিন সপ্তাহ, আরও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ইরান
সম্প্রতি বিক্ষোভে ইরানের রাজধানী তেহরানে পুড়িয়ে দেওয়া একটি ভবন। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভয়াবহভাবে মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতিতে নতুন করে আঘাত হেনেছে ইন্টারনেট শাটডাউন। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর দেশটির কিছু ব্যবহারকারী সাময়িকভাবে সংযোগ ফিরে পেলেও তা আবার দ্রুত ব্যাহত হয়। ইন্টারনেট সংযোগের এমন অনিশ্চয়তা দেশটির অনলাইন ব্যবসাকে চরম সংকটে ফেলেছে। বহু ইরানি পরিবারের কাছে এই অনলাইন ব্যবসাই ছিল শেষ অবলম্বন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আমিরাত-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ইরানের ক্ষুদ্র অনলাইন উদ্যোক্তারা। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পর্দা বিক্রি করা এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিনি একটি অর্ডারও পাননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো দোকান নেই। ঘর থেকেই অনলাইনে ব্যবসা চালাই। ইন্টারনেটই আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল।’ তাঁর এই অভিজ্ঞতা ইরানের হাজারো অনলাইন বিক্রেতার বর্তমান বাস্তবতা।

ইরানে ডিজিটাল অর্থনীতির একটি বড় অংশ ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামনির্ভর। ফারসি গণমাধ্যমের হিসাবে, দেশটিতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটিরও বেশি। প্ল্যাটফর্মটি ইরানে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হলেও ভিপিএনের মাধ্যমে এটি দেশটির অনলাইন বাজারের মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী এক নারী ঘরে বসে কুকিজ ও পেস্ট্রি বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতেন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বেতন দিয়ে সংসার চলে না বলেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন সেই সামান্য আশাটুকুও নেই।’

ভোক্তারাও বিপাকে পড়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধের আগে অনলাইন দোকানগুলোতে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া যেত, যা ৪২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা দেশটির জনগণের কাছে ছিল একটি স্বস্তির জায়গা। এক তেহরানি ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি ভালো করার আশায় প্রতিবাদে নেমেছিলাম। এখন আমাদের সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাঁচার শেষ আশাটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসের তথ্যমতে—এই ইন্টারনেট শাটডাউনে ইরানের প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি। তবে ইরান সরকারের হিসাবে এই ক্ষতি দৈনিক ৪৩ লাখ ডলারের বেশি নয়। দেশটির উপ-তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এহসান চিতসাজ জানিয়েছেন, ইন্টারনেট শাটডাউনে তাদের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ও অনলাইন পর্যটন খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে কেউ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বা বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী হচ্ছে না বলেও তিনি স্বীকার করেন।

ইরানের জাতীয় তথ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কিছু দেশীয় অ্যাপ ও সেবা চালু থাকলেও সেগুলোও বড় ধাক্কা খেয়েছে। দেশটিতে জনপ্রিয় রাইড সেবা অ্যাপ ‘স্ন্যাপ’ জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর চাহিদা ৮০ শতাংশ কমে গেছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ডলার রাজস্ব হারাচ্ছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রযুক্তি খাত সংকুচিত হবে এবং মেধাবীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে।

এদিকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের জায়গা নিতে রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ দেশীয় অ্যাপগুলো জোর প্রচার চালালেও এগুলোর ওপর ইরানের সাধারণ মানুষের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে অনেকেই এসব প্ল্যাটফর্ম এড়িয়ে চলছেন।

ইরানে এর আগে ২০১৯ ও ২০২২ সালেও ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, দেশটিতে সম্প্রতি সংঘটিত সর্বশেষ বিক্ষোভে ৫ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সরকার বলছে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০।

ইন্টারনেট শাটডাউনে অর্থনৈতিক ক্ষতি স্পষ্ট হলেও ইরানের সরকার নিরাপত্তার যুক্তিতে এটিকে বৈধতা দিচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, এই অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে ভয়াবহ। একসময় তারা নিজেদের দুর্ভাগ্যের জন্য পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করলেও এখন নিজ দেশের সিদ্ধান্তেই তাদের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ৫০ হাজার টাকা বেতনে সিটি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করতে যাচ্ছে পাকিস্তান

শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও ভাইরাল: নিন্দার মুখে ডাকসু থেকে সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ

নির্বাচন উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত